শিশুদের তুচ্ছ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত অন্তত ১৫; এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।

বিজয়নগরে সংঘর্ষে নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে শিশুদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হামদু মিয়া (৫৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় এক শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে হামদু মিয়ার ছেলে নিরব (১১) এবং একই গ্রামের আবুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন (১২)-এর মধ্যে গরু নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ইয়াসিনের মাথায় লাঠির আঘাত লাগে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, আবুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামদু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে হামদু মিয়া গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বল্লমের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। হামলার সময় তার আট বছর বয়সী ছেলে হাসানও গুরুতর আহত হয়।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে লিটন মিয়া (৩৫), এরশাদ (৪০), রেজু বেগম, ফারুক মিয়া ও ইসলাম মিয়ার নাম জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কয়েকজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংঘর্ষ বন্ধ করে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। বর্তমানে গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ নিহত হামদু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। প্রশাসনও সকল পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

শিশুদের তুচ্ছ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত অন্তত ১৫; এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।

বিজয়নগরে সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশ: ০২:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে শিশুদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হামদু মিয়া (৫৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় এক শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে হামদু মিয়ার ছেলে নিরব (১১) এবং একই গ্রামের আবুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন (১২)-এর মধ্যে গরু নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ইয়াসিনের মাথায় লাঠির আঘাত লাগে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, আবুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামদু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে হামদু মিয়া গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বল্লমের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। হামলার সময় তার আট বছর বয়সী ছেলে হাসানও গুরুতর আহত হয়।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে লিটন মিয়া (৩৫), এরশাদ (৪০), রেজু বেগম, ফারুক মিয়া ও ইসলাম মিয়ার নাম জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কয়েকজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংঘর্ষ বন্ধ করে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। বর্তমানে গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ নিহত হামদু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। প্রশাসনও সকল পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।