রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় কনভেনশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার ইস্যুগুলো উপেক্ষা করে সংসদ পরিচালিত হওয়ায় এই অধিবেশন কার্যত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
রোববার (৩ মে) কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত “জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট” শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে সভাপতির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গণতান্ত্রিক কাঠামো সুসংহত করারসংগ্রাম চললেও তা এখনো পূর্ণতা পায়নি। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যায় না। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো হয়নি। বরং সরকার একতরফাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে তার অভিযোগ।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ক্ষমতারভারসাম্য রক্ষায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ কাঠামো কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি, যাতে জনগণের সরাসরি মতামত প্রতিফলিত হয়।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একক কর্তৃত্বের পরিবর্তে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা জরুরি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম মনে করেন, কেবল আংশিক সংশোধন দিয়ে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো নিয়ে যে কোনো পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার মতো হতে হবে। অন্যথায় তা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি সংসদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ভিন্নমতের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও তা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে ঐকমত্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গণভোটের ধারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর নির্ভরশীলতাকমিয়ে সরাসরি জনগণের মতামত নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে, কনভেনশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নেন। আলোচনায় তারা রাষ্ট্রীয় সংস্কার, অর্থনীতি, জ্বালানি খাত এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে, কনভেনশন থেকে উঠে আসা বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতারপাশাপাশি ভবিষ্যৎ সংস্কারের একটি রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

দৈনিক টার্গেট 
























