মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন উন্নত ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ধরা পড়েন, আর বাকি ১৩ জন প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক হন।
শনিবার অনুষ্ঠিত হয় সংস্থাটির সিপাহী (১৭তম গ্রেড) ও ওয়্যারলেস অপারেটর (১৮তম গ্রেড) পদের লিখিত পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় অনিয়মের প্রমাণ মেলে, এবং তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
ডিএনসির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতেই প্রতিষ্ঠানটি কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা নেয়। গত ৬ আগস্ট প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সিপাহী পদের জন্য প্রায় ২৬ হাজার এবং ওয়্যারলেস অপারেটর পদের জন্য ১১ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।
প্রাথমিক যাচাই ও ফিটনেস পরীক্ষার পর ১,১৫৪ জন সিপাহী ও ১২৬ জন ওয়্যারলেস অপারেটর প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। শনিবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে ১,০৮২ ও ১২৪ জন প্রার্থী।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রতারণা চক্রকে চিহ্নিত করেছিল। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় থেকেই নজরদারি জোরদার করা হয়। তবুও কিছু প্রার্থী প্রযুক্তিনির্ভর উপায়ে প্রতারণার চেষ্টা চালায়।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ হওয়া ডিভাইসগুলোর মধ্যে ছিল অত্যাধুনিক স্পাই কমিউনিকেশন গ্যাজেট, যা দুটি অংশে বিভক্ত ক্ষুদ্র ইয়ারপিস মাইক্রোফোন ও জিএসএম কার্ডযুক্ত ক্রেডিট কার্ড আকৃতির একটি ডিভাইস।
ডিএনসির তদন্তে জানা গেছে, এই প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতারণা চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় সক্রিয় ছিল। তবে এবার আগাম প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং সিস্টেম ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
দৈনিক টার্গেট 
























