শাপলা চত্বর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ডা. ইরানের

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ১১৭ বার পঠিত হয়েছে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরকে ঘিরে ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনাকে ঘিরে আবারও তদন্তের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এ ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, ওই রাতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি, যা জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দলীয় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও শাপলা চত্বরে পরিচালিত অভিযানের ধরন নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণের ওপর যে ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, তা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

ডা. ইরান জোর দিয়ে বলেন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালিত হলে কে বা কারা অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিল, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কত এবং কীভাবে পুরো অভিযান পরিচালিত হয়েছিল—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে আসবে। এতে করে বিভ্রান্তি দূর হবে এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দমনমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শাপলা চত্বরের ঘটনাকে তিনি সেই প্রেক্ষাপটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, সত্য উদ্ঘাটন ছাড়া ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

বিবৃতিতে তিনি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি নতুন নয়; তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রক্রিয়া কেবল অতীতের বিতর্ক মেটাতেই নয়, ভবিষ্যতে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় টার্গেট

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০২ অক্টোবর ২০২৬

শাপলা চত্বর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ডা. ইরানের

প্রকাশ: ০৩:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরকে ঘিরে ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনাকে ঘিরে আবারও তদন্তের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এ ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, ওই রাতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি, যা জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দলীয় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও শাপলা চত্বরে পরিচালিত অভিযানের ধরন নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণের ওপর যে ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, তা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

ডা. ইরান জোর দিয়ে বলেন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালিত হলে কে বা কারা অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিল, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কত এবং কীভাবে পুরো অভিযান পরিচালিত হয়েছিল—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে আসবে। এতে করে বিভ্রান্তি দূর হবে এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দমনমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শাপলা চত্বরের ঘটনাকে তিনি সেই প্রেক্ষাপটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, সত্য উদ্ঘাটন ছাড়া ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

বিবৃতিতে তিনি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি নতুন নয়; তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রক্রিয়া কেবল অতীতের বিতর্ক মেটাতেই নয়, ভবিষ্যতে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।