৯০ দশকের মোহ কেন আমাদের কাটছে না

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:২৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে নব্বইয়ের দশক ছিল সাদামাটা অথচ বিদ্রোহী এক সৃজনশীলতার সময়। আশির দশকের চাকচিক্য ও ভোগবাদকে পেছনে ফেলে তরুণেরা তৈরি করেছিল নতুন এক সংস্কৃতি। ইন্ডি ম্যাগাজিন, হিপহপ, রেভ সংস্কৃতি এবং তরুণ শিল্পীদের কাজ তৈরি করেছিল এক ভিন্ন নান্দনিকতা। সেই সময়ের শিল্প ও ফ্যাশনকে কেন্দ্র করেই লন্ডনের টেট ব্রিটেনে আয়োজন করা হয়েছে এক প্রদর্শনী। শতাধিক ছবি, ভাস্কর্য ও পোশাকের মাধ্যমে সেখানে তুলে ধরা হয়েছে নব্বইয়ের সেই সৃজনশীল উন্মাদনা।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ভিনকা পিটারসেনের কাজ। তাঁর ছবিতে ধরা পড়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের আন্ডারগ্রাউন্ড রেভ সংস্কৃতি—নিজেদের তৈরি সাউন্ড সিস্টেম, পরিত্যক্ত গুদামঘরে রাতভর নাচ, ভোরের ক্লান্তি এবং বন্ধুত্ব। তখনকার তরুণদের কাছে সংস্কৃতি মানে ছিল অংশ নেওয়া, দর্শক হয়ে থাকা নয়।

ফটোগ্রাফার ইউর্গেন টেলারও নব্বইয়ের দশকের সেই স্বতঃস্ফূর্ততার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। কিশোরী কেট মস-সহ অসংখ্য তরুণ মডেলের অপ্রস্তুত, অসম্পূর্ণ, কখনো অস্বস্তিকর মুহূর্ত তিনি ক্যামেরায় ধরেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে নতুন মুখ ও বৈচিত্র্যকে সামনে আনা।

আজকের তরুণদের নব্বইয়ের প্রতি আকর্ষণের পেছনে তাই শুধু পোশাক বা গান নয়, আছে এক ধরনের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাও। মনোবিজ্ঞানী ক্লে রাউটলেজের মতে, এটি প্রযুক্তিবিরোধিতা নয়; বরং প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটি কীভাবে আরও অর্থপূর্ণ করা যায়, সেই প্রশ্ন।

লন্ডনের পরিত্যক্ত শিল্প-গুদামগুলো হয়ে উঠেছিল শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীদের আড্ডা। শিল্পীরা প্রচলিত গ্যালারির বাইরে কাজ করার জায়গা পেয়েছিলেন। তরুণেরা তৈরি করেছিল নিজেদের সংস্কৃতি। ভিনকা পিটারসেনের মতে, লন্ডনের স্কোয়াটে থাকা মানুষদের ভাড়া নিয়ে কম ভাবতে হতো বলে তারা বেশি সময় পেত। আর সময় মানেই ছিল সৃজনশীলতার সুযোগ।

তবে নব্বইয়ের দশককে পুরোপুরি আদর্শ সময় ভাবারও সুযোগ নেই। ‘হেরোইন চিক’ ফ্যাশন, বর্ণবৈষম্য, যৌনতা ও পরিচয় নিয়ে সংকীর্ণতা—সবই ছিল। তৎকালীন ফ্যাশনজগতের ক্ষমতার কাঠামোও ছিল অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত। কৃষ্ণাঙ্গ মডেল ও শিল্পীদের জায়গা করে নিতে লড়াই করতে হয়েছে।

তাহলে আমরা কেন বারবার সেই দশকে ফিরছি?

