অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত নেতা এ কে ফজলুল হক-এর ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২৭ এপ্রিল)। দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্মরণসভা, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।
এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের বক্তব্যে শেরেবাংলার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, কৃষকপ্রেম এবং গণমানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা বিশেষভাবে উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি খুব দ্রুত উপলব্ধি করেছিলেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি মূলত কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি কৃষকের স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রশাসনকে জনগণের কাছে সহজলভ্য করা এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়রসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তাঁর অবদান ছিল স্মরণীয়। বিশেষ করে ১৯৪০ সালে তাঁর উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাব উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৬২ সালের এই দিনে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শেরেবাংলা। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও বাঙালির রাজনৈতিক চেতনায় প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শিক্ষার প্রসার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দৈনিক টার্গেট 






















