ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গণভোটের সম্ভাবনা ‘আলোচনার বাইরে’ বলে মন্তব্য করার কয়েক সপ্তাহ পর ট্রাম্প এ কথা বললেন। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের পাশে বসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো সমস্যা তৈরি করতে চাই না। তবে আমি আপনাদের বলব, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই।’
ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এটি ঘটবে…আমার মনে হয়, এটি একটি দারুণ ব্যাপার হবে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কিছু বলার থাকবে…তবে আমার মনে হয়, এটি একটি চমৎকার ব্যাপার হবে।’ সাংবাদিকেরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্টিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বার্নহামের একজন মুখপাত্র জানান, আয়ারল্যান্ডের একীভূতকরণ নিয়ে তাঁর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত বুধবার উত্তর আয়ারল্যান্ডে সম্ভাব্য গণভোট নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে বার্নহাম বলেন, ‘আরেকটি গণভোটের পক্ষে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে, এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আর যতক্ষণ পর্যন্ত সেটি পরিবর্তন না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণভোট হবে না।’
১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি—যা বেলফাস্ট চুক্তি নামেও পরিচিত—অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতে। এই চুক্তির মাধ্যমে ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত প্রায় তিন দশকের সহিংসতার অবসান ঘটে। এই সাম্প্রদায়িক সংঘাতে মূলত একদিকে ছিল ক্যাথলিক জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, যারা একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড চাইত। অন্যদিকে ছিল প্রধানত প্রোটেস্ট্যান্ট ইউনিয়নপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, যারা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে রাখতে চাইত। এই সংঘাতে ব্রিটিশ সেনারাও জড়িত ছিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নপন্থী দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি সেখানকার জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়, ট্রাম্পের নয়। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্যদের চেয়ে ভালোভাবেই জানেন যে, নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ ঠিক করবেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের জনগণ। লন্ডন, ডাবলিন কিংবা ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্যের ভিত্তিতে এটি নির্ধারিত হবে না।’
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যায়, উত্তর আয়ারল্যান্ডে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চান। তবে ব্যবধান কিছুটা কমেছে। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আয়ারল্যান্ডের একীকরণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। পশ্চিম আয়ারল্যান্ডেও পরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই এলাকায় ডুনবেগে ট্রাম্পের একটি গলফ কোর্স রয়েছে। রাজধানী ডাবলিন থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মিলেনা ভেসেলিনোভিচ জানান, ট্রাম্পের সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার জন্য ডাবলিনবাসীর কাছে ‘কারণগুলোর দীর্ঘ তালিকা’ রয়েছে।
মিলেনা ভেসেলিনোভিচ বলেন, ‘তারা মনে করেন, আইরিশ সরকারের উচিত নয় তাদের ভাষায়, ট্রাম্পের মতো একজন ব্যক্তির জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দেওয়া। তাদের মতে, ট্রাম্প বিশ্বে অস্থিতিশীলতা তৈরির অন্যতম কারণ এবং তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে সম্ভব করে তুলছেন…একই সঙ্গে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।’
ভেসেলিনোভিচ আরও বলেন, ট্রাম্পকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিরুদ্ধেও আইরিশরা প্রতিবাদ করছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তার খরচও রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, এই অর্থ স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন সামাজিক খাতে ব্যয় করা যেত।
সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার প্রয়াত নেতা ওসামা বিন লাদেন যে দেশগুলোতে একসময় হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করেছিলেন, সেই তালিকায় ভারতও ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) প্রকাশিত নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে গতকাল শনিবারের বৈঠকের পর ভারত ও চীন যে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে, তাতে দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সম্পর্ক কীভাবে দেখা হচ্ছে, সে বিষয়ে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
দৈনিক টার্গেট 

























