গরমে ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত হয়েছে

মৌসুমি ফল

প্রচণ্ড গরমে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল রাখার বিকল্প নেই। পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রীষ্মের বিভিন্ন ফলে প্রচুর পানি, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ থাকে, যা শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে, হজমে সহায়তা করতে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর তরল ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায় তরমুজ, বাঙ্গি, জাম, পেয়ারা, লিচু কিংবা অন্যান্য মৌসুমি ফল শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে ফলের ওপর নির্ভর করলেই হবে না; পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করাও সমান জরুরি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসগুলোর মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাদ্যতালিকা অন্যতম। এই খাদ্যাভ্যাসে ফল, শাকসবজি, ডাল, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও মাছকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত এমন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে ফল যতই উপকারী হোক, তা অতিরিক্ত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ অনেক ফলেই প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাদের ফল বেছে খাওয়া উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফল খাওয়ার পর রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে কোন ফল শরীরের জন্য কতটা উপযোগী, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। কারণ একই ফল ভিন্ন ব্যক্তির শরীরে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু ফল, যেমন আম, আঙুর ও ডুমুর তুলনামূলক বেশি প্রাকৃতিক চিনি বহন করে। তাই এসব ফল একসঙ্গে বেশি না খেয়ে সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, একবারে অনেক ফল খাওয়ার পরিবর্তে দিনের বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট পরিমাণে ফল খাওয়া ভালো। দিনে দুই থেকে চারবার পরিমিত পরিমাণে ফল গ্রহণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, পাশাপাশি রক্তে শর্করার আকস্মিক ওঠানামার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে।

সব মিলিয়ে, গ্রীষ্মকালে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মৌসুমি ফল হতে পারে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় রেখে ফল নির্বাচন করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

গরমে ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম

প্রকাশ: ০৩:০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

প্রচণ্ড গরমে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল রাখার বিকল্প নেই। পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রীষ্মের বিভিন্ন ফলে প্রচুর পানি, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ থাকে, যা শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে, হজমে সহায়তা করতে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর তরল ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায় তরমুজ, বাঙ্গি, জাম, পেয়ারা, লিচু কিংবা অন্যান্য মৌসুমি ফল শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে ফলের ওপর নির্ভর করলেই হবে না; পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করাও সমান জরুরি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসগুলোর মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাদ্যতালিকা অন্যতম। এই খাদ্যাভ্যাসে ফল, শাকসবজি, ডাল, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও মাছকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত এমন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে ফল যতই উপকারী হোক, তা অতিরিক্ত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ অনেক ফলেই প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাদের ফল বেছে খাওয়া উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফল খাওয়ার পর রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে কোন ফল শরীরের জন্য কতটা উপযোগী, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। কারণ একই ফল ভিন্ন ব্যক্তির শরীরে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু ফল, যেমন আম, আঙুর ও ডুমুর তুলনামূলক বেশি প্রাকৃতিক চিনি বহন করে। তাই এসব ফল একসঙ্গে বেশি না খেয়ে সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, একবারে অনেক ফল খাওয়ার পরিবর্তে দিনের বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট পরিমাণে ফল খাওয়া ভালো। দিনে দুই থেকে চারবার পরিমিত পরিমাণে ফল গ্রহণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, পাশাপাশি রক্তে শর্করার আকস্মিক ওঠানামার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে।

সব মিলিয়ে, গ্রীষ্মকালে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মৌসুমি ফল হতে পারে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় রেখে ফল নির্বাচন করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।