গালিগালাজ, মব আর অপরাজনীতি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ বার পঠিত হয়েছে

রাষ্ট্রে যখন যেকোনো অপরাধ নির্মূলে দলমত-নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ার চেতনা দৃশ্যমান হয় না, সবার কাছে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে একমত পোষণ করা হয় না, তখন কিন্তু যে কোনো অপরাধই কমে না, বরং বাড়ে এবং নতুন নতুন অপরাধের জন্ম হয়। মবের মতো একটা ঘটনা সমাজে যখন ঘটে, তখন তার প্রতিবাদ না করে, দ্বিতীয় মবের ঘটনার প্রতিবাদ করাটা রীতিমতো হাস্যকর এবং বোকামি তো বটে।

মব শুরু থেকে প্রতিরোধ করার প্রয়োজন ছিল। তাহলে আজ তা এভাবে ডালপালা ছড়াতে পারত না। সমাজে অপরাধ যত দ্রুত ছড়ায়, ন্যায়সংগত কাজ তত দ্রুত ছড়ায় না। আর বৈষম্যমূলক সমাজ হলে তো কথাই নেই, সুবিধাভোগীদের জন্য অপরাধময় সমাজব্যবস্থাই কায়েম হয়।

শিষ্টাচার, সদাচরণ, পরমতসহিষ্ণুতা—এই ধরনের কিছু শব্দ ছিল বাংলা ভাষায়। কিন্তু বর্তমানে তা কি আর্কাইভাল ভ্যালু পেয়ে গেল? ব্যবহার না হতে হতে তারা অভিধানে স্থান করে নিয়ে ঘুমিয়ে গেছে কি? নট নড়ন-চড়ন। ফলে নতুন যুগের নতুন শব্দমালার সঙ্গে পরিচয় না থাকলে কপালে বিপদ এসে ভিড় করতে পারে।

জুলাই সনদ যখন গণভোটে অনুমোদিত হলো, তার ভেতরে একটি নিঃশব্দ অঙ্গীকার ছিল: এমন একটি রাষ্ট্র, যা আর তার নাগরিককে রাতের অন্ধকারে গুম করে দেবে না। শহীদ মিনারের সিঁড়িতে যে মায়েরা এক দশক ধরে সন্তানের ল্যামিনেট-করা ছবি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন—‘মায়ের ডাক’-এর সেই মুখগুলো—তাঁদের কাছে ওই অঙ্গীকারই…

এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে ১০০২ শিশু হাম এবং হামের উপসর্গে মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা জানি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা ক্রয়জনিত সংকটের কারণে এ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছয় মাসের বেশি সময় পার করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

বাংলাবাজারে ইউপিএলের বিক্রয়কেন্দ্রে স্থানীয়দের তালা

গালিগালাজ, মব আর অপরাজনীতি

প্রকাশ: ০৭:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রে যখন যেকোনো অপরাধ নির্মূলে দলমত-নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ার চেতনা দৃশ্যমান হয় না, সবার কাছে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে একমত পোষণ করা হয় না, তখন কিন্তু যে কোনো অপরাধই কমে না, বরং বাড়ে এবং নতুন নতুন অপরাধের জন্ম হয়। মবের মতো একটা ঘটনা সমাজে যখন ঘটে, তখন তার প্রতিবাদ না করে, দ্বিতীয় মবের ঘটনার প্রতিবাদ করাটা রীতিমতো হাস্যকর এবং বোকামি তো বটে।

মব শুরু থেকে প্রতিরোধ করার প্রয়োজন ছিল। তাহলে আজ তা এভাবে ডালপালা ছড়াতে পারত না। সমাজে অপরাধ যত দ্রুত ছড়ায়, ন্যায়সংগত কাজ তত দ্রুত ছড়ায় না। আর বৈষম্যমূলক সমাজ হলে তো কথাই নেই, সুবিধাভোগীদের জন্য অপরাধময় সমাজব্যবস্থাই কায়েম হয়।

শিষ্টাচার, সদাচরণ, পরমতসহিষ্ণুতা—এই ধরনের কিছু শব্দ ছিল বাংলা ভাষায়। কিন্তু বর্তমানে তা কি আর্কাইভাল ভ্যালু পেয়ে গেল? ব্যবহার না হতে হতে তারা অভিধানে স্থান করে নিয়ে ঘুমিয়ে গেছে কি? নট নড়ন-চড়ন। ফলে নতুন যুগের নতুন শব্দমালার সঙ্গে পরিচয় না থাকলে কপালে বিপদ এসে ভিড় করতে পারে।

জুলাই সনদ যখন গণভোটে অনুমোদিত হলো, তার ভেতরে একটি নিঃশব্দ অঙ্গীকার ছিল: এমন একটি রাষ্ট্র, যা আর তার নাগরিককে রাতের অন্ধকারে গুম করে দেবে না। শহীদ মিনারের সিঁড়িতে যে মায়েরা এক দশক ধরে সন্তানের ল্যামিনেট-করা ছবি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন—‘মায়ের ডাক’-এর সেই মুখগুলো—তাঁদের কাছে ওই অঙ্গীকারই…

এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে ১০০২ শিশু হাম এবং হামের উপসর্গে মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা জানি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা ক্রয়জনিত সংকটের কারণে এ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছয় মাসের বেশি সময় পার করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।