০৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউটিউবার, আর্য সমাজ আর খাপ পঞ্চায়েতের চাপে হরিয়ানার ভণ্ড ধর্মগুরুরা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

সম্প্রতি হরিয়ানার জিন্দ জেলার পান্ডু পিন্দারা গ্রামের ২৭ বছর বয়সী স্বঘোষিত সাধ্বী কমলদীপকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, মানুষের শরীরের ওপর ঝাড়ু ঘোরালেই বাত, এমনকি ক্যানসারের মতো রোগও ভালো হয়ে যায়। সপ্তাহে দুদিন হাজার হাজার অসুস্থ ও ব্যথায় কাতর মানুষ তাঁর ডেরায় যান। অলৌকিকভাবে সুস্থ হওয়ার আশায় প্রত্যেকে ৫১ রুপি করে দেন।

ডেরার বাইরে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ তাদের কতটা বিশ্বাস করে। তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের আড়ালে এমন চিকিৎসা এবং অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন সংগঠন ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হরিয়ানায় এই প্রচারণাকে বলা হচ্ছে ‘পাখণ্ডবাদ’ বা ধর্মের নামে ভণ্ডামি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে লড়াই। তবে মহারাষ্ট্রের যুক্তিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। হরিয়ানার আন্দোলনকারীরা কুসংস্কার ও স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেও তাঁরা নিজেরা ধর্মীয় বিশ্বাসের বাইরে নন।

তাঁদের মতে, ধর্মের নামে প্রতারণা বা মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেওয়াই পাখণ্ডবাদ। অন্যদিকে অভিযুক্ত ধর্মগুরুরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে সেবা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার অংশ বলে দাবি করছেন।

ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে এই প্রচারণায় খাপ পঞ্চায়েতের অংশগ্রহণকে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণশীল অবস্থান ও কট্টোর সামাজিক প্রথার কারণে সমালোচিত এসব সংগঠন এখন ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে বেশ সরব। বিশেষ করে সন্ত রামপালের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, এক বা একাধিক গ্রামের মুরুব্বি বা মোড়লদের নিয়ে গঠিত হয় খাপ পঞ্চায়েত।

হরিয়ানার চৌরাশি (৮৪ গ্রামের সমষ্টি) খাপের সভাপতি হরদীপ সিং আহলাওয়াত বলেন, তাঁরা এক সময় মনে করেছিলেন রামপাল নিজের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করতে পারেন। কিন্তু তিনি ইদানীং হিন্দু দেবতা রাম, কৃষ্ণ, সমাজের প্রবীণ ব্যক্তি এবং নারীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। নিজেকে ঈশ্বর দাবি করছেন।

এই আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ আর্য সমাজ। হিন্দু ধর্মীয় পুনর্জাগরণবাদী এই সংগঠনের সঙ্গে রামপালের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

২০০৬ সালে হরিয়ানার রোহতক জেলার কারোন্থায় রামপালের অনুসারীদের সঙ্গে আর্য সমাজের সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং ৫৯ জন আহত হন। সাত বছর পর একই ধরনের সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্যসহ তিনজন নিহত হন এবং আহত হন প্রায় ১০০ জন।

২০১৪ সালে হিসারের বারওয়ালা এলাকায় রামপালের সতলোক আশ্রমে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালালে পরিস্থিতি কয়েক দিনের অচলাবস্থায় রূপ নেয়। ওই ঘটনায় পাঁচ নারী ও এক শিশু নিহত হন। আহত হন প্রায় ২০০ জন। এসব ঘটনায় রামপাল ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়।

হরিয়ানার আর্য সমাজের সদস্য কৃষ্ণদেবার্য শাস্ত্রীর মতে, হিন্দু ধর্মগ্রন্থ, ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও বিশ্বাস নিয়ে দুই পক্ষের প্রায় দুই দশকের বিরোধেরই ধারাবাহিকতা বর্তমান প্রচারণা।

রামপালের শিক্ষা ও বক্তব্যে কবিরকে ঈশ্বর ও সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়। তাঁর অনুসারীদের প্রকাশিত বইপত্রে রাম ও কৃষ্ণকে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে স্বীকার করা হলেও তাঁদের কবিরের নিচে স্থান দেওয়া হয়েছে। অযোধ্যার রামমূর্তি নিয়েও রামপাল বলেছেন, সেটি কেবল একটি মূর্তি, ঈশ্বর বা অমর সত্তা নয়।