কারণ সম্ভবত বর্তমানের দ্রুতগতির পৃথিবীতে আমরা অতীত থেকে ভবিষ্যতের কিছু উত্তর খুঁজছি। ফ্যাশনে যখন নতুন ধারণার সংকট তৈরি হয়, তখন পুরোনো নকশা ফিরে আসে। সংস্কৃতিতেও তাই। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের প্রতি আকর্ষণ শুধু পুরোনো পোশাক বা গানের প্রতি নস্টালজিয়া নয়; এটি হয়তো এমন এক জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা, যেখানে প্রযুক্তি ছিল—কিন্তু প্রযুক্তি আমাদের পুরো জীবন হয়ে ওঠেনি।

আজকের তরুণেরা হয়তো নব্বইয়ের দশককে স্মরণ করছে না; তারা সেটিকে নতুন করে আবিষ্কার করছে। অতীত থেকে তারা খুঁজে নিচ্ছে এমন কিছু ধারণা, যা ভবিষ্যৎকে আরও মানবিক করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত নব্বইয়ের দশকের আসল আকর্ষণ হয়তো তার ফ্যাশন, গান কিংবা সিনেমায় নয়। আকর্ষণটি ছিল সময় পাওয়ায়, বাস্তব মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগে, নিজের মতো করে কিছু তৈরি করার স্বাধীনতায় এবং সবকিছু প্রকাশ না করেও বেঁচে থাকার ক্ষমতায়।

আর হয়তো সে কারণেই ২০২৬ সালেও আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই নব্বইয়ের দশকে ফিরতে চাই, নাকি নব্বইয়ের সেই স্বাধীনতাটুকু নিজেদের বর্তমান জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই?

মূল বরফের মহাদেশে পৌঁছানোর আগে দীর্ঘ রুটে মালভিনাস ও সাউথ জর্জিয়া—এই দুটি দ্বীপকে অন্তর্ভুক্ত করা পুরো অভিযানের অভিজ্ঞতার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই দ্বীপগুলো দক্ষিণ মহাসাগরের অতি-সংবেদনশীল ও সমৃদ্ধ প্রাণবৈচিত্র্যের সঙ্গে অভিযাত্রীদের প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়।

আমরা কমবেশি সবাই কাজের ফাঁকে বা অবসর সময়ে মনকে একটু ডানা মেলতে দিই, কিছুটা দিবাস্বপ্ন বা ডে-ড্রিমিং করি। এটি স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সেই রঙিন কল্পনা এতটাই ঘনীভূত ও তীব্র হয় যে তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস্তব জীবন থেকে তাঁদের দূরে সরিয়ে রাখে।

শরতের স্নিগ্ধ আলোয় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ সেজেছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে তুলার মতো সাদা মেঘ। মেঘের ছায়া হ্রদের বিস্তীর্ণ নীলাভ জলরাশিতে পড়েছে। চারপাশের প্রগাঢ় সবুজ পাহাড়গুলো যেন আরও জীবন্ত ও ঝলমলে হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

পাকিস্তান সরে যাওয়ায় এশিয়ার বনেদি মঞ্চে বাংলাদেশ

৯০ দশকের মোহ কেন আমাদের কাটছে না

প্রকাশ: ১২:২৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে নব্বইয়ের দশক ছিল সাদামাটা অথচ বিদ্রোহী এক সৃজনশীলতার সময়। আশির দশকের চাকচিক্য ও ভোগবাদকে পেছনে ফেলে তরুণেরা তৈরি করেছিল নতুন এক সংস্কৃতি। ইন্ডি ম্যাগাজিন, হিপহপ, রেভ সংস্কৃতি এবং তরুণ শিল্পীদের কাজ তৈরি করেছিল এক ভিন্ন নান্দনিকতা। সেই সময়ের শিল্প ও ফ্যাশনকে কেন্দ্র করেই লন্ডনের টেট ব্রিটেনে আয়োজন করা হয়েছে এক প্রদর্শনী। শতাধিক ছবি, ভাস্কর্য ও পোশাকের মাধ্যমে সেখানে তুলে ধরা হয়েছে নব্বইয়ের সেই সৃজনশীল উন্মাদনা।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ভিনকা পিটারসেনের কাজ। তাঁর ছবিতে ধরা পড়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের আন্ডারগ্রাউন্ড রেভ সংস্কৃতি—নিজেদের তৈরি সাউন্ড সিস্টেম, পরিত্যক্ত গুদামঘরে রাতভর নাচ, ভোরের ক্লান্তি এবং বন্ধুত্ব। তখনকার তরুণদের কাছে সংস্কৃতি মানে ছিল অংশ নেওয়া, দর্শক হয়ে থাকা নয়।

