কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম ও সঠিক পদ্ধতি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:১৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

অনেকেই না জেনে উমরি কাজার পরিবর্তে নফল নামাজ পড়ার পরামর্শ দেন, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কোরআন, হাদিস, সাহাবিদের আমল এবং চার মাজহাবের আলেমদের সর্বসম্মত ঐকমত্য (ইজমা) অনুযায়ী জিম্মায় থাকা কাজা নামাজ আদায় করা ফরজ।

ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে আদায় করা না গেলে তা চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায় না; বরং স্মরণ হওয়া মাত্রই তা পূর্ণ করা আবশ্যক।

কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নামাজ কায়েম করো আমার স্মরণের জন্য।’ (সুরা ত্ব-হা, আয়াত: ১৪)। মুফাসসিরগণের মতে, এ আয়াতের অর্থ হলো—নামাজ ছুটে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে নিতে হবে।

হাদিসের নির্দেশ: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের কথা ভুলে যায় কিংবা নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফফারা হলো—যখন নামাজের কথা স্মরণ হবে, তখনই তা আদায় করা।’ (সহিহ বুখারি: ৫৯৭৬, সহিহ মুসলিম: ৬৮৪)।

শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী সব ধরনের নামাজ কাজা করতে হয় না। নিচে ছকের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হলো:

মনে রাখার বিষয় হলো, কোনো ব্যক্তি যদি কাজা নামাজ না পড়ে ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং মৃত্যুর পূর্বে ওয়ারিশদের ফিদইয়া দেওয়ার অসিয়ত করে যায়, তবে তার ওয়ারিশদের ওপর ওই কাজা নামাজের ফিদইয়া (বিনিময় মূল্য) দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।

যাদের জিম্মায় অনেক দিনের (বা কয়েক বছরের) কাজা নামাজ জমে আছে, তাদের দ্রুত তা আদায় শুরু করা উচিত। কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম হলো:

কাজা নামাজ আদায়ের সময় সুনির্দিষ্ট ওয়াক্ত ও দিনের নিয়ত করতে হয়।

নির্দিষ্ট দিন মনে থাকলে: ‘আমি অমুক দিনের জোহরের ফরজ নামাজ কাজা আদায়ের নিয়ত করছি।’

দিন-তারিখ মনে না থাকলে: ‘আমি আমার জিম্মায় থাকা জীবনের সর্বপ্রথম জোহর নামাজের কাজা আদায় করছি।’ এভাবে ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে থাকবে, যতক্ষণ না মন সাক্ষ্য দেয় যে আর কোনো নামাজ কাজা নেই।

কাজা আদায়ের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো প্রতিদিনের নির্ধারিত ফরজ নামাজের আগে বা পরে একটি বা একাধিক ওয়াক্তের কাজা আদায় করে নেওয়া। উদাহরণস্বরূপ: আজকের আসরের ফরজ পড়ার আগে অতীতে ছুটে যাওয়া একটি আসরের কাজা পড়া।

কাজা নামাজ দিন বা রাতের যেকোনো সময় পড়া যায়। তবে শরিয়তে নিষিদ্ধ তিনটি সময়ে সব ধরনের নামাজ পড়া হারাম:

২. ঠিক দুপুরে সূর্য মাথার ওপর থাকা অবস্থায়।

যাদের জিম্মায় অতীতে বাতিল হওয়া ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ রয়েছে, তাদের জন্য নফল নামাজের চেয়ে কাজা নামাজ আদায় করা অধিক উত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে ফরজ নামাজের, নফল নামাজের নয়। কাজা আদায় শেষ হলে তখন পূর্ণ মনোযোগ নফল নামাজে দেওয়া যাবে।

ইসলামের চার প্রখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদগণ একমত যে—ফরজ নামাজ সময়মতো পড়া না হলে তা পরে হলেও আদায় করতেই হবে।

কাজা নামাজ আদায়ের বিধান হলো বান্দার প্রতি আল্লাহর অসীম রহমত ও ক্ষমার সুযোগ। অতীতে অবহেলা বা অজ্ঞতাবশত যত নামাজই ছুটে যাক না কেন, আজই তা আদায়ের দৃঢ় সংকল্প করা উচিত। প্রতিদিনের সাধারণ নামাজের সঙ্গে নিয়ম করে অতীতের কাজাগুলো আদায় করলে একসময় জিম্মা মুক্ত হওয়া সম্ভব। তাই হেলাফেলা না করে তওবার মাধ্যমে নিয়মিত উমরি কাজা শুরু করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বংশীয় পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোরআন-হাদিসে স্থায়ী ও সাময়িক নিষিদ্ধ নারীদের (মাহরাম) যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে ফিকহের ইমামগণ প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়ের সমাধান প্রদান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার একক মালিক। মানুষের জীবনের আলো-ছায়া, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ—সবই তাঁর সৃষ্টি ও হুকুমের অধীন। অরণ্যের একটি বৃক্ষপত্রও তাঁর অগোচরে এবং হুকুম ছাড়া ঝরে পড়ে না—এ সত্য প্রতিটি মুমিনের সুদৃঢ় বিশ্বাস। তবু প্রাত্যহিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে দেখা যায়, মানুষ অজান্তেই ইমানের সরল-সোজা পথ