আর্য সমাজের যুব শাখার জাতীয় সাধারণ সম্পাদক আদিত্য বৈশ বলেন, রামপালের জামিনে মুক্তি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে মন্তব্য করতে বা ঘৃণা ছড়াতে পারবেন। তাঁদের বিরোধ ব্যক্তিগত নয়, আদর্শগত।

রামপালের বই পড়া বা তাঁর নাম জপ করলে রোগ ভালো হয়—এমন দাবিরও সমালোচনা করেন বৈশ। তিনি বলেন, রামপালের বইয়ে এমন কিছু অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছে, ১১ হাজার ভোল্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক শিশুকে রামপাল উড়ে এসে হাত ধরে বাঁচিয়েছিলেন। এ দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য রামপালকে ২২০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইন তিন মিনিট ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ দেন তিনি। সফল হলে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন বৈশ।

চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিক থেকে হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় আর্য সমাজের সংগঠনগুলো ভণ্ড ধর্মগুরু ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশ করছে।

গুড়গাঁওয়ের কনটেন্ট নির্মাতা সুমিত বাজওয়া তাঁর ‘ক্যানসার ফ্রি ইন্ডিয়া’ প্রচারণার পাশাপাশি রামপাল ও তাঁর অনুসারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। একটি ভিডিওতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ সত্যিই ঈশ্বর হলে সমাজে ধর্ষণ ও অপরাধ বন্ধ করতে পারেন না কেন? হিন্দুদের ধর্মের নামে ভণ্ডামির বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বানও জানান তিনি।

বাজওয়ার দাবি, ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করার পর তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল এবং কিছু পোস্ট মুছে দেওয়া হয়।

ছিকারার অভিযোগ, বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনামূলক ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ভিডিওতে তিনি শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য, অলৌকিকভাবে যেকোনো সমস্যা সমাধানের দাবির সত্যতা এবং ধর্মীয় প্রভাবকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। বাগেশ্বর ধামের আশপাশে মেয়েরা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি।

হরিয়ানায় স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে প্রচারণা প্রথম জোরালোভাবে শুরু করেন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ধর্মেন্দ্র হুদা। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ২০১৬ সালের জাট আন্দোলন এবং ২০২০ সালে দিল্লির উপকণ্ঠে কৃষক আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

গত ২৯ জুলাই এক ভিডিওতে তিনি স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের উদ্দেশে ‘মনীষা হত্যার রহস্য’ উদ্‌ঘাটনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সত্যিই যদি তাঁদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা থাকে, তাহলে সিবিআই যে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করতে পারেনি, সেটির অপরাধী শনাক্ত করে দেখান।

১৮ বছর বয়সী মণীষা গত বছরের আগস্টে হরিয়ানা রাজ্যের ভিওয়ানিতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। দুই দিন পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে হরিয়ানাজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি পঞ্চকুলার একটি আদালত সিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মামলাটির আরও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

রোহতক জেলার মেহামের ‘মা চৌগান্নান’ ধামের এক ধর্মগুরুকে নিয়েও ভিডিও প্রকাশ করেন হুদা। তাঁর অভিযোগ, ওই ধর্মগুরু অনলাইনে আগাম বুকিং নিয়ে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি ভূত তাড়ানোর দাবি করেন। হুদা তাঁকে এসব দাবি প্রকাশ্যে প্রমাণ করার আহ্বান জানান।

এর বিপরীতে ওই ধর্মগুরু পাল্টা একটি ভিডিওতে দাবি করেন, তিনি পাখণ্ডবাদের বিরুদ্ধে হুদার প্রচারণাকে সমর্থন করেন। তবে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে সত্যকে চাপা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন।

বাবাদের বিরুদ্ধে এই প্রচারণা ছড়িয়ে পড়েছে গানেও। গায়ক মাসুম শর্মার গাওয়া এবং হ্যারি লাথারের লেখা ‘তত্ত্বদর্শী’ গানটিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্বঘোষিত গুরুদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

