রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গুলিতে এক যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামিকে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। একই সঙ্গে রাজধানীর খিলগাঁও ও মাদারটেক এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ এবং এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার র্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামি গ্রেপ্তারে র্যাব-১০ ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে তেজগাঁও এলাকায় সংঘটিত একটি আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রধান আসামি পলাতক হয়ে যায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি রাজন দেওয়ান ওরফে সুমন দেওয়ান বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের দাবি, ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে রাজধানীর খিলগাঁও ও মাদারটেক এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১০। অভিযানে ৪১১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে বাহিনী। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি মদ সংগ্রহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
র্যাব-১০ এর কর্মকর্তারা বলেন, হত্যা, মাদক, সন্ত্রাস, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকেও অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের মতে, জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ এবং সময়োপযোগী তথ্য অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধী গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জেসমিন আক্তার রোদেলা 





















