দেশের অর্থনীতিতে কৃষিখাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সুরক্ষায় কার্যকর কাঠামোর অভাব ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার এবার চালু করতে যাচ্ছে ‘কৃষি কার্ড’-যার মাধ্যমে কৃষকদের জন্য একাধিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০ হাজার কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবেন। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক-এই তিন শ্রেণির কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এই প্রকল্পে।
প্রকল্পের আওতায় কার্ডধারী কৃষকরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধাও সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কী সুবিধা মিলবে কৃষি কার্ডে
এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা একাধিক সুবিধা একত্রে পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে-
১।সরাসরি নগদ সহায়তা ও সরকারি ভর্তুকি
২।ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহের সুযোগ
৩।সহজ শর্তে কৃষিঋণ গ্রহণ
৪।শস্য ও কৃষি বিমার সুবিধা
৫।কৃষি খাতে প্রণোদনা প্রাপ্তি
সেচ সুবিধায় সহায়তা
১।উৎপাদিত ফসল সরাসরি বাজারজাত করার সুযোগ
২।আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে সহায়তা
৩।উন্নত কৃষি প্রশিক্ষণ
৪।আবহাওয়া ও রোগবালাই সংক্রান্ত ডিজিটাল পরামর্শ
এছাড়া ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য গড়ে মাসিক ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কারা পাবেন এই কার্ড
দেশের ৮টি বিভাগের ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধাপে ধাপে এটি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে।
নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য
কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের কিছু তথ্য জমা দিতে হবে। যেমন:
১।জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
২।সাম্প্রতিক তোলা ছবি
৩।মোবাইল নম্বর
৪।জমির মালিকানা বা চাষের প্রমাণপত্র
৫।ব্যাংক বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট তথ্য
কীভাবে পাওয়া যাবে কার্ড
এই কার্ড পাওয়ার জন্য স্থানীয় কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে:
প্রথমে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফরম পূরণ করে নিবন্ধন করতে হবে, যা কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনেও করা যাবে।
নিবন্ধনের পর কৃষকের দেওয়া তথ্য মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে এনআইডি ও মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে। সবশেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কার্ড বিতরণ করা হবে।
সতর্কতা
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য কৃষকদের সতর্ক করা হয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
দৈনিক টার্গেট 


















