দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

বিজয়নগরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছতরপুর পূর্বপাড়া গ্রামের প্রবাসী পরিবারের বসতবাড়িতে এ ডাকাতি সংঘটিত  হয়। এসময় নগদ ৬ লাখ টাকা, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রবাসী দুই ছেলের উপার্জিত অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার রাতে বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ মানিক মিয়া অসুস্থ অবস্থায় নিজের ঘরে ছিলেন। তার পুত্রবধূও  একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মুখোশধারী প্রায় ছয়জন ডাকাত ঘরের জানালার নিচ থেকে মাটি খুঁড়ে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রথমেই মানিক  মিয়াকে বেঁধে ফেলে এবং তার পুত্রবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।

এরপর ঘরের স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় তারা। শুধু তাই নয়, প্রবাসী ছেলেদের পাঠানো টাকা, আসবাবপত্রের মধ্যে  দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, কয়েকটি কম্বল ও একটি ব্লেন্ডার মেশিনও লুট হয়। অসুস্থ মানিক মিয়া ও তার স্ত্রী জানান, ঘরের ছাদ ঢালাইয়ের জন্য জমিয়ে রাখা টাকা এবং পরিবারের  ব্যবহৃত স্বর্ণালঙ্কার একসাথে ঘরে রাখা ছিল। সবকিছু ডাকাতরা লুট করে নিয়ে গেছে।

মানিক মিয়া আরও জানান, ডাকাতরা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল। তারা পুরো সময় মুখোশ পরে ছিল, যাতে কাউকে শনাক্ত করা না যায়। পরিবারের সদস্যরা ভয়ে  কোনো ধরনের প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান,  ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দ্রুতই ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের দুর্ধর্ষ ডাকাতি দীর্ঘদিন পর এলাকায় ঘটলো। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবারই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে  দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা বলেন, রাতের আঁধারে মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল প্রবেশ করে পুরো পরিবারের সঞ্চিত অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে  যাওয়ার ঘটনা শুধু ভয়ঙ্করই নয়, বরং গ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও স্পষ্ট করেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অসহায় অবস্থায় রয়েছে এবং তারা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুটকৃত সম্পদ উদ্ধারের  দাবি জানিয়েছেন।