ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টকহোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া) জানিয়েছে—বিশ্বজুড়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার পাওয়ার সুযোগ অন্তত গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
আন্তঃসরকারি এই সংস্থার বার্ষিক ‘গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি’ প্রতিবেদনকে এ ধরনের সবচেয়ে বিস্তৃত গবেষণাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে ১৭৪টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ১৯৭৫ সাল থেকে দেশগুলোর গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক অবনতির মাত্রা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে এটি একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান একটি বড় প্রবণতার অংশ। ২০২৫ সাল ছিল টানা ১১ তম বছর, যখন গণতান্ত্রিক অগ্রগতির চেয়ে অবনতি হওয়া দেশের সংখ্যা বেশি ছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক অবনতির ধারা।
প্রতিবেদনের লেখকেরা বলেন, ‘২০২৫ সালে গণতন্ত্রের জন্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং এর অবক্ষয় ঠেকানোর কঠিন বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং একই সঙ্গে তা আরও জটিল হয়েছে।’ তারা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত নির্বাহী শাখায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেন এবং ব্যক্তিগত কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ ও তাঁর কথিত শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কাজে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করেন। এর প্রভাব ছিল ব্যাপক। এতে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন দুর্বল হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের মিত্রতা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।’
ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার মহাসচিব কেভিন কাসাস-জামোরা সতর্ক করে বলেছেন, গণতন্ত্রের অবনতি হলে সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণার মূল বার্তা হলো, যেকোনো দেশের নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে গণতন্ত্রে বিনিয়োগ থাকা উচিত। গণতন্ত্রের মানের অবনতি এবং সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, নীতিনির্ধারণ কিংবা জনপরিসরের বিতর্কে তা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।’
সুইডেনের আপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক পৃথক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের তথ্যেও সংঘাত বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের তথ্যভান্ডার ১৯৪৬ সাল থেকে শুরু। সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত সহিংসতা ছিল সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাতের সংখ্যাও ছিল অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি।
তবে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে বর্ণবাদবিরোধী কৌশল এবং শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে।
সিরিয়াতেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে দমনমূলক শাসক বাশার আল-আসাদের স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া গণবিক্ষোভ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নেতাদের ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক ও অর্থবহ সংস্কার করা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।’
কাসাস-জামোরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাপ্রবাহ অন্যান্য দেশকেও প্রভাবিত করেছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ’ করা দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিষ্ঠানটি তখন বলেছিল, ২০১৯ সাল থেকেই দেশটিতে গণতন্ত্রের ‘দৃশ্যমান অবনতি’ শুরু হয়েছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি গত ৫০ বছরের গণতান্ত্রিক সূচকের ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোর মূল্যায়ন করে। এরপর দেশগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: গণতান্ত্রিক দেশ, ‘হাইব্রিড’ সরকার এবং কর্তৃত্ববাদী শাসন। বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে গণতন্ত্রের সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্র হিসেবে আইনের শাসনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূল্যায়ন করা দেশগুলোর মধ্যে ৭১ টি, অর্থাৎ ৪১ শতাংশ দেশ, আইনের শাসনের ক্ষেত্রে নিম্নমানের অবস্থানে ছিল। একই সঙ্গে এই ক্ষেত্রের অবনতির গতিও ছিল দ্রুত। মোট ২৯টি দেশে আইনের শাসনের সূচকে অবনতি হয়েছে।
কাসাস-জামোরা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘটে, তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এখন নির্বাচন অস্বীকার করার একটি মহামারি দেখা দিয়েছে। এর ‘পেশেন্ট জিরো’ বা সংক্রমণের প্রথম উৎস হলেন হোয়াইট হাউসের বর্তমান বাসিন্দা।’ তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানের এই অবনতি অনিবার্য বা স্থায়ী, এমন কথা আমি বলতে রাজি নই। এটি উল্টে দেওয়া সম্ভব। আমরা একটি অস্থিতিশীল বিশ্বে বাস করছি। এর অর্থ হলো, এমন ঘটনাও ঘটতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ইতিবাচক নতুন সুযোগ তৈরি করবে।’
তবে নেপাল, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ইতিবাচক কিছু পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনটি বিশ্ব গণতন্ত্রের একটি হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনের লেখকেরা বলেন, ‘মানুষ গণতন্ত্রের অবনতির বিরুদ্ধে এখনও প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। কিন্তু নাগরিক পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘নাগরিক সমাজ এবং নাগরিক অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো জনস্বার্থে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে কৌশলগত মামলা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা, বিদেশি এজেন্টবিষয়ক আইন এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা।’
ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা এক রুশ ব্যবসায়ী এ বছর বাহামাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিবাহ-পরবর্তী পার্টির খরচ মেটাতে কয়েক লাখ ডলার দিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাঁর পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মাল্টিমিলিয়নিয়ার অর্থলগ্নিকারী ক্যামেরন ও’রেইলিকে বিয়ে করেছেন ৫২ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র নির্মাতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) নৌবাহিনীর ৪৮তম এসকর্ট টাস্ক গ্রুপ দেশে ফেরার পথে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া সফর করবে। চীনের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
দৈনিক টার্গেট 


























