গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আরেকটি স্মরণীয় রাত উপহার দিল বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। সেমিফাইনালে শক্ত প্রতিপক্ষ নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে বাংলাদেশ। দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান, তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা দেখিয়েছেন অসাধারণ দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস। বিশেষ করে ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকা হয়ে ওঠেন ম্যাচের সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়া নাম।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে একসময় পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরার মানসিকতা দেখায় দলটি। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে নেপালের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে বাংলাদেশ। এর ফলও আসে দ্রুত। সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।
ম্যাচের শেষ দিকে যখন উত্তেজনা চরমে, তখনই আসে নির্ধারণী মুহূর্ত। নেপালের গোললাইন অতিক্রম করতেই বল জালে জড়িয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন সাগরিকা। তার আনন্দে যোগ দেন সতীর্থরাও। সেই গোল কার্যত বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত করে দেয়। শেষ বাঁশি বাজার আগেই মাঠে ও গ্যালারিতে জয়ের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।
স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সমর্থক সংখ্যা খুব বেশি না থাকলেও উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি সফল রক্ষণ এবং শেষ মুহূর্তের গোল তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই ওঠেনি, বরং টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্নকেও আরও বাস্তব করে তুলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশের যে আধিপত্য তৈরি হয়েছে, এই জয় তারই আরেকটি প্রমাণ।
এদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারত মুখোমুখি হবে ভুটানের। সেই ম্যাচের বিজয়ী দলকে ফাইনালে পাবে বাংলাদেশ। আগামী ৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে সাগরিকা-ঋতুপর্ণারা।
এখন বাংলাদেশের সামনে একটাই লক্ষ্য—ফাইনালে জিতে সাফ নারী ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট আরও একবার ধরে রাখা।

দৈনিক টার্গেট 
