গানটির কথায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ডেরা গড়ে উঠছে, অনেকেই গুরু সেজে বসছেন। কেউ ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়েও ধর্মগ্রন্থের কথা বলছেন, আবার ভক্তদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অথচ তাঁদের আশ্রমে খাবারের আয়োজন চললেও বাড়িতে শিশুরা অভুক্ত থাকছে—এমন বৈপরীত্যও তুলে ধরা হয়েছে গানে।

হ্যারি লাথার জানান, ২০১৫ সালের নভেম্বরে গানটি লিখেছিলেন তিনি। তখন বাবাদের বিরুদ্ধে এখনকার মতো প্রচারণা শুরু হয়নি। এখন গানটির ইউটিউব ভিউ ১ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় তিন লাখ লাইক পেয়েছে। এমন জনপ্রিয়তার পর তাঁরা ‘তত্ত্বদর্শী ২’ প্রকাশ করেছেন।

মাসুম শর্মার ‘দ্য গ্রেট ওয়ারিয়র্স’ গানেও স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের পূজা করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। লাথারের মতে, মানুষ এসব ধর্মগুরুর কাছে যায় মূলত আর্থিক সহায়তা ও ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের আশায়। তাঁদের অনুসারীদের অনেকেই প্রভাবিত হয়ে পড়েন।

লাথারও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন। তবে তাঁর ভাষায়, এ ধরনের হুমকি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রামপালের অনুসারীরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চলছে। সমালোচকেরা তাঁদের ধর্মীয় রীতিনীতি যথাযথভাবে বোঝার চেষ্টা করেননি।

রামপালের দীর্ঘদিনের অনুসারী সুনীল কান্দেলা বারওয়ালা আশ্রমে দুধ দিয়ে গোসল করা এবং সেই দুধ দিয়ে ভক্তদের জন্য ক্ষীর তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, আশ্রমে ক্ষীর, লাড্ডু ও জিলাপিসহ খাবার বিনা মূল্যে পরিবেশন করা হতো। দুধ দিয়ে গোসলের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন আখ্যা দেন।

কান্দেলার ভাষ্য, রামপালের শিক্ষা বেদ ও কবিরের রচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আশ্রমে বসবাস না করলে কাউকে অনুদান দিতে বলা হয় না। আর আশ্রমের বাসিন্দারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দেন। তিনি বলেন, হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও মধ্যপ্রদেশে তাঁদের একাধিক আশ্রম রয়েছে। সেখানে হাজারো মানুষ অর্থের চিন্তা ছাড়াই খেতে ও থাকতে পারেন। জাতপাতের ভিত্তিতে কারও সঙ্গে বৈষম্য করা হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, স্বঘোষিত সাধ্বী কমলদীপের ডেরায় এখনো অসুস্থ মানুষের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও সেখানে আসছে। কমলদীপ ঝাড়ু হাতে রোগীর শরীরের ওপর তা ঘুরিয়ে দেন। ভক্তদের ভিড় বাড়ায় ডেরায় আচার-অনুষ্ঠানের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। এখন শনিবার, রোববার ও মঙ্গলবার ‘ঝাড়া’ দেওয়ার অনুষ্ঠান চলে। তাঁর অলৌকিক চিকিৎসার দাবির সত্যতা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুললেও কমলদীপের জবাব সংক্ষিপ্ত—‘সবকিছু ভগবান করেন।’

আত্মহত্যা করতে নদীতে ঝাঁপ, কুমিরের ভয়ে চিৎকার, উদ্ধার করল পুলিশ

আত্মহত্যা করতে নদীতে ঝাঁপ, কুমিরের ভয়ে চিৎকার, উদ্ধার করল পুলিশ

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে ওই নারী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। নদীতে পড়ার পর একটি কুমির তাঁকে আক্রমণ করে, ফলে তিনি সামান্য আঘাত পান।

শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে ‘বাগেশ্বর ধাম’-এর প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর (বাগেশ্বর বাবা) বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের আগ্রার একটি আদালতে ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হয়েছে।

দিল্লিতে আবারও ভবনধসে নিহত ২

দিল্লিতে আবারও ভবনধসে নিহত ২

গত ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ছেলেদের পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন ধসে পড়ার পর এমসিডি দিল্লির বিভিন্ন ভবনে নিরাপত্তা নিরীক্ষা বা সেফটি অডিট পরিচালনা করেছিল। তবে সেই নিরীক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভরদ্বাজ।