জনপ্রিয় টার্গেট

বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় ব্রাজিলের ফুটবলারকে

কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম ও সঠিক পদ্ধতি

প্রকাশ: ০৩:১৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনেকেই না জেনে উমরি কাজার পরিবর্তে নফল নামাজ পড়ার পরামর্শ দেন, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কোরআন, হাদিস, সাহাবিদের আমল এবং চার মাজহাবের আলেমদের সর্বসম্মত ঐকমত্য (ইজমা) অনুযায়ী জিম্মায় থাকা কাজা নামাজ আদায় করা ফরজ।

ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে আদায় করা না গেলে তা চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায় না; বরং স্মরণ হওয়া মাত্রই তা পূর্ণ করা আবশ্যক।

কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নামাজ কায়েম করো আমার স্মরণের জন্য।’ (সুরা ত্ব-হা, আয়াত: ১৪)। মুফাসসিরগণের মতে, এ আয়াতের অর্থ হলো—নামাজ ছুটে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে নিতে হবে।

হাদিসের নির্দেশ: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের কথা ভুলে যায় কিংবা নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফফারা হলো—যখন নামাজের কথা স্মরণ হবে, তখনই তা আদায় করা।’ (সহিহ বুখারি: ৫৯৭৬, সহিহ মুসলিম: ৬৮৪)।

শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী সব ধরনের নামাজ কাজা করতে হয় না। নিচে ছকের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হলো:

মনে রাখার বিষয় হলো, কোনো ব্যক্তি যদি কাজা নামাজ না পড়ে ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং মৃত্যুর পূর্বে ওয়ারিশদের ফিদইয়া দেওয়ার অসিয়ত করে যায়, তবে তার ওয়ারিশদের ওপর ওই কাজা নামাজের ফিদইয়া (বিনিময় মূল্য) দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।

যাদের জিম্মায় অনেক দিনের (বা কয়েক বছরের) কাজা নামাজ জমে আছে, তাদের দ্রুত তা আদায় শুরু করা উচিত। কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম হলো:

কাজা নামাজ আদায়ের সময় সুনির্দিষ্ট ওয়াক্ত ও দিনের নিয়ত করতে হয়।

নির্দিষ্ট দিন মনে থাকলে: ‘আমি অমুক দিনের জোহরের ফরজ নামাজ কাজা আদায়ের নিয়ত করছি।’

দিন-তারিখ মনে না থাকলে: ‘আমি আমার জিম্মায় থাকা জীবনের সর্বপ্রথম জোহর নামাজের কাজা আদায় করছি।’ এভাবে ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে থাকবে, যতক্ষণ না মন সাক্ষ্য দেয় যে আর কোনো নামাজ কাজা নেই।

কাজা আদায়ের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো প্রতিদিনের নির্ধারিত ফরজ নামাজের আগে বা পরে একটি বা একাধিক ওয়াক্তের কাজা আদায় করে নেওয়া। উদাহরণস্বরূপ: আজকের আসরের ফরজ পড়ার আগে অতীতে ছুটে যাওয়া একটি আসরের কাজা পড়া।

কাজা নামাজ দিন বা রাতের যেকোনো সময় পড়া যায়। তবে শরিয়তে নিষিদ্ধ তিনটি সময়ে সব ধরনের নামাজ পড়া হারাম:

২. ঠিক দুপুরে সূর্য মাথার ওপর থাকা অবস্থায়।

যাদের জিম্মায় অতীতে বাতিল হওয়া ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ রয়েছে, তাদের জন্য নফল নামাজের চেয়ে কাজা নামাজ আদায় করা অধিক উত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে ফরজ নামাজের, নফল নামাজের নয়। কাজা আদায় শেষ হলে তখন পূর্ণ মনোযোগ নফল নামাজে দেওয়া যাবে।

ইসলামের চার প্রখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদগণ একমত যে—ফরজ নামাজ সময়মতো পড়া না হলে তা পরে হলেও আদায় করতেই হবে।

কাজা নামাজ আদায়ের বিধান হলো বান্দার প্রতি আল্লাহর অসীম রহমত ও ক্ষমার সুযোগ। অতীতে অবহেলা বা অজ্ঞতাবশত যত নামাজই ছুটে যাক না কেন, আজই তা আদায়ের দৃঢ় সংকল্প করা উচিত। প্রতিদিনের সাধারণ নামাজের সঙ্গে নিয়ম করে অতীতের কাজাগুলো আদায় করলে একসময় জিম্মা মুক্ত হওয়া সম্ভব। তাই হেলাফেলা না করে তওবার মাধ্যমে নিয়মিত উমরি কাজা শুরু করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বংশীয় পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোরআন-হাদিসে স্থায়ী ও সাময়িক নিষিদ্ধ নারীদের (মাহরাম) যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে ফিকহের ইমামগণ প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়ের সমাধান প্রদান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার একক মালিক। মানুষের জীবনের আলো-ছায়া, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ—সবই তাঁর সৃষ্টি ও হুকুমের অধীন। অরণ্যের একটি বৃক্ষপত্রও তাঁর অগোচরে এবং হুকুম ছাড়া ঝরে পড়ে না—এ সত্য প্রতিটি মুমিনের সুদৃঢ় বিশ্বাস। তবু প্রাত্যহিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে দেখা যায়, মানুষ অজান্তেই ইমানের সরল-সোজা পথ