সিফাতকে মুক্তি দিন, নয়তো ১৮ কোটি মানুষ তার মতোই গর্জন করবে: জামায়াত আমির

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:১০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৩ বার পঠিত হয়েছে

আজ শনিবার মতিঝিলে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘লংমার্চ’ শুরুর আগে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘তাকে মুক্তি দিন। শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তি দিন। যদি তা না করেন, তবে মনে রাখবেন যে নূর হোসেন, ইয়াসমিন এবং ড. মিলনের মতো অনেকেই ক্ষমতার আসনে থাকা অনেকের বিরুদ্ধেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিলেন। কেউ বলতে পারে না কখন পচা শামুকের ওপর পা দিয়ে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।’

বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, সিফাতকে থানায় নিয়ে গিয়ে দলীয় কর্মীরা হেনস্তা করেছে। তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যেন তার মন্তব্য ‘বাংলাদেশকে ওলটপালট করে দিতে পারে’।

‘সিফাত যে ভাষা ব্যবহার করেছে তাকে সমর্থন না করলেও, যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সিফাতের মতোই গর্জন করবে’, যোগ করেন শফিকুর রহমান।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই লংমার্চ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তবে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান এতে সপ্তম দাবি হিসেবে ‘চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যানের’ ঘোষণা যুক্ত করেন।

সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে রাজপথে নামিনি, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নেমেছি। রাজপথ, মহাসড়ক কিংবা জাতীয় সংসদ— সবখানেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।’

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অলি আহমদ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। জনগণের দাবি মেনে না নিলে সরকারকে পদত্যাগ করা স্বৈরাচারদের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।’

অন্যদিকে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার এজেন্ডা ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও লোডশেডিং থামেনি।

মতিঝিলের সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে জোটের লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর এবং আগামী মাসে খুলনা ও সিলেটে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমাদের এই লংমার্চ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। যারা সিন্ডিকেট করে তেল-বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে—তাদের বিরুদ্ধে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, গন্তব্যের পথে বাধা আসলে আমরা লড়াই করতেই নেমেছি। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা আমাদের গন্তব্যে ইনশা আল্লাহ পৌঁছাব, কোনো বাধাকেই আমরা পরোয়া করব না।

জনপ্রিয় টার্গেট

মোস্তাফিজকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাল চেন্নাই-দুবাই

সিফাতকে মুক্তি দিন, নয়তো ১৮ কোটি মানুষ তার মতোই গর্জন করবে: জামায়াত আমির

প্রকাশ: ০২:১০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ শনিবার মতিঝিলে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘লংমার্চ’ শুরুর আগে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘তাকে মুক্তি দিন। শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তি দিন। যদি তা না করেন, তবে মনে রাখবেন যে নূর হোসেন, ইয়াসমিন এবং ড. মিলনের মতো অনেকেই ক্ষমতার আসনে থাকা অনেকের বিরুদ্ধেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিলেন। কেউ বলতে পারে না কখন পচা শামুকের ওপর পা দিয়ে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।’

বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, সিফাতকে থানায় নিয়ে গিয়ে দলীয় কর্মীরা হেনস্তা করেছে। তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যেন তার মন্তব্য ‘বাংলাদেশকে ওলটপালট করে দিতে পারে’।

‘সিফাত যে ভাষা ব্যবহার করেছে তাকে সমর্থন না করলেও, যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সিফাতের মতোই গর্জন করবে’, যোগ করেন শফিকুর রহমান।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই লংমার্চ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তবে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান এতে সপ্তম দাবি হিসেবে ‘চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যানের’ ঘোষণা যুক্ত করেন।

সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে রাজপথে নামিনি, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নেমেছি। রাজপথ, মহাসড়ক কিংবা জাতীয় সংসদ— সবখানেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।’

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অলি আহমদ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। জনগণের দাবি মেনে না নিলে সরকারকে পদত্যাগ করা স্বৈরাচারদের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।’

অন্যদিকে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার এজেন্ডা ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও লোডশেডিং থামেনি।

মতিঝিলের সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে জোটের লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর এবং আগামী মাসে খুলনা ও সিলেটে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমাদের এই লংমার্চ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। যারা সিন্ডিকেট করে তেল-বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে—তাদের বিরুদ্ধে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, গন্তব্যের পথে বাধা আসলে আমরা লড়াই করতেই নেমেছি। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা আমাদের গন্তব্যে ইনশা আল্লাহ পৌঁছাব, কোনো বাধাকেই আমরা পরোয়া করব না।