জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে একযোগে মিলে আওয়ামী লীগের ঘটিত আগুন–সন্ত্রাস ও জননুক্সান সৃষ্টিকারী কার্যক্রম প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেখানে যেখানে আওয়ামী লীগের কোনো অপকর্ম, আগুনজ্বালানো বা জনগণের ক্ষতি করার পরিকল্পনা দেখা যাবে, সেসব ব্যক্তিকে ধরে পুলিশকে হস্তান্তর করতে হবে।
আজ সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও এর আগে বাংলামোটর মোড় থেকে শাহবাগ পর্যন্ত হওয়া মিছিলকে সমাপ্ত করে এনসিপি এ আহ্বান জানায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদ মূলক স্লোগান দেন।
সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের স্বার্থে বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান রুখতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য জরুরি। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দশক ধরে যেসব ঘটনায় স্বাধীনচেতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, গুম ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে তার বিচার হওয়া উচিত। তিনি যোগ করেন, “হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়প্রমাণ হলে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে” এবং জনগণের সামনে এ দাবি অটল থাকবে।
হাসনাত আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য বক্তব্য ও আচরণ থেকে কিছু নেতারা আগুন দেওয়ার মতো কুখ্যাত উত্সাহ দেখিয়েছেন; ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বরের এক বিতর্কিত বিবৃতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা সশরীরে আগুন দিয়ে ক্ষতিসাধন করবে, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকা জরুরি। তিনি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বলেন, “এখন যারা জীবন, সম্পদ বা চলাচলব্যবস্থায় আগুন লাগাতে আসবে, তাদেরকে দ্রুত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে” এমন মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি।
সমাবেশে আরো আক্রমণাত্মক কণ্ঠে বলা হয় যে দেশে বিরোধী মতের কণ্ঠপথগুলো চরমভাবে অবহেলা বা দমনপ্রবণ হয়েছে এবং এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী-কলামিস্ট ও টকশো-উপস্থাপকরা সরকারপক্ষের নীতিকে বৈধতা দেয়ার কাজে ভূমিকা রেখেছে। হাসনাত দাবি করেন, এই সকল ব্যক্তিদের করপত্র ও আর্থিক উৎস পর্যবেক্ষণে এনে প্রয়োজনীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “ভারতীয় দূতাবাস বা অন্য কোথাও বসে দেশের অভ্যন্তরীণ বিচার প্রক্রিয়া বিচলিত করা যাবে না” এমন আঙুলও তোলেন তিনি।
তিনি ময়মনসিংহে শিশু পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে এ ধরনের নিষ্ঠুর কাণ্ডের কড়া বিচার দাবি করেন এবং বলেন, দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত অপকর্ম, হত্যা ও ভয়-ভীতি সৃষ্টিকারীদের দমন না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল হবে।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন এনসিপির যুগ্মসদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন। এসময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার ইত্যাদি উপস্থিত ছিলেন এবং আলাদা আলাদা বক্তব্য দেন। সমাবেশের আগে বাংলা মোড় থেকে মিছিল ছাড়লে অংশগ্রহণকারীরা নানা প্রতিরোধমূলক ও নিন্দায়িত স্লোগান দেন।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, মিছিলে এমন কয়েকটি পংক্তি উচ্চারণ করা হয় যা বক্তারা জাতীয় পর্যায়ে জনবিচ্ছিন্নতা ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সংকেত হিসেবে উপস্থাপন করেন। দলের বক্তব্যের ভিত্তিতে তারা আগামীতে আরও সংগঠিত কর্মসূচি নেয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 


























