জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই, কিন্তু গোসলে সর্বাধিক পানি অপচয় করে জেন–জিরা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:১৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইউকের খবরে বলা হয়েছে, ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ নামে একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৫২ শতাংশ কমপক্ষে ১০ মিনিট ধরে গোসল করেন।

সংস্থাটির হিসাব অনুসারে, সাধারণ শাওয়ারে প্রতি মিনিটে ১০ থেকে ১৫ লিটার পানি ব্যবহার হয়। অর্থাৎ ১০ মিনিটের একটি গোসলে সর্বোচ্চ ১৫০ লিটার পানি ব্যবহার হতে পারে। পানি পরিশোধন, পাম্প করে সরবরাহ এবং গরম করার প্রতিটি ধাপই বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মানুষের তৈরি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন জনগোষ্ঠী হলো জেন জেড। একটি জরিপে অংশ নেওয়া জেন জেডদের ৭৩ শতাংশ বলেছেন, তারা জলবায়ু-সংক্রান্ত উদ্বেগে ভুগছেন।

৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মিলেনিয়ালদের প্রায় ৫৫ শতাংশ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তারা ‘চাপে’ বা ‘স্ট্রেসে’ আছেন। ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল করার কথা স্বীকার করেছেন ৩৯ শতাংশ মিলেনিয়াল। অন্যদিকে ৪৬ থেকে ৬১ বছর বয়সী জেন এক্স প্রজন্মের ২৮ শতাংশ বলেছেন, তারাও ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল করেন।

৬২ থেকে ৮০ বছর বয়সী বেবি বুমারদের ক্ষেত্রে মাত্র ১৬ শতাংশ বলেছেন, তাদের গোসল করতে ১০ মিনিট বা তার বেশি সময় লাগে।

সব বয়সী ২ হাজার ব্রিটিশ নাগরিকের ওপর জরিপটি চালায় ‘লেটস সেভ ওয়াটার’। সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করার প্রবণতা বেশি। জরিপে ২৭ শতাংশ নারী বলেছেন, তারা প্রতিদিন ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ১৯ শতাংশ।

‘লেটস সেভ ওয়াটারের’ এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই গ্রীষ্মে খরার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মনোযোগ তৈরি হয়েছে। ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ একটি সহজ বার্তা জোর দিয়ে তুলে ধরছে—পানি মূল্যবান। পানি রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে কম পানি ব্যবহার করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্করা মনে করেন, তারা দিনে গড়ে প্রায় ৩০ লিটার পানি ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রকৃত পরিমাণ এর কাছাকাছি ১৪০ লিটার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় প্রজন্মগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল করার সম্ভাবনা জেন জেডদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।’

পরিবেশবিষয়ক মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ইয়ান ওয়াকার বলেন, ‘মানুষ ইতোমধ্যেই পানি সাশ্রয়ের জন্য নিজেদের ভূমিকা রাখতে চায়, এটি উৎসাহজনক। বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বড় অংশ বর্তমানে খরা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের আওতায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আমরা সবাই ভিন্নভাবে পানি ব্যবহার করি। এর অর্থ হলো, পরিবর্তন আনার সুযোগও আমাদের সবার রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাঁত ব্রাশ করার সময় কল বন্ধ রাখা, কম সময় ধরে গোসল করা, ওয়াশিং মেশিন পুরোপুরি ভর্তি হওয়ার পর চালানো কিংবা পাইপের বদলে পানি দেওয়ার ক্যান ব্যবহার করার মতো ছোট ছোট পরিবর্তনও করা যায়। কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে এসব ছোট পরিবর্তন করলে বাড়িতে নেওয়া সামান্য পদক্ষেপও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।’

কখনো কখনো জীবনের কিছু গল্প শুনলে মনে হয়ে যেন সিনেমার কাহিনী। অবশ্য সিনেমাগুলো বাস্তবের ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় বেশির ভাগ সময়ই। কিন্তু বাস্তবতা কখনো কল্পনাকেও হার মানিয়ে দেয়। আর এমনই এক সিনেমাটিক জীবন মিনা ও মিনাল নামে দুই বান্ধবীর কিংবা বলা হয় দুই বোনের।

নোবেল পুরস্কারের কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। মানবজাতির জন্য অসাধারণ কাজ করা বিজ্ঞানীদের দেওয়া হয় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। তবে এর কিছুটা অদ্ভুত স্বভাবের এক ‘ভাই’ আছে, যার নাম ‘ইগ নোবেল’ পুরস্কার। এই পুরস্কার দেওয়া হয় এমন গবেষণাকে, যা ‘প্রথমে মানুষকে হাসায়, তারপর ভাবতে বাধ্য করে।’

গোসলের সময় প্রস্রাব করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ শুধু এই নয় যে, এতে এক ধরনের মুক্তি বা বিদ্রোহী রোমাঞ্চ অনুভূত হতে পারে। বরং গোসলের সময় প্রস্রাব করলে সামান্য হলেও পৃথিবীর পানিসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব। বিষয়টি একটু হিসাব করে দেখা যাক।

