ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মনোনয়ন যাচাই প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিএনপির চার প্রার্থীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে এই আপিল জমা দেন তিনি। আবেদনে মনিরা শারমিন দাবি করেন, একই ধরনের আইনি পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তার মনোনয়ন বাতিল করা হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে।
তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন শেষে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এই বিধান দেখিয়ে তার প্রার্থিতা অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে একই আইনি সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিএনপি মনোনীত কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে যা তার ভাষায় স্পষ্ট দ্বৈত নীতির উদাহরণ।
আপিলে চারজন প্রার্থীর বিষয়ে পৃথকভাবে আপত্তি তোলা হয়েছে।
তাদের মধ্যে একজন পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রার্থী হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।আরেকজন বিদেশি অনুদাননির্ভর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদে যুক্ত থাকার কারণে আইনগত সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া একজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু এবং আরেকজনের বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক কর্মসংস্থানের বিষয়ও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
মনিরা শারমিন তার আবেদনে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থার দাবি জানান। তার মতে, এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমতার নীতি কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
দৈনিক টার্গেট 


























