নিজেদের সক্ষমতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:০৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়ে এমনই ভাবনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপির। দলটি প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করে তাঁদের নাম কেন্দ্রে পাঠাতে সব জেলা কমিটিকে নির্দেশনা দিয়েছে দলটি। তবে সব ইউপিতে প্রার্থী বাছাই ও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

জানতে চাইলে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য ও দলটির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন সবাই যার যার সাংগঠনিক সক্ষমতা অনুযায়ী করবে। কারণ, ওখানে বাস্তবতা অন্য রকম। সামাজিক অ্যালায়েন্স হয়। এভাবে কেন্দ্রীয় জোটের নির্দেশনায় সমঝোতা করাটা কঠিন।’ স্থানীয় পর্যায়ে কেউ সমঝোতা করতে চাইলে দলের অবস্থান কী হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, একেক জায়গার বাস্তবতা একেক রকম। সেখানকার বাস্তবতা অনুযায়ী কোনো সমঝোতা হলে সে বিষয়ে কেন্দ্র বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা জানান, এখন পর্যন্ত কতটি ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। জেলা কমিটিগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর পর পর্যায়ক্রমে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও দ্রুত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তবে চলতি মাসের মধ্যে দেশের সব ইউপিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নেই। প্রথম ধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি মাসে কিছু ইউপির প্রার্থী ঘোষণা করতে চায় এনসিপি।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের নেতারা জানান, কোনো কোনো জেলা কমিটি একসঙ্গে কয়েকটি ইউপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে। এ ছাড়া সব ইউপি প্রার্থীকে ঢাকায় এনে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনী দিকনির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করবে জেলা কমিটিগুলো। তাদের পাঠানো নাম যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ইউপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

প্রস্তুতি শুরু করলেও এনসিপির নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা চলছে। এটা অগণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ। এ অবস্থায় স্থানীয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিজেদের জন্য দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। একদিকে সরকার হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা, অন্যদিকে দল হিসেবে নির্বাচনে সফল হতে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা, নেতাদের প্রভাব বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে হবে।

গত ১৫ মে এনসিপির সাধারণ সভায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র পদ বিলুপ্ত করারও সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। এরপর গত ১১ অক্টোবর এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা চূড়ান্ত হয়।

জনপ্রিয় টার্গেট

নিজেদের সক্ষমতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি

প্রকাশ: ০২:০৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়ে এমনই ভাবনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপির। দলটি প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করে তাঁদের নাম কেন্দ্রে পাঠাতে সব জেলা কমিটিকে নির্দেশনা দিয়েছে দলটি। তবে সব ইউপিতে প্রার্থী বাছাই ও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

জানতে চাইলে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য ও দলটির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন সবাই যার যার সাংগঠনিক সক্ষমতা অনুযায়ী করবে। কারণ, ওখানে বাস্তবতা অন্য রকম। সামাজিক অ্যালায়েন্স হয়। এভাবে কেন্দ্রীয় জোটের নির্দেশনায় সমঝোতা করাটা কঠিন।’ স্থানীয় পর্যায়ে কেউ সমঝোতা করতে চাইলে দলের অবস্থান কী হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, একেক জায়গার বাস্তবতা একেক রকম। সেখানকার বাস্তবতা অনুযায়ী কোনো সমঝোতা হলে সে বিষয়ে কেন্দ্র বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা জানান, এখন পর্যন্ত কতটি ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। জেলা কমিটিগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর পর পর্যায়ক্রমে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও দ্রুত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তবে চলতি মাসের মধ্যে দেশের সব ইউপিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নেই। প্রথম ধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি মাসে কিছু ইউপির প্রার্থী ঘোষণা করতে চায় এনসিপি।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের নেতারা জানান, কোনো কোনো জেলা কমিটি একসঙ্গে কয়েকটি ইউপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে। এ ছাড়া সব ইউপি প্রার্থীকে ঢাকায় এনে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনী দিকনির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করবে জেলা কমিটিগুলো। তাদের পাঠানো নাম যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ইউপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

প্রস্তুতি শুরু করলেও এনসিপির নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা চলছে। এটা অগণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ। এ অবস্থায় স্থানীয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিজেদের জন্য দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। একদিকে সরকার হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা, অন্যদিকে দল হিসেবে নির্বাচনে সফল হতে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা, নেতাদের প্রভাব বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে হবে।

গত ১৫ মে এনসিপির সাধারণ সভায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র পদ বিলুপ্ত করারও সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। এরপর গত ১১ অক্টোবর এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা চূড়ান্ত হয়।