নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক, সোনারগাঁওয়ে উদ্ধার ৫১ বোতল ফেনসিডিল।

ফতুল্লায় গাঁজাসহ আটক ১

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। একই সময়ে জেলার সোনারগাঁও এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১২ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন পাগলা বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮)। তিনি ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী পরিবহন, পণ্যবাহী যানবাহন এবং সাধারণ ব্যাগ বা মালামালের আড়ালে মাদক পরিবহনের প্রবণতা বেড়েছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই এসব চালান আটক করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আটক আমিনুল ইসলাম সীমান্তবর্তী কুমিল্লা অঞ্চল থেকে বড় আকারের মাদকের চালান সংগ্রহ করতেন। পরে তা বিভিন্ন মাধ্যমে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এদিকে পৃথক আরেকটি অভিযানে ১৩ মে দিবাগত রাত ১টার দিকে সোনারগাঁও থানাধীন চেংগাইন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা এলাকায় তল্লাশি শুরু করলে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

র‌্যাবের দাবি, সোনারগাঁও এলাকা দিয়ে বিভিন্ন সময় মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় এই রুটটি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। ফলে ওই এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম বড় কারণ। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদকের কারণে বিপথগামী হয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তি থেকে চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও পারিবারিক সহিংসতার মতো নানা অপরাধের জন্ম হচ্ছে। তাই মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে না। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও মহাসড়কগুলোতে নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

র‌্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় র‌্যাব সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আটক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া ৫১ বোতল ফেনসিডিল সোনারগাঁও থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নির্মূল করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকাসক্তির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক, সোনারগাঁওয়ে উদ্ধার ৫১ বোতল ফেনসিডিল।

ফতুল্লায় গাঁজাসহ আটক ১

প্রকাশ: ১১:৪১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। একই সময়ে জেলার সোনারগাঁও এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১২ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন পাগলা বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮)। তিনি ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী পরিবহন, পণ্যবাহী যানবাহন এবং সাধারণ ব্যাগ বা মালামালের আড়ালে মাদক পরিবহনের প্রবণতা বেড়েছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই এসব চালান আটক করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আটক আমিনুল ইসলাম সীমান্তবর্তী কুমিল্লা অঞ্চল থেকে বড় আকারের মাদকের চালান সংগ্রহ করতেন। পরে তা বিভিন্ন মাধ্যমে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এদিকে পৃথক আরেকটি অভিযানে ১৩ মে দিবাগত রাত ১টার দিকে সোনারগাঁও থানাধীন চেংগাইন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা এলাকায় তল্লাশি শুরু করলে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

র‌্যাবের দাবি, সোনারগাঁও এলাকা দিয়ে বিভিন্ন সময় মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় এই রুটটি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। ফলে ওই এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম বড় কারণ। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদকের কারণে বিপথগামী হয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তি থেকে চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও পারিবারিক সহিংসতার মতো নানা অপরাধের জন্ম হচ্ছে। তাই মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে না। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও মহাসড়কগুলোতে নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

র‌্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় র‌্যাব সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আটক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া ৫১ বোতল ফেনসিডিল সোনারগাঁও থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নির্মূল করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকাসক্তির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন।