মাদকের উপাদান কাশির সিরাপে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:১১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩০ বার পঠিত হয়েছে

আলোচ্য সিরাপগুলোর প্রস্তুতকারী কোম্পানির ভাষ্য, ডেক্সট্রোমেথরফেন কাশির ওষুধে ব্যবহৃত একটি স্বীকৃত উপাদান। সরকারি অনুমতি এবং নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করেই ওষুধগুলো প্রস্তুত করা হয়। তবে অতিরিক্ত সেবনে নেশাজাতীয় প্রভাবসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

অভিযোগ উঠেছে, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কাশির ওষুধ ফেনসিডিলের মতো মাদকের চোরাচালান কমে যাওয়ার পর থেকে মাদকাসক্তদের একটি অংশ বিকল্প হিসেবে ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত কাশির সিরাপ সেবন করছে। এসব সিরাপ বেশি গ্রহণ করলে নেশাজাতীয় প্রভাব তৈরি হতে পারে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকার ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এসব সিরাপ কেনা যায়। কেউ কেউ চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াও নেশা করতেও এসব সিরাপ কিনছেন বলে বিক্রেতাদের ধারণা।

কাশির সিরাপের রাসায়নিক পরীক্ষার পর ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত ওষুধের আমদানি এবং বিক্রি সীমিত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব ওষুধ প্রস্তুতকারী, বিপণনকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে তারা।

গত ১৩ মার্চ বগুড়া সদর থানায় মাদকসংক্রান্ত একটি মামলা হয়। সেই মামলার আলামত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ডিএনসির রাজশাহী বিভাগীয় পরীক্ষাগারে ১৪টি কাশির সিরাপের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ১৬ মার্চ ডিএনসির মহাপরিচালককে এক চিঠিতে রাজশাহী বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের পরীক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বেক্সিমকো, স্কয়ার, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, অপসোনিন ফার্মা, এসিআই, একমি ল্যাবরেটরিজ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও অ্যারিস্টোফার্মার ১৪টি কাশির সিরাপে ডেক্সট্রোমেথরফেন পাওয়া গেছে।

অপব্যবহারে উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট সিরাপগুলোর ব্র্যান্ড নেম প্রকাশ করছে না আজকের পত্রিকা।

ডেক্সট্রোমেথরফেন দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রথম তফসিলের ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত একটি নিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য। আইন অনুযায়ী এর সহযোগে যেকোনো অনুপাতে প্রস্তুত করা ওষুধ মাদক হিসেবে গণ্য হবে।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে ডেক্সট্রোমেথরফেনকে ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত না করলেও হতো। তবে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এ ধরনের সিরাপ বিক্রি নিষিদ্ধ করা উচিত।’

ড. মুহিত প্রসঙ্গত উল্লেখ করেন, সাধারণত হেরোইন, গাঁজা ও কোকেনের মতো মাদক ‘ক’ শ্রেণির উপযুক্ত। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত উপাদান হলেও ডেক্সট্রোমেথরফেন বহু দেশে ওষুধের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে লেখা ডিএনসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত সিরাপ দীর্ঘস্থায়ী কাশি নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। তবে দেশে ফেনসিডিলসহ প্রচলিত মাদকদ্রব্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে এই উপাদানযুক্ত কাশির সিরাপ যুবসমাজ ও মাদকাসক্তরা ব্যবহার করছে। এটি সেবনে হাইপোম্যানিয়া বা তীব্র সাইকোসিস, শ্বাসকষ্ট, জিহ্বা বা গলায় ফোলাভাব, মারাত্মক মাথা ঘোরা, অস্থিরতা ও খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত সেবনে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসির একজন কর্মকর্তা জানান, কোন কোন প্রতিষ্ঠান ডেক্সট্রোমেথরফেন ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করছে, সে বিষয়ে অধিদপ্তরের কাছে আগে সুস্পষ্ট তথ্য ছিল না। তবে বিষয়টি এখন সামনে আসার পর খোঁজ নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এসব সিরাপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওষুধের রাসায়নিক পরীক্ষা করতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএনসির রাজশাহী বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের পরীক্ষক শফিকুল ইসলাম সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে অনেকে এসব সিরাপ ব্যবহার করছে। এর আগেও তিনটি রাসায়নিক পরীক্ষায় কাশির সিরাপে মাদকের উপাদান পাওয়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে অধিদপ্তর দৃশ্যত তা আমলে নেয়নি।’

১৪ সিরাপ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডেক্সট্রোমেথরফেন কাশির ওষুধে ব্যবহৃত স্বীকৃত উপাদান। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি এবং নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করেই তাঁরা ওষুধ প্রস্তুত করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে অতিরিক্ত সেবনে নেশাজাতীয় প্রভাব এবং বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

৮টি ওষুধ কোম্পানির মধ্যে ৫টির বক্তব্য পেয়েছে আজকের পত্রিকা। অপসোনিন ফার্মার জেনারেল ম্যানেজার (প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট) আকতার হোসাইনের দাবি, তাঁদের সিরাপে ডেক্সট্রোমেথরফেনের মাত্রা স্বাভাবিক। নিয়ম মেনে সেবন করলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে অতিরিক্ত সেবন করলে নেশা হতে পারে।

এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজার (রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) শাহমির হোসাইন বলেন, ‘কাশির সিরাপে এটা থাকতেই পারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে এই সিরাপ তৈরি করা হয়। আইনের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।’

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) আতিকুজ্জামান বলেন, ‘১৯৫৩ সাল থেকে ডেক্সট্রোমেথরফেন কাশির সিরাপে ব্যবহার হয়ে আসছে। সরকারের অনুমতি নিয়েই ব্যবসা করছি। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যদি ডেক্সট্রোমেথরফেন ব্যবহার করতে না দেয়, তাহলে আমরা আর এটি ব্যবহার করব না। ওষুধের প্যাকেটেও প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করা হয়। কেউ অতিরিক্ত সেবন করলে অন্য ওষুধের ক্ষেত্রেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।’

বিকন ফার্মার পরিচালক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) এস এম মাহমুদুল হক পল্লব বলেন, ‘আমাদের মতো অনেক কোম্পানির কাশির সিরাপেই ডেক্সট্রোমেথরফেন রয়েছে। কাশির ওষুধ বানাতে এটি লাগে।’

এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসের মার্কেটিং ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যদি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে জানায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে আমরাও ওই উপাদান ছাড়া কীভাবে সিরাপ তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ও মুখপাত্র ড. আকতার হোসেন গত সোমবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওষুধ তৈরি করতে অনেক ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডেক্সট্রোমেথরফেনকে তফসিলভুক্ত ‘ক’ শ্রেণির মাদক বলতে পারে। তাদের দিক থেকে বিষয়টি ঠিক আছে। কিন্তু ওষুধের কার্যকারিতা এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসনের নিজস্ব কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যেহেতু এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে, আমরা তাদের বিষয়টিও আলোচনায় তুলব। আর অপব্যবহার ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার বিষয়ে আবারও জোর দেওয়া হবে।’

জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে ২৫টির গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান।

সংসদে একটি মিডিয়ার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে নিয়ে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ । কিন্তু সেগুলো অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ায় প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। বিরোধীদলের সদস্যদের লক্ষ্য করে অনলাইনে অপতথ্য ছড়ানো হলে

সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় নারী শিক্ষিকার মৃত্যু, বিমানবন্দরে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩৯ লক্ষ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে নিহত। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগে গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি…

জনপ্রিয় টার্গেট

মাদকের উপাদান কাশির সিরাপে

প্রকাশ: ০২:১১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলোচ্য সিরাপগুলোর প্রস্তুতকারী কোম্পানির ভাষ্য, ডেক্সট্রোমেথরফেন কাশির ওষুধে ব্যবহৃত একটি স্বীকৃত উপাদান। সরকারি অনুমতি এবং নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করেই ওষুধগুলো প্রস্তুত করা হয়। তবে অতিরিক্ত সেবনে নেশাজাতীয় প্রভাবসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

অভিযোগ উঠেছে, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কাশির ওষুধ ফেনসিডিলের মতো মাদকের চোরাচালান কমে যাওয়ার পর থেকে মাদকাসক্তদের একটি অংশ বিকল্প হিসেবে ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত কাশির সিরাপ সেবন করছে। এসব সিরাপ বেশি গ্রহণ করলে নেশাজাতীয় প্রভাব তৈরি হতে পারে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকার ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এসব সিরাপ কেনা যায়। কেউ কেউ চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াও নেশা করতেও এসব সিরাপ কিনছেন বলে বিক্রেতাদের ধারণা।

কাশির সিরাপের রাসায়নিক পরীক্ষার পর ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত ওষুধের আমদানি এবং বিক্রি সীমিত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব ওষুধ প্রস্তুতকারী, বিপণনকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে তারা।

গত ১৩ মার্চ বগুড়া সদর থানায় মাদকসংক্রান্ত একটি মামলা হয়। সেই মামলার আলামত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ডিএনসির রাজশাহী বিভাগীয় পরীক্ষাগারে ১৪টি কাশির সিরাপের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ১৬ মার্চ ডিএনসির মহাপরিচালককে এক চিঠিতে রাজশাহী বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের পরীক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বেক্সিমকো, স্কয়ার, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, অপসোনিন ফার্মা, এসিআই, একমি ল্যাবরেটরিজ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও অ্যারিস্টোফার্মার ১৪টি কাশির সিরাপে ডেক্সট্রোমেথরফেন পাওয়া গেছে।

অপব্যবহারে উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট সিরাপগুলোর ব্র্যান্ড নেম প্রকাশ করছে না আজকের পত্রিকা।

ডেক্সট্রোমেথরফেন দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রথম তফসিলের ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত একটি নিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য। আইন অনুযায়ী এর সহযোগে যেকোনো অনুপাতে প্রস্তুত করা ওষুধ মাদক হিসেবে গণ্য হবে।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে ডেক্সট্রোমেথরফেনকে ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত না করলেও হতো। তবে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এ ধরনের সিরাপ বিক্রি নিষিদ্ধ করা উচিত।’