জনপ্রিয় টার্গেট

বিদেশফেরত যাত্রীকে ফেলে পাসপোর্ট-লাগেজ নিয়ে চলে গেল বাস, ৯৯৯-এ ফোনে উদ্ধার

জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই, কিন্তু গোসলে সর্বাধিক পানি অপচয় করে জেন–জিরা

প্রকাশ: ০১:১৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইউকের খবরে বলা হয়েছে, ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ নামে একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৫২ শতাংশ কমপক্ষে ১০ মিনিট ধরে গোসল করেন।

সংস্থাটির হিসাব অনুসারে, সাধারণ শাওয়ারে প্রতি মিনিটে ১০ থেকে ১৫ লিটার পানি ব্যবহার হয়। অর্থাৎ ১০ মিনিটের একটি গোসলে সর্বোচ্চ ১৫০ লিটার পানি ব্যবহার হতে পারে। পানি পরিশোধন, পাম্প করে সরবরাহ এবং গরম করার প্রতিটি ধাপই বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মানুষের তৈরি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন জনগোষ্ঠী হলো জেন জেড। একটি জরিপে অংশ নেওয়া জেন জেডদের ৭৩ শতাংশ বলেছেন, তারা জলবায়ু-সংক্রান্ত উদ্বেগে ভুগছেন।

৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মিলেনিয়ালদের প্রায় ৫৫ শতাংশ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তারা ‘চাপে’ বা ‘স্ট্রেসে’ আছেন। ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল করার কথা স্বীকার করেছেন ৩৯ শতাংশ মিলেনিয়াল। অন্যদিকে ৪৬ থেকে ৬১ বছর বয়সী জেন এক্স প্রজন্মের ২৮ শতাংশ বলেছেন, তারাও ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল করেন।

৬২ থেকে ৮০ বছর বয়সী বেবি বুমারদের ক্ষেত্রে মাত্র ১৬ শতাংশ বলেছেন, তাদের গোসল করতে ১০ মিনিট বা তার বেশি সময় লাগে।

সব বয়সী ২ হাজার ব্রিটিশ নাগরিকের ওপর জরিপটি চালায় ‘লেটস সেভ ওয়াটার’। সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করার প্রবণতা বেশি। জরিপে ২৭ শতাংশ নারী বলেছেন, তারা প্রতিদিন ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ১৯ শতাংশ।

‘লেটস সেভ ওয়াটারের’ এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই গ্রীষ্মে খরার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মনোযোগ তৈরি হয়েছে। ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ একটি সহজ বার্তা জোর দিয়ে তুলে ধরছে—পানি মূল্যবান। পানি রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে কম পানি ব্যবহার করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্করা মনে করেন, তারা দিনে গড়ে প্রায় ৩০ লিটার পানি ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রকৃত পরিমাণ এর কাছাকাছি ১৪০ লিটার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় প্রজন্মগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল করার সম্ভাবনা জেন জেডদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।’

পরিবেশবিষয়ক মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ইয়ান ওয়াকার বলেন, ‘মানুষ ইতোমধ্যেই পানি সাশ্রয়ের জন্য নিজেদের ভূমিকা রাখতে চায়, এটি উৎসাহজনক। বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বড় অংশ বর্তমানে খরা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের আওতায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আমরা সবাই ভিন্নভাবে পানি ব্যবহার করি। এর অর্থ হলো, পরিবর্তন আনার সুযোগও আমাদের সবার রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাঁত ব্রাশ করার সময় কল বন্ধ রাখা, কম সময় ধরে গোসল করা, ওয়াশিং মেশিন পুরোপুরি ভর্তি হওয়ার পর চালানো কিংবা পাইপের বদলে পানি দেওয়ার ক্যান ব্যবহার করার মতো ছোট ছোট পরিবর্তনও করা যায়। কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে এসব ছোট পরিবর্তন করলে বাড়িতে নেওয়া সামান্য পদক্ষেপও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।’

কখনো কখনো জীবনের কিছু গল্প শুনলে মনে হয়ে যেন সিনেমার কাহিনী। অবশ্য সিনেমাগুলো বাস্তবের ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় বেশির ভাগ সময়ই। কিন্তু বাস্তবতা কখনো কল্পনাকেও হার মানিয়ে দেয়। আর এমনই এক সিনেমাটিক জীবন মিনা ও মিনাল নামে দুই বান্ধবীর কিংবা বলা হয় দুই বোনের।

নোবেল পুরস্কারের কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। মানবজাতির জন্য অসাধারণ কাজ করা বিজ্ঞানীদের দেওয়া হয় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। তবে এর কিছুটা অদ্ভুত স্বভাবের এক ‘ভাই’ আছে, যার নাম ‘ইগ নোবেল’ পুরস্কার। এই পুরস্কার দেওয়া হয় এমন গবেষণাকে, যা ‘প্রথমে মানুষকে হাসায়, তারপর ভাবতে বাধ্য করে।’

গোসলের সময় প্রস্রাব করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ শুধু এই নয় যে, এতে এক ধরনের মুক্তি বা বিদ্রোহী রোমাঞ্চ অনুভূত হতে পারে। বরং গোসলের সময় প্রস্রাব করলে সামান্য হলেও পৃথিবীর পানিসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব। বিষয়টি একটু হিসাব করে দেখা যাক।