একের পর এক পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর হঠকারী এবং গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপকে নানাভাবে প্রতিবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে শিল্পের মাধ্যমে। আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করার পরেও আন্দোলন থেমে থাকেনি। ষাটের দশকের গোড়ার দিকেই যখন রবীন্দ্রনাথকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে বন্ধ করার আয়োজন চলছিল, তখন রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষ পালিত হয়েছিল। বিচারপতি মোর্শেদের নেতৃত্বে গঠিত রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন এ অঞ্চলের মানুষের প্রতিবাদী চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। তারপর ষাটের দশকজুড়ে আধুনিক গান, গণসংগীত, সাহিত্য, চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই তখনকার চলমান আন্দোলনের একটি বড় শক্তি হিসেবে মানুষের চেতনাকে শানিত করেছে।
এখানেই বিষয়টি থেমে থাকেনি। ক্রমান্বয়ে তা একটি সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়। দেখা যায়, একদিকে মুক্তিযোদ্ধারা বাঙ্কারে বসে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছেন, অন্যদিকে তাঁদের কণ্ঠেই ধ্বনিত হচ্ছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত গণসংগীত। রাখাল গরু চরাতে চরাতে ‘আমার সোনার বাংলা’ গান গাইছে। গুলির আঘাতে মুমূর্ষু মুক্তিযোদ্ধা ‘ও আমার দেশের মাটি’ গাইতে গাইতে শহীদ হয়ে গেছেন। বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব বিজয়ের সঙ্গে সংস্কৃতির ভূমিকা অবিচ্ছেদ্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও এই বাস্তবতা বেশ কিছু দিন বিরাজমান ছিল। কিন্তু একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি সুকৌশলে দ্বিজাতি তত্ত্ব ও বাঙালি মুসলমানের সাংস্কৃতিক দ্বিধাকে পুঁজি করে দেশটাকে বিভক্ত করে ফেলে।
এই বিভক্তির সংকটকে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন সংস্কৃতিচর্চা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সংস্কৃতিচর্চার সমগ্রটাই যদি সরকারের নির্দেশনা মতোই হয়, তাহলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। তাই এই কাজটি যথার্থ সংস্কৃতিকর্মীদের হাতে দিয়ে দেওয়াই একমাত্র উপায়। তর্ক-বিতর্ক চলুক, যার মধ্য দিয়ে সত্য প্রকাশ পাবে। আর সেই সঙ্গে নাটক, গান, কাব্য—এসবও স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দেখা যায়, যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও পেশিশক্তির একটা মহড়া শুরু হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা খুব বলিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন। কোনো অবস্থাতেই যেন মনে না হয়, কোনো বিশেষ গোষ্ঠী এসব অনুষ্ঠানকে তার নিজের রাজনৈতিক বিবেচনার মধ্যে না আনতে পারে।
অতীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোকে এমনকি একুশের অনুষ্ঠানমালায়ও দলীয় বিবেচনাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। যার ফলে মানুষের কাছে একটি একপেশে বার্তা প্রচার হয়েছে। এসব অনুষ্ঠান এবং অনুষ্ঠানের মধ্যে যে আলোচনাগুলো হয়েছে, তাতে তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে ইতিহাসের উপস্থাপনা পৌঁছায়নি বরং এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে তাদের বিকাশ হয়েছে। যদিও সমাজ ভেঙে পড়েছে, সরকারই সমাজকে বারবার ভেঙে ফেলে। তাকে পুনরুদ্ধার করা খুবই প্রয়োজন। সে কারণেই ইতিহাসের সত্যকে নিয়ে খোলামেলা আয়োজন খুবই জরুরি। কিন্তু এ আয়োজন বর্তমানে একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কেউ কারও কথা শুনতে চায় না। কারও যেন শেখাবার কিছু নেই। সুস্থ তর্ক-বিতর্কের পরিবর্তে পেশিশক্তি মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। ষাটের দশকে আমরা সুস্থ বিতর্ক দেখেছি। একেবারেই ভিন্ন মতের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করে আবার গলাগলি হয়ে বাড়ি ফিরে যেতেও দেখেছি। কিন্তু এখন সে পরিস্থিতি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে।
এখানে একটা প্রত্যাবর্তন দরকার। আমরা সে ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং এ অঞ্চলের মানুষের যেসব আন্দোলনের ইতিহাস আছে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে একটা নতুন গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত। অনেকেই বলবেন, অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। কিন্তু মহাকালের তুলনায় সময়টা তো একেবারেই অনুক্ষণ মাত্র। তাই কোনো কিছুই বিলম্ব নয়। যেকোনো জায়গা থেকেই শুরু করা যায়। অন্তত কালের বিচারের যে যাত্রা সেটির জন্য এটিও শুভক্ষণ হতে পারে। তবে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত। যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের স্বাধীনতা এবং যাঁরা রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছেন তাঁদের বিষয়ে।
এসব নিয়ে বহু গান, বহু নাটক, সাহিত্য, চারুকলা এবং আমাদের লোককাহিনিও রচিত হয়েছে। তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হৃদয়কে আবিষ্কার করা কোনো কঠিন কাজ নয়। তবে কঠিনেরে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।
গ্যাস নগরজীবনের এমন এক অপরিহার্য জ্বালানি, যার ওপর নির্ভর করে একটি পরিবারের রান্নাঘর থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা ও গণপরিবহনের বড় একটি অংশ। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তুলছে।
আগেও ছিল, তবে বর্তমানে গালিগালাজ বিষয়টির প্রচলন বেশ বেড়েছে। বর্তমানে তা কানে আসে, চোখে পড়ে মাত্রাতিরিক্তভাবে। আগে মানুষজনের মধ্যে গালিগালাজ করতে সংকোচবোধ দেখা গেলেও এখন সেটার কোনো বালাই দেখা যাচ্ছে না। গালিগালাজ করার প্রবণতা কম-বেশি অনেক ব্যক্তির মধ্যে বিরাজমান আছে।
চুরি করার চেষ্টা করেছে—অভিযোগটি সত্য হলেও কি কাউকে শিকল পরিয়ে রাস্তায় টানাহেঁচড়া করার অধিকার কারও আছে? তা-ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে যদি ঘটে এমন ঘটনা, তা কি আরও বেশি ব্যথিত করে না সচেতন মানুষকে? সিলেটে এক কিশোরীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমনই এক ঘটনা আমাদের সামনে এ ধরনের প্রশ্ন হাজির করছে।
দৈনিক টার্গেট 






















