চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২২ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে মামলায় পলাতক থাকা ১৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আবেদন শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়, যা আদালত প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেছে।
এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগের নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম এবং মো. ফিরোজ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে, মামলার আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। আদালত এসব পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচারিক ধাপে প্রবেশ করেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতে হাজির করা গেলে পরবর্তী শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি লাভ করল এবং মামলাটি এখন নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
















Leave a Reply