প্রেমিক মাহীর ও ছাত্রী বর্ষার পরিকল্পনাতেই খুন হন জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ

জোবায়েদ হত্যায় পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১৭ বার পঠিত হয়েছে

জোবায়েদ হোসাইন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বংশাল থানা সূত্র জানায়, এ হত্যাকাণ্ড আকস্মিক নয়-বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি ঘটনা, যার কেন্দ্রে ছিলেন নিহতের ছাত্রী বর্ষা ও তার প্রেমিক মাহীর রহমান।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় এক মাস আগে থেকেই হত্যার নীলনকশা তৈরি হয়। তদন্তে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বরের দিকে বর্ষা ও মাহীর একত্রে বসে পরিকল্পনা করে কিভাবে জোবায়েদকে ‘শাস্তি’ দেওয়া যায়। পরবর্তীতে মাহীর তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে নেয় এবং হত্যার জন্য নতুন দুটি সুইচ গিয়ার ছুরি কেনে।

ওসি রফিকুল বলেন, “বর্ষা ও মাহীরের মধ্যে দীর্ঘ নয় বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্পর্কের মাঝপথে বর্ষা জোবায়েদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর মাহীর গভীর ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে বর্ষা আবার জানায়, সে জোবায়েদের প্রতি আর আগ্রহী নয়। এই জটিল সম্পর্কই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষা অপরাধ অস্বীকার করলেও, মাহীরের সঙ্গে মুখোমুখি বসালে দুজনেই পরিকল্পনার সত্যতা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জোবায়েদ হোসাইন ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূরবক্স লেনের রওশান ভিলা নামের একটি বাড়িতে বর্ষাকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। বর্ষার বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন।

পুলিশ জানায়, গত রবিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বর্ষার বাসার তিনতলায় ওঠার সময় সিঁড়িতেই ধারালো ছুরির আঘাতে নিহত হন জোবায়েদ। রক্তে ভেসে যায় সিঁড়ির নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত অংশ। পরে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তার নিথর দেহ।

রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বর্ষা ও মাহীরসহ চারজনকে আটক করে। বর্ষাকে হেফাজতে নেওয়া হয় রাত ১১টার দিকে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তাল হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে বিক্ষোভ ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং হত্যার পেছনের সম্পর্ক ও পরিকল্পনার বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

প্রেমিক মাহীর ও ছাত্রী বর্ষার পরিকল্পনাতেই খুন হন জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ

জোবায়েদ হত্যায় পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশ: ১২:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বংশাল থানা সূত্র জানায়, এ হত্যাকাণ্ড আকস্মিক নয়-বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি ঘটনা, যার কেন্দ্রে ছিলেন নিহতের ছাত্রী বর্ষা ও তার প্রেমিক মাহীর রহমান।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় এক মাস আগে থেকেই হত্যার নীলনকশা তৈরি হয়। তদন্তে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বরের দিকে বর্ষা ও মাহীর একত্রে বসে পরিকল্পনা করে কিভাবে জোবায়েদকে ‘শাস্তি’ দেওয়া যায়। পরবর্তীতে মাহীর তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে নেয় এবং হত্যার জন্য নতুন দুটি সুইচ গিয়ার ছুরি কেনে।

ওসি রফিকুল বলেন, “বর্ষা ও মাহীরের মধ্যে দীর্ঘ নয় বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্পর্কের মাঝপথে বর্ষা জোবায়েদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর মাহীর গভীর ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে বর্ষা আবার জানায়, সে জোবায়েদের প্রতি আর আগ্রহী নয়। এই জটিল সম্পর্কই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষা অপরাধ অস্বীকার করলেও, মাহীরের সঙ্গে মুখোমুখি বসালে দুজনেই পরিকল্পনার সত্যতা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জোবায়েদ হোসাইন ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূরবক্স লেনের রওশান ভিলা নামের একটি বাড়িতে বর্ষাকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। বর্ষার বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন।

পুলিশ জানায়, গত রবিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বর্ষার বাসার তিনতলায় ওঠার সময় সিঁড়িতেই ধারালো ছুরির আঘাতে নিহত হন জোবায়েদ। রক্তে ভেসে যায় সিঁড়ির নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত অংশ। পরে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তার নিথর দেহ।

রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বর্ষা ও মাহীরসহ চারজনকে আটক করে। বর্ষাকে হেফাজতে নেওয়া হয় রাত ১১টার দিকে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তাল হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে বিক্ষোভ ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং হত্যার পেছনের সম্পর্ক ও পরিকল্পনার বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”