দেশে পৌনে চার কোটি মানুষ এখনো নিরক্ষর

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

ওই অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এর অর্থ জনসংখ্যার ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ এখনো নিরক্ষর। তারা মূলত বিদ্যালয়বহির্ভূত বা ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। এমন বাস্তবতায় আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য–‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৪ কোটি বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই বিপুল মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, ২০৩০ সাল হতে সময় রয়েছে কয়েক বছর। এই সময়ের মধ্যে প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা জরুরি। এরপর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা করে তাঁদের সাক্ষরতার আওতায় আনতে হবে।

জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতি আছে।

তবে এখনো পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর, এটা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর এলাকাভেদে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতিসংঘের ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়তে চায় বাংলাদেশ। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও সাক্ষরতা অর্জনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে বিপুলসংখ্যক নিরক্ষর মানুষকে স্বাক্ষরজ্ঞান দিতে দৃশ্যমান তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। গত দুই-তিন বছরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো তেমন কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেনি। এর প্রভাব পড়েছে সাক্ষরতার হারে।

সাক্ষরতা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা আশা করছেন, ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬-৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাক্ষরতার হার বাড়াতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য, এখনো উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে আছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে দেড় শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।’

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক। আজ সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া…

জ্বালানি ও গ্যাস-সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮ সালে আরও বেশি স্বস্তি ও ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে জ্বালানিসংকটমুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা।

জনপ্রিয় টার্গেট

তিন বছরে ইসরায়েল ছেড়েছেন ১৪০০ চিকিৎসক

দেশে পৌনে চার কোটি মানুষ এখনো নিরক্ষর

প্রকাশ: ১২:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওই অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এর অর্থ জনসংখ্যার ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ এখনো নিরক্ষর। তারা মূলত বিদ্যালয়বহির্ভূত বা ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। এমন বাস্তবতায় আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য–‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৪ কোটি বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই বিপুল মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, ২০৩০ সাল হতে সময় রয়েছে কয়েক বছর। এই সময়ের মধ্যে প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা জরুরি। এরপর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা করে তাঁদের সাক্ষরতার আওতায় আনতে হবে।

জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতি আছে।

তবে এখনো পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর, এটা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর এলাকাভেদে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতিসংঘের ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়তে চায় বাংলাদেশ। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও সাক্ষরতা অর্জনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে বিপুলসংখ্যক নিরক্ষর মানুষকে স্বাক্ষরজ্ঞান দিতে দৃশ্যমান তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। গত দুই-তিন বছরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো তেমন কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেনি। এর প্রভাব পড়েছে সাক্ষরতার হারে।

সাক্ষরতা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা আশা করছেন, ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬-৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাক্ষরতার হার বাড়াতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য, এখনো উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে আছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে দেড় শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।’

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক। আজ সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া…

জ্বালানি ও গ্যাস-সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮ সালে আরও বেশি স্বস্তি ও ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে জ্বালানিসংকটমুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা।