জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, নির্বাচন কমিশন একভাবে আগায়, সরকার আরেক দিকে আগায়।’
দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। তাঁরা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব বিষয় সুষ্ঠু নির্বাচন, নিরপেক্ষতা এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় হুমকি।
অবশ্য নেতারা এসব শঙ্কা জানালেও নির্বাচনের মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াত। দলটির সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে তাঁদের সামনে রাখা হয়েছিল, যাঁদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনের পরপরই এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে প্রচার শুরু করেন দলের নেতা-কর্মীরা। সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর প্রার্থীও শিগগির চূড়ান্ত হবে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, প্রায় চার-পাঁচ মাস আগেই জেলা ও মহানগরগুলোকে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রার্থী বাছাই করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে ৬০-৭০ ভাগ জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেছে এবং স্থানীয়ভাবে তাঁরা কাজও করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের উপজেলা পর্যায়ের একজন নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের উপজেলার প্রায় সব ইউপির চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। দুই-এক জায়গায় এখনো আলোচনা চলছে। সেটাও আশা করি শিগগির চূড়ান্ত হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচারকাজ চালাচ্ছি। এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণসহ নানা কর্মসূচি সম্পন্ন করেছি।’
জামায়াত সংসদ নির্বাচন জোটবদ্ধ হয়ে করলেও ইউপি নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। দলটির নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা এবং ভোটারদের সমর্থনের পরিসর যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় অবস্থান আরও সুসংহত করতে চান তাঁরা।
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে হাজার আসনের বিষয়। কাজেই এখানে জোটের নির্বাচন সম্ভব নয়।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের বোনেরা সারা বছরই মানুষের সঙ্গে আছেন, তাঁদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন। জাতীয় নির্বাচনের মতো করে এখনো ঘরে ঘরে কাজ করছেন।’
সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আসলে নির্বাচনের আবহ তৈরি হলেই তখন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। এর আগে তো দলীয় প্রস্তুতির ব্যাপার থাকে, সেটা আমাদের চলছে। বাকিটা তো জনগণের সম্পৃক্ততার বিষয়।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিজেদের জন্য দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। একদিকে সরকার হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা, অন্যদিকে দল হিসেবে নির্বাচনে সফল হতে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা, নেতাদের প্রভাব বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে হবে।
গত ১৫ মে এনসিপির সাধারণ সভায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র পদ বিলুপ্ত করারও সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। এরপর গত ১১ অক্টোবর এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা চূড়ান্ত হয়।
দৈনিক টার্গেট 