ফটোগ্রাফার ইউর্গেন টেলারও নব্বইয়ের দশকের সেই স্বতঃস্ফূর্ততার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। কিশোরী কেট মস-সহ অসংখ্য তরুণ মডেলের অপ্রস্তুত, অসম্পূর্ণ, কখনো অস্বস্তিকর মুহূর্ত তিনি ক্যামেরায় ধরেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে নতুন মুখ ও বৈচিত্র্যকে সামনে আনা।

আজকের তরুণদের নব্বইয়ের প্রতি আকর্ষণের পেছনে তাই শুধু পোশাক বা গান নয়, আছে এক ধরনের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাও। মনোবিজ্ঞানী ক্লে রাউটলেজের মতে, এটি প্রযুক্তিবিরোধিতা নয়; বরং প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটি কীভাবে আরও অর্থপূর্ণ করা যায়, সেই প্রশ্ন।

লন্ডনের পরিত্যক্ত শিল্প-গুদামগুলো হয়ে উঠেছিল শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীদের আড্ডা। শিল্পীরা প্রচলিত গ্যালারির বাইরে কাজ করার জায়গা পেয়েছিলেন। তরুণেরা তৈরি করেছিল নিজেদের সংস্কৃতি। ভিনকা পিটারসেনের মতে, লন্ডনের স্কোয়াটে থাকা মানুষদের ভাড়া নিয়ে কম ভাবতে হতো বলে তারা বেশি সময় পেত। আর সময় মানেই ছিল সৃজনশীলতার সুযোগ।

তবে নব্বইয়ের দশককে পুরোপুরি আদর্শ সময় ভাবারও সুযোগ নেই। ‘হেরোইন চিক’ ফ্যাশন, বর্ণবৈষম্য, যৌনতা ও পরিচয় নিয়ে সংকীর্ণতা—সবই ছিল। তৎকালীন ফ্যাশনজগতের ক্ষমতার কাঠামোও ছিল অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত। কৃষ্ণাঙ্গ মডেল ও শিল্পীদের জায়গা করে নিতে লড়াই করতে হয়েছে।

তাহলে আমরা কেন বারবার সেই দশকে ফিরছি?

কারণ সম্ভবত বর্তমানের দ্রুতগতির পৃথিবীতে আমরা অতীত থেকে ভবিষ্যতের কিছু উত্তর খুঁজছি। ফ্যাশনে যখন নতুন ধারণার সংকট তৈরি হয়, তখন পুরোনো নকশা ফিরে আসে। সংস্কৃতিতেও তাই। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের প্রতি আকর্ষণ শুধু পুরোনো পোশাক বা গানের প্রতি নস্টালজিয়া নয়; এটি হয়তো এমন এক জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা, যেখানে প্রযুক্তি ছিল—কিন্তু প্রযুক্তি আমাদের পুরো জীবন হয়ে ওঠেনি।

আজকের তরুণেরা হয়তো নব্বইয়ের দশককে স্মরণ করছে না; তারা সেটিকে নতুন করে আবিষ্কার করছে। অতীত থেকে তারা খুঁজে নিচ্ছে এমন কিছু ধারণা, যা ভবিষ্যৎকে আরও মানবিক করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত নব্বইয়ের দশকের