জনপ্রিয় টার্গেট

রাজনৈতিক বিভক্তি থাকলেও আ.লীগের প্রশ্নে আমরা এক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউটিউবার, আর্য সমাজ আর খাপ পঞ্চায়েতের চাপে হরিয়ানার ভণ্ড ধর্মগুরুরা

প্রকাশ: ০৭:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি হরিয়ানার জিন্দ জেলার পান্ডু পিন্দারা গ্রামের ২৭ বছর বয়সী স্বঘোষিত সাধ্বী কমলদীপকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, মানুষের শরীরের ওপর ঝাড়ু ঘোরালেই বাত, এমনকি ক্যানসারের মতো রোগও ভালো হয়ে যায়। সপ্তাহে দুদিন হাজার হাজার অসুস্থ ও ব্যথায় কাতর মানুষ তাঁর ডেরায় যান। অলৌকিকভাবে সুস্থ হওয়ার আশায় প্রত্যেকে ৫১ রুপি করে দেন।

ডেরার বাইরে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ তাদের কতটা বিশ্বাস করে। তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের আড়ালে এমন চিকিৎসা এবং অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন সংগঠন ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হরিয়ানায় এই প্রচারণাকে বলা হচ্ছে ‘পাখণ্ডবাদ’ বা ধর্মের নামে ভণ্ডামি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে লড়াই। তবে মহারাষ্ট্রের যুক্তিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। হরিয়ানার আন্দোলনকারীরা কুসংস্কার ও স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেও তাঁরা নিজেরা ধর্মীয় বিশ্বাসের বাইরে নন।

তাঁদের মতে, ধর্মের নামে প্রতারণা বা মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেওয়াই পাখণ্ডবাদ। অন্যদিকে অভিযুক্ত ধর্মগুরুরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে সেবা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার অংশ বলে দাবি করছেন।

ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে এই প্রচারণায় খাপ পঞ্চায়েতের অংশগ্রহণকে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণশীল অবস্থান ও কট্টোর সামাজিক প্রথার কারণে সমালোচিত এসব সংগঠন এখন ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে বেশ সরব। বিশেষ করে সন্ত রামপালের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, এক বা একাধিক গ্রামের মুরুব্বি বা মোড়লদের নিয়ে গঠিত হয় খাপ পঞ্চায়েত।

হরিয়ানার চৌরাশি (৮৪ গ্রামের সমষ্টি) খাপের সভাপতি হরদীপ সিং আহলাওয়াত বলেন, তাঁরা এক সময় মনে করেছিলেন রামপাল নিজের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করতে পারেন। কিন্তু তিনি ইদানীং হিন্দু দেবতা রাম, কৃষ্ণ, সমাজের প্রবীণ ব্যক্তি এবং নারীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। নিজেকে ঈশ্বর দাবি করছেন।

এই আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ আর্য সমাজ। হিন্দু ধর্মীয় পুনর্জাগরণবাদী এই সংগঠনের সঙ্গে রামপালের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

২০০৬ সালে হরিয়ানার রোহতক জেলার কারোন্থায় রামপালের অনুসারীদের সঙ্গে আর্য সমাজের সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং ৫৯ জন আহত হন। সাত বছর পর একই ধরনের সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্যসহ তিনজন নিহত হন এবং আহত হন প্রায় ১০০ জন।

২০১৪ সালে হিসারের বারওয়ালা এলাকায় রামপালের সতলোক আশ্রমে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালালে পরিস্থিতি কয়েক দিনের অচলাবস্থায় রূপ নেয়। ওই ঘটনায় পাঁচ নারী ও এক শিশু নিহত হন। আহত হন প্রায় ২০০ জন। এসব ঘটনায় রামপাল ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়।

হরিয়ানার আর্য সমাজের সদস্য কৃষ্ণদেবার্য শাস্ত্রীর মতে, হিন্দু ধর্মগ্রন্থ, ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও বিশ্বাস নিয়ে দুই পক্ষের প্রায় দুই দশকের বিরোধেরই ধারাবাহিকতা বর্তমান প্রচারণা।

রামপালের শিক্ষা ও বক্তব্যে কবিরকে ঈশ্বর ও সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়। তাঁর অনুসারীদের প্রকাশিত বইপত্রে রাম ও কৃষ্ণকে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে স্বীকার করা হলেও তাঁদের কবিরের নিচে স্থান দেওয়া হয়েছে। অযোধ্যার রামমূর্তি নিয়েও রামপাল বলেছেন, সেটি কেবল একটি মূর্তি, ঈশ্বর বা অমর সত্তা নয়।

