নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পশুর আকৃতির একটি বেলুন ফেটে একটি অংশ ডন’ভায়ার আভিটা-মেস নামে ওই শিশুটির খাদ্যনালিতে আটকে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শিশুটির মা কিশা আভিটা-উইলসন জানান, তাঁর ছেলে ডন’ভায়ার আভিটা-মেস গত ২৪ অক্টোবর মারা যায়। তার প্রথম জন্মদিন ছিল এর ঠিক দুই দিন পর। পরিবারের সদস্যরা আদর করে শিশুটিকে ‘বেবি ডন’ বলে ডাকতেন।
কিশা বলেন, ‘আমরা বেবি ডনের কাছ থেকে বেলুনগুলো দূরে রাখছিলাম। কিন্তু একটি বেলুনের বাঁধন খুলে যায়। সে বেলুনটি হাতে নেয় এবং কামড় দেয়। কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেলুনের বাঁধা অংশটি ছিটকে গিয়ে তার খাদ্যনালির নিচের দিকে আটকে যায়।’
এরপরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে কিশা বলেন, ‘ডনকে সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করি। গলার ভেতর আঙুল ঢুকিয়েও বেলুনের টুকরোটি বের করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে নীল হয়ে যেতে শুরু করে। তার হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা জরুরি সেবাকর্মীরাও শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান শিশুটির মা। কিন্তু তাঁদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
শিশুটির খালা মেরি লট জানান, ‘খুবই মিষ্টি ছেলে ছিল ডন। তার হাসিতে ঘর আলো হয়ে থাকত। তাকে সবাই ভালোবাসত।’
পরিবারটি আরও জানিয়েছে, কিশা বর্তমানে ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। মানসিক চাপের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসববেদনা শুরু হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মেরি লট বলেন, ‘আমরা সবাইকে কিশা, তার মেয়েদের এবং বিশেষ করে তার অনাগত সন্তানের জন্য প্রার্থনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে সাবধানতা অবলম্বনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আনন্দের অনুষঙ্গ হিসেবে বেলুনের ব্যবহার খুবই সাধারণ। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশু ও ছোটদের আশপাশে বেলুন রাখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে ল্যাটেক্সের তৈরি বেলুন এবং না-ফোলানো বেলুনের টুকরা অল্প বয়সী শিশুদের জন্য দ্রুত শ্বাসরোধের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বেলুন ফেটে গেলে তার টুকরাগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা প্রয়োজন।

দৈনিক টার্গেট 






