ড. মুহিত প্রসঙ্গত উল্লেখ করেন, সাধারণত হেরোইন, গাঁজা ও কোকেনের মতো মাদক ‘ক’ শ্রেণির উপযুক্ত। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত উপাদান হলেও ডেক্সট্রোমেথরফেন বহু দেশে ওষুধের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে লেখা ডিএনসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত সিরাপ দীর্ঘস্থায়ী কাশি নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। তবে দেশে ফেনসিডিলসহ প্রচলিত মাদকদ্রব্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে এই উপাদানযুক্ত কাশির সিরাপ যুবসমাজ ও মাদকাসক্তরা ব্যবহার করছে। এটি সেবনে হাইপোম্যানিয়া বা তীব্র সাইকোসিস, শ্বাসকষ্ট, জিহ্বা বা গলায় ফোলাভাব, মারাত্মক মাথা ঘোরা, অস্থিরতা ও খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত সেবনে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসির একজন কর্মকর্তা জানান, কোন কোন প্রতিষ্ঠান ডেক্সট্রোমেথরফেন ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করছে, সে বিষয়ে অধিদপ্তরের কাছে আগে সুস্পষ্ট তথ্য ছিল না। তবে বিষয়টি এখন সামনে আসার পর খোঁজ নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এসব সিরাপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওষুধের রাসায়নিক পরীক্ষা করতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএনসির রাজশাহী বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের পরীক্ষক শফিকুল ইসলাম সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে অনেকে এসব সিরাপ ব্যবহার করছে। এর আগেও তিনটি রাসায়নিক পরীক্ষায় কাশির সিরাপে মাদকের উপাদান পাওয়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে অধিদপ্তর দৃশ্যত তা আমলে নেয়নি।’

১৪ সিরাপ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডেক্সট্রোমেথরফেন কাশির ওষুধে ব্যবহৃত স্বীকৃত উপাদান। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি এবং নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করেই তাঁরা ওষুধ প্রস্তুত করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে অতিরিক্ত সেবনে নেশাজাতীয় প্রভাব এবং বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

৮টি ওষুধ কোম্পানির মধ্যে ৫টির বক্তব্য পেয়েছে আজকের পত্রিকা। অপসোনিন ফার্মার জেনারেল ম্যানেজার (প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট) আকতার হোসাইনের দাবি, তাঁদের সিরাপে ডেক্সট্রোমেথরফেনের মাত্রা স্বাভাবিক। নিয়ম মেনে সেবন করলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে অতিরিক্ত সেবন করলে নেশা হতে পারে।

এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজার (রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) শাহমির হোসাইন বলেন, ‘কাশির সিরাপে এটা থাকতেই পারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে এই সিরাপ তৈরি করা হয়। আইনের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।’

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) আতিকুজ্জামান বলেন, ‘১৯৫৩ সাল থেকে ডেক্সট্রোমেথরফেন কাশির সিরাপে ব্যবহার হয়ে আসছে। সরকারের অনুমতি নিয়েই ব্যবসা করছি। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যদি ডেক্সট্রোমেথরফেন ব্যবহার করতে না দেয়, তাহলে আমরা আর এটি ব্যবহার করব না। ওষুধের প্যাকেটেও প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করা হয়। কেউ অতিরিক্ত সেবন করলে অন্য ওষুধের ক্ষেত্রেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।’

বিকন ফার্মার পরিচালক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) এস এম মাহমুদুল হক পল্লব বলেন, ‘আমাদের মতো অনেক কোম্পানির কাশির সিরাপেই ডেক্সট্রোমেথরফেন রয়েছে। কাশির ওষুধ বানাতে এটি লাগে।’

এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসের মার্কেটিং ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যদি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে জানায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে আমরাও ওই উপাদান ছাড়া কীভাবে সিরাপ তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ও মুখপাত্র ড. আকতার হোসেন গত সোমবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওষুধ তৈরি করতে অনেক ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডেক্সট্রোমেথরফেনকে তফসিলভুক্ত ‘ক’ শ্রেণির মাদক বলতে পারে। তাদের দিক থেকে বিষয়টি ঠিক আছে। কিন্তু ওষুধের কার্যকারিতা এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসনের নিজস্ব কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যেহেতু এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে, আমরা তাদের বিষয়টিও আলোচনায় তুলব। আর অপব্যবহার ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার বিষয়ে আবারও জোর দেওয়া হবে।’

জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে ২৫টির গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান।

সংসদে একটি মিডিয়ার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে নিয়ে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ । কিন্তু সেগুলো অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ায় প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। বিরোধীদলের সদস্যদের লক্ষ্য করে অনলাইনে অপতথ্য ছড়ানো হলে

সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় নারী শিক্ষিকার মৃত্যু, বিমানবন্দরে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩৯ লক্ষ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে নিহত। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগে গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি…