শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে তরুণদের দায়িত্ব

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩১৭ বার পঠিত হয়েছে

তবে কিছুদিন আগেও শিক্ষামন্ত্রী ছাড়া অন্যরা শান্তিতে ছিলেন। তখন ছিল ‘শিক্ষা’ সিজন। তখন অবস্থা এমন ছিল যে প্রতিদিন কোনো না কোনো পরীক্ষা চলেছে, সেটা হোক এসএসসি, এইচএসসি, মেডিকেল ভর্তি কিংবা চাকরির পরীক্ষা। বিগত সরকারের আমলে কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন ‘আউট’ হলে, ব্যস! আগে শুনতাম শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁসে বিপদ। এখন ঝড়, বাদল, আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি, কেন্দ্রে পানি উঠেছে কি না সেই খবর নিয়েই মনে হয় মাননীয় মন্ত্রীকে ঘুমাতে যেতে হয়।

অথচ দেখুন, অন্য মন্ত্রীরা, যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোট-টাই পরে দেশ-বিদেশ ঘোরেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীও কোট-টাই পরে ঘোরেন। তবে সেটা দেশের ভেতরে পরীক্ষাকেন্দ্রে, বিভিন্ন সেন্টারে। নকল ধরতে। ২৫ বছর আগেও তিনি হেলিকপ্টার নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে নকল বন্ধ করেছেন। তখন তিনি ছিলেন সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিন্তু ভুলের জন্য ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী সেই সুযোগও পাননি। জানা যায়, তিনি ভারত সরকারের খুব প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। তিনিও কিন্তু ৩০ বছর আগের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রনেতা হিসেবে পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তনের আন্দোলন করে আজকের মন্ত্রী হয়েছিলেন।

এগুলোর উৎপত্তি কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। মন্ত্রী-এমপিসহ ঊর্ধ্বতনদের বেফাঁস মন্তব্য সরকারের জন্য বিপদ ডেকে আনে। বিগত সরকারের আমলেও কোটা আন্দোলনের উৎপত্তির দিকে তাকালেই দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরের মন্ত্রীদের দিনের পর দিন ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর বল প্রয়োগ, কোটা আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।

একই ঘটনা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও দেখা গেছে। দুই দেশেই আন্দোলনকারীদের পরিচয় যেমন এক, তেমনি আবার তারাই সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হয়েছে। কারণ তাঁদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। তাঁরা সবাই ছাত্র। দুই দেশেই এখন বেকারত্ব একটি জটিল সমস্যা। ভারত যেমন বড় অর্থনীতির দেশ, তেমনি তাঁদের জনসংখ্যা অনুযায়ী বেকারত্বও বেশি। তারা একসঙ্গে পরীক্ষা দেয় ২০ লাখ ছাত্র।

তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদেরই জয় হয়েছে। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে নতুন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি করার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন। যেটা রাজনৈতিক দলগুলো পারেনি, সেটা বিদেশ থেকে আসা এক ছাত্রের এক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গড়া তেলাপোকা পার্টি এক মাসের মধ্যে করে দেখিয়েছে। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষত সরকারে যারা আছে, তারা এখন এক বিপদে।

সময় এসেছে, আমাদের দেশেও পরীক্ষাপদ্ধতি আধুনিকায়ন করার; যোগ্য ও টেকনিক্যালি অভিজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষাপদ্ধতি কম্পিউটার-বেইজড করার। বছরের শুরুতে সবার হাতে বই তুলে দেওয়াকেই এখনো দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশাল অর্জন বলে রাজনৈতিক স্টান্টবাজি চলছে।

বিগত সরকারের সময়ে যোগ হয়েছিল আরেক রোগ। ঘন ঘন শিক্ষা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একই রোগের বালাই ছিল। একেক সরকার আসে আর শিক্ষা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে। ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থা এখানে উপযোগী না। ইউরোপে এক ক্লাসে ছাত্র ২০-২৫ জন। আর আমাদের এত ছাত্র, রোল কল করতে করতেই ক্লাসের ৪০ মিনিট শেষ! প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক চট্টগ্রামের নিউমার্কেট থেকে আড়াই ঘণ্টায় তিনটা বাস পরিবর্তন করে গ্রামের ভুজপুর স্কুলে পৌঁছান। ফেরার সময় জ্যামে তিন ঘণ্টা। কখন যে পড়ানোর সময় পান শিক্ষক!

আর উচ্চশিক্ষা হয়েছে ব্যবসা। শতবর্ষ সরকারি কলেজগুলোর মান উন্নয়ন না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যক্তিমালিকানায় বিগত সরকারগুলো কিছু মানহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে।

লেখক: গবেষক ও পরিচালক চট্টগ্রাম উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র

‘মার্ক্সবাদের ঐতিহাসিক বিকাশের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মার্ক্স সম্পর্কে এঙ্গেল্সের উদ্ধৃতি টেনে লেনিন বলেছিলেন, ‘আমরা যা প্রচার করেছি তা গুরুবাক্য কিছু নয়, তা হলো কর্মসাধনের পথসূচক মাত্র।

মাদ্রাসায় আবার শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। যে শিশুকে ছয় মাস ধরে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়েছে, তার বয়স সাত। ১২, ১৩, ১৫ বছরের কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীরা সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে। শুধু কি তাই? একই মাদ্রাসার শিক্ষকও যোগ দিয়েছে ধর্ষকদের দলে।

ধরুন, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বোকার মতো এক কাজ করে বসল। তখন নিশ্চয়ই সেই কাজটাকে ‘ফুলিশ’ কাজই মনে হবে। আর কাজটা যদি অপরাধমূলক হয় তাহলে? তখন কিন্তু শুধু ‘ফুলিশ’ বলে পার পাওয়া যাবে না। এখন বগুড়া পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

জনপ্রিয় টার্গেট

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০২ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে তরুণদের দায়িত্ব

প্রকাশ: ০৭:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তবে কিছুদিন আগেও শিক্ষামন্ত্রী ছাড়া অন্যরা শান্তিতে ছিলেন। তখন ছিল ‘শিক্ষা’ সিজন। তখন অবস্থা এমন ছিল যে প্রতিদিন কোনো না কোনো পরীক্ষা চলেছে, সেটা হোক এসএসসি, এইচএসসি, মেডিকেল ভর্তি কিংবা চাকরির পরীক্ষা। বিগত সরকারের আমলে কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন ‘আউট’ হলে, ব্যস! আগে শুনতাম শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁসে বিপদ। এখন ঝড়, বাদল, আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি, কেন্দ্রে পানি উঠেছে কি না সেই খবর নিয়েই মনে হয় মাননীয় মন্ত্রীকে ঘুমাতে যেতে হয়।

অথচ দেখুন, অন্য মন্ত্রীরা, যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোট-টাই পরে দেশ-বিদেশ ঘোরেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীও কোট-টাই পরে ঘোরেন। তবে সেটা দেশের ভেতরে পরীক্ষাকেন্দ্রে, বিভিন্ন সেন্টারে। নকল ধরতে। ২৫ বছর আগেও তিনি হেলিকপ্টার নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে নকল বন্ধ করেছেন। তখন তিনি ছিলেন সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিন্তু ভুলের জন্য ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী সেই সুযোগও পাননি। জানা যায়, তিনি ভারত সরকারের খুব প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। তিনিও কিন্তু ৩০ বছর আগের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রনেতা হিসেবে পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তনের আন্দোলন করে আজকের মন্ত্রী হয়েছিলেন।

এগুলোর উৎপত্তি কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। মন্ত্রী-এমপিসহ ঊর্ধ্বতনদের বেফাঁস মন্তব্য সরকারের জন্য বিপদ ডেকে আনে। বিগত সরকারের আমলেও কোটা আন্দোলনের উৎপত্তির দিকে তাকালেই দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরের মন্ত্রীদের দিনের পর দিন ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর বল প্রয়োগ, কোটা আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।

একই ঘটনা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও দেখা গেছে। দুই দেশেই আন্দোলনকারীদের পরিচয় যেমন এক, তেমনি আবার তারাই সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হয়েছে। কারণ তাঁদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। তাঁরা সবাই ছাত্র। দুই দেশেই এখন বেকারত্ব একটি জটিল সমস্যা। ভারত যেমন বড় অর্থনীতির দেশ, তেমনি তাঁদের জনসংখ্যা অনুযায়ী বেকারত্বও বেশি। তারা একসঙ্গে পরীক্ষা দেয় ২০ লাখ ছাত্র।

তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদেরই জয় হয়েছে। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে নতুন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি করার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন। যেটা রাজনৈতিক দলগুলো পারেনি, সেটা বিদেশ থেকে আসা এক ছাত্রের এক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গড়া তেলাপোকা পার্টি এক মাসের মধ্যে করে দেখিয়েছে। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষত সরকারে যারা আছে, তারা এখন এক বিপদে।

সময় এসেছে, আমাদের দেশেও পরীক্ষাপদ্ধতি আধুনিকায়ন করার; যোগ্য ও টেকনিক্যালি অভিজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষাপদ্ধতি কম্পিউটার-বেইজড করার। বছরের শুরুতে সবার হাতে বই তুলে দেওয়াকেই এখনো দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশাল অর্জন বলে রাজনৈতিক স্টান্টবাজি চলছে।

বিগত সরকারের সময়ে যোগ হয়েছিল আরেক রোগ। ঘন ঘন শিক্ষা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একই রোগের বালাই ছিল। একেক সরকার আসে আর শিক্ষা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে। ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থা এখানে উপযোগী না। ইউরোপে এক ক্লাসে ছাত্র ২০-২৫ জন। আর আমাদের এত ছাত্র, রোল কল করতে করতেই ক্লাসের ৪০ মিনিট শেষ! প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক চট্টগ্রামের নিউমার্কেট থেকে আড়াই ঘণ্টায় তিনটা বাস পরিবর্তন করে গ্রামের ভুজপুর স্কুলে পৌঁছান। ফেরার সময় জ্যামে তিন ঘণ্টা। কখন যে পড়ানোর সময় পান শিক্ষক!

আর উচ্চশিক্ষা হয়েছে ব্যবসা। শতবর্ষ সরকারি কলেজগুলোর মান উন্নয়ন না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যক্তিমালিকানায় বিগত সরকারগুলো কিছু মানহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে।

লেখক: গবেষক ও পরিচালক চট্টগ্রাম উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র

‘মার্ক্সবাদের ঐতিহাসিক বিকাশের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মার্ক্স সম্পর্কে এঙ্গেল্সের উদ্ধৃতি টেনে লেনিন বলেছিলেন, ‘আমরা যা প্রচার করেছি তা গুরুবাক্য কিছু নয়, তা হলো কর্মসাধনের পথসূচক মাত্র।

মাদ্রাসায় আবার শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। যে শিশুকে ছয় মাস ধরে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়েছে, তার বয়স সাত। ১২, ১৩, ১৫ বছরের কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীরা সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে। শুধু কি তাই? একই মাদ্রাসার শিক্ষকও যোগ দিয়েছে ধর্ষকদের দলে।

ধরুন, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বোকার মতো এক কাজ করে বসল। তখন নিশ্চয়ই সেই কাজটাকে ‘ফুলিশ’ কাজই মনে হবে। আর কাজটা যদি অপরাধমূলক হয় তাহলে? তখন কিন্তু শুধু ‘ফুলিশ’ বলে পার পাওয়া যাবে না। এখন বগুড়া পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?