আর্য সমাজের যুব শাখার জাতীয় সাধারণ সম্পাদক আদিত্য বৈশ বলেন, রামপালের জামিনে মুক্তি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে মন্তব্য করতে বা ঘৃণা ছড়াতে পারবেন। তাঁদের বিরোধ ব্যক্তিগত নয়, আদর্শগত।

রামপালের বই পড়া বা তাঁর নাম জপ করলে রোগ ভালো হয়—এমন দাবিরও সমালোচনা করেন বৈশ। তিনি বলেন, রামপালের বইয়ে এমন কিছু অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছে, ১১ হাজার ভোল্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক শিশুকে রামপাল উড়ে এসে হাত ধরে বাঁচিয়েছিলেন। এ দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য রামপালকে ২২০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইন তিন মিনিট ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ দেন তিনি। সফল হলে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন বৈশ।

চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিক থেকে হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় আর্য সমাজের সংগঠনগুলো ভণ্ড ধর্মগুরু ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশ করছে।

গুড়গাঁওয়ের কনটেন্ট নির্মাতা সুমিত বাজওয়া তাঁর ‘ক্যানসার ফ্রি ইন্ডিয়া’ প্রচারণার পাশাপাশি রামপাল ও তাঁর অনুসারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। একটি ভিডিওতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ সত্যিই ঈশ্বর হলে সমাজে ধর্ষণ ও অপরাধ বন্ধ করতে পারেন না কেন? হিন্দুদের ধর্মের নামে ভণ্ডামির বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বানও জানান তিনি।

বাজওয়ার দাবি, ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করার পর তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল এবং কিছু পোস্ট মুছে দেওয়া হয়।

ছিকারার অভিযোগ, বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনামূলক ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ভিডিওতে তিনি শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য, অলৌকিকভাবে যেকোনো সমস্যা সমাধানের দাবির সত্যতা এবং ধর্মীয় প্রভাবকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। বাগেশ্বর ধামের আশপাশে মেয়েরা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি।

হরিয়ানায় স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে প্রচারণা প্রথম জোরালোভাবে শুরু করেন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ধর্মেন্দ্র হুদা। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ২০১৬ সালের জাট আন্দোলন এবং ২০২০ সালে দিল্লির উপকণ্ঠে কৃষক আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

গত ২৯ জুলাই এক ভিডিওতে তিনি স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের উদ্দেশে ‘মনীষা হত্যার রহস্য’ উদ্‌ঘাটনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সত্যিই যদি তাঁদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা থাকে, তাহলে সিবিআই যে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করতে পারেনি, সেটির অপরাধী শনাক্ত করে দেখান।

১৮ বছর বয়সী মণীষা গত বছরের আগস্টে হরিয়ানা রাজ্যের ভিওয়ানিতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। দুই দিন পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে হরিয়ানাজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি পঞ্চকুলার একটি আদালত সিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মামলাটির আরও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

রোহতক জেলার মেহামের ‘মা চৌগান্নান’ ধামের এক ধর্মগুরুকে নিয়েও ভিডিও প্রকাশ করেন হুদা। তাঁর অভিযোগ, ওই ধর্মগুরু অনলাইনে আগাম বুকিং নিয়ে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি ভূত তাড়ানোর দাবি করেন। হুদা তাঁকে এসব দাবি প্রকাশ্যে প্রমাণ করার আহ্বান জানান।

এর বিপরীতে ওই ধর্মগুরু পাল্টা একটি ভিডিওতে দাবি করেন, তিনি পাখণ্ডবাদের বিরুদ্ধে হুদার প্রচারণাকে সমর্থন করেন। তবে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে সত্যকে চাপা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন।

বাবাদের বিরুদ্ধে এই প্রচারণা ছড়িয়ে পড়েছে গানেও। গায়ক মাসুম শর্মার গাওয়া এবং হ্যারি লাথারের লেখা ‘তত্ত্বদর্শী’ গানটিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্বঘোষিত গুরুদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

