কয়রায় জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালামের বক্তব্য

কয়রায় জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন

কয়রা উপজেলার মহারাজপুর এলাকায় জমি দখল, মাছের ঘের দখল এবং মাছ লুটের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম। এ অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে কয়রা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আবুল কালাম বলেন, গত ৬ জুন মহারাজপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

আবুল কালামের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বৈধভাবে কবলা দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ওই জমির ওপর নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন, যার ফলে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ আনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বাস্তবতাবিবর্জিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এসব বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ বিষয়টি আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এ সময় তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। তার দাবি, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে অভিযোগের অসারতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মী বক্তব্য শোনেন। তবে অভিযোগকারী পক্ষের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য স্পষ্ট হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

জনপ্রিয় টার্গেট

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়রায় জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালামের বক্তব্য

কয়রায় জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ০৮:০১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

কয়রা উপজেলার মহারাজপুর এলাকায় জমি দখল, মাছের ঘের দখল এবং মাছ লুটের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম। এ অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে কয়রা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আবুল কালাম বলেন, গত ৬ জুন মহারাজপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

আবুল কালামের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বৈধভাবে কবলা দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ওই জমির ওপর নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন, যার ফলে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ আনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বাস্তবতাবিবর্জিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এসব বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ বিষয়টি আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এ সময় তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। তার দাবি, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে অভিযোগের অসারতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মী বক্তব্য শোনেন। তবে অভিযোগকারী পক্ষের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য স্পষ্ট হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।