রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিএনপির নেতা রাশেদ খান। তিনি প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সাম্প্রতিক সংসদীয় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খান দাবি করেন, নুরুল হক নুর শুধু আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করেননি, বরং সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার ভাষায়, পরিস্থিতি তৈরি করার পাশাপাশি কার্যকর ফলাফলও এসেছে।
এর আগে বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে নুরুল হক নুর বলেন, তারা আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, আর অন্যরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে। এই মন্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
রাশেদ খান তার পোস্টে বলেন, নুরের বক্তব্যকে ভুল প্রমাণ করতে হলে সমালোচকদের তথ্য-প্রমাণসহ কথা বলতে হবে। তিনি ইঙ্গিত করেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে নুরের ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান হোক তা মাঠে কিংবা গ্রেপ্তার অবস্থায়।
একই পোস্টে তিনি অভিযোগ তোলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার মতে, পরবর্তীতে কিছু মহল নিজেদের মতো করে সেই ইতিহাস উপস্থাপন করেছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার ও বিচারের কথা বলা হলেও এর আড়ালে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এমনকি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়াকেও তিনি সমালোচনার চোখে দেখেন, বিশেষ করে যখন ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে যুক্ত থাকেন।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ‘জুলাই’ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও স্লোগানের ব্যবহারেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, এই বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে অপব্যবহার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

দৈনিক টার্গেট 
