গানটির কথায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ডেরা গড়ে উঠছে, অনেকেই গুরু সেজে বসছেন। কেউ ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়েও ধর্মগ্রন্থের কথা বলছেন, আবার ভক্তদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অথচ তাঁদের আশ্রমে খাবারের আয়োজন চললেও বাড়িতে শিশুরা অভুক্ত থাকছে—এমন বৈপরীত্যও তুলে ধরা হয়েছে গানে।

হ্যারি লাথার জানান, ২০১৫ সালের নভেম্বরে গানটি লিখেছিলেন তিনি। তখন বাবাদের বিরুদ্ধে এখনকার মতো প্রচারণা শুরু হয়নি। এখন গানটির ইউটিউব ভিউ ১ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় তিন লাখ লাইক পেয়েছে। এমন জনপ্রিয়তার পর তাঁরা ‘তত্ত্বদর্শী ২’ প্রকাশ করেছেন।

মাসুম শর্মার ‘দ্য গ্রেট ওয়ারিয়র্স’ গানেও স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের পূজা করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। লাথারের মতে, মানুষ এসব ধর্মগুরুর কাছে যায় মূলত আর্থিক সহায়তা ও ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের আশায়। তাঁদের অনুসারীদের অনেকেই প্রভাবিত হয়ে পড়েন।

লাথারও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন। তবে তাঁর ভাষায়, এ ধরনের হুমকি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রামপালের অনুসারীরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চলছে। সমালোচকেরা তাঁদের ধর্মীয় রীতিনীতি যথাযথভাবে বোঝার চেষ্টা করেননি।

রামপালের দীর্ঘদিনের অনুসারী সুনীল কান্দেলা বারওয়ালা আশ্রমে দুধ দিয়ে গোসল করা এবং সেই দুধ দিয়ে ভক্তদের জন্য ক্ষীর তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, আশ্রমে ক্ষীর, লাড্ডু ও জিলাপিসহ খাবার বিনা মূল্যে পরিবেশন করা হতো। দুধ দিয়ে গোসলের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন আখ্যা দেন।

কান্দেলার ভাষ্য, রামপালের শিক্ষা বেদ ও কবিরের রচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আশ্রমে বসবাস না করলে কাউকে অনুদান দিতে বলা হয় না। আর আশ্রমের বাসিন্দারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দেন। তিনি বলেন, হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও মধ্যপ্রদেশে তাঁদের একাধিক আশ্রম রয়েছে। সেখানে হাজারো মানুষ অর্থের চিন্তা ছাড়াই খেতে ও থাকতে পারেন। জাতপাতের ভিত্তিতে কারও সঙ্গে বৈষম্য করা হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, স্বঘোষিত সাধ্বী কমলদীপের ডেরায় এখনো অসুস্থ মানুষের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও সেখানে আসছে। কমলদীপ ঝাড়ু হাতে রোগীর শরীরের ওপর তা ঘুরিয়ে দেন। ভক্তদের ভিড় বাড়ায় ডেরায় আচার-অনুষ্ঠানের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। এখন শনিবার, রোববার ও মঙ্গলবার ‘ঝাড়া’ দেওয়ার অনুষ্ঠান চলে। তাঁর অলৌকিক চিকিৎসার দাবির সত্যতা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুললেও কমলদীপের জবাব সংক্ষিপ্ত—‘সবকিছু ভগবান করেন।’

আত্মহত্যা করতে নদীতে ঝাঁপ, কুমিরের ভয়ে চিৎকার, উদ্ধার করল পুলিশ

আত্মহত্যা করতে নদীতে ঝাঁপ, কুমিরের ভয়ে চিৎকার, উদ্ধার করল পুলিশ

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে ওই নারী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। নদীতে পড়ার পর একটি কুমির তাঁকে আক্রমণ করে, ফলে তিনি সামান্য আঘাত পান।

শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে ‘বাগেশ্বর ধাম’-এর প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর (বাগেশ্বর বাবা) বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের আগ্রার একটি আদালতে ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হয়েছে।

দিল্লিতে আবারও ভবনধসে নিহত ২

দিল্লিতে আবারও ভবনধসে নিহত ২

গত ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ছেলেদের পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন ধসে পড়ার পর এমসিডি দিল্লির বিভিন্ন ভবনে নিরাপত্তা নিরীক্ষা বা সেফটি অডিট পরিচালনা করেছিল। তবে সেই নিরীক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভরদ্বাজ।