নিখোঁজ এক ব্যক্তির বোন বিবিসিকে বলেছিলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম খুব ধীরগতিতে চলছে। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘সরকার যদি সময়মতো উদ্ধারকাজে বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করত, তাহলে কি আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের অবস্থা আরও আগে জানতে পারতাম না?’
ওই ব্যক্তির বোন আরও বলেছিলেন, ‘আমরা এখনো আশা করি, তাঁকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যাবে।’
কয়েক দিন পর বিবিসিকে তিনি জানান, উদ্ধারকাজ নিয়ে সমালোচনা করায় তিনি ‘অনেক বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য’ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমনিতেই অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। এর সঙ্গে এসব মন্তব্য আমাদের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’
আরেক ঘটনায় এক তরুণী তাঁর স্বামীকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ‘তৎপরতার অভাব’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অনলাইনে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী এখন নিখোঁজ। সরকার যদি তাঁকে খুঁজে না পায়, তাহলে অন্তত তাঁর মরদেহটা কি আমাকে দেখাতে পারে?’
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সেটিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপমানজনক মন্তব্য করা হয়।
একটি মন্তব্যে ওই তরুণীকে ‘নদীতে ঝাঁপ দিয়ে’ নিজেই অনুসন্ধানকাজে সহায়তা করার কথা বলা হয়। আরেকটি মন্তব্যে লেখা হয়, ‘সরকারকে দোষ দিলেই সবকিছু হয়ে যায় না।’
তবে অনেকে এসব অসংবেদনশীল মন্তব্যের সমালোচনাও করেছেন। একটি মন্তব্যে বলা হয়, ‘এ সময় ভুক্তভোগীকে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত, অভিশাপ দেওয়া নয়।’
এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে নেতিবাচক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে নেপাল সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সতর্ক করে বলেছেন, যাঁরা দুর্ভোগে থাকা মানুষদের ‘হেয়’ করেন, তাঁদের প্রতি কর্তৃপক্ষ ‘কোনো ধরনের ছাড় দেবে না’।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বালেন্দ্র শাহ লিখেছেন, ‘এই সংবেদনশীল সময়ে যাঁরা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করেন, কষ্টে থাকা মানুষদের হেয় করেন কিংবা তাঁদের আরও কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাঁরা অপরাধী।’
নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, এসব মন্তব্য কোথা থেকে করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্তব্যকারীদের ঠিকানা ও ফোন নম্বর শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইনে করা এসব মন্তব্য তদন্তে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেজ বেইটিং বলতে এমন নেতিবাচক বিষয়বস্তু তৈরি করাকে বোঝায়, যা মানুষের ক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা মানুষকে কোনো পোস্টে ক্লিক কিংবা সেটি শেয়ার করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়।
ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। এতে ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলা ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে।
ইসরায়েলে হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রায় ১০ দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন—হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে।
দৈনিক টার্গেট 






















