লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) দাবি করেছেন, অতীতে একটি রাজনৈতিক সমীকরণের মাধ্যমে তাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে দলীয় আনুগত্য ও নৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি সেই প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সাড়া দেননি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য একটি নতুন ক্ষমতার সমীকরণ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা জানানো হয়। প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
অলি আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেছিলেন যে এমন কোনো পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক আদর্শ ও তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। এ কারণে তিনি পরিকল্পনাটির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি।
তিনি আরও জানান, সে সময় সংসদে একটি বিশেষ বিল আনার উদ্যোগ ছিল, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অলি আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একসময় তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর এ দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবের কারণে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তব রূপ পায়নি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন এলডিপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারের আরও কঠোর নজরদারি থাকা প্রয়োজন। কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অলি আহমদের মতে, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা। প্রশাসনকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি

দৈনিক টার্গেট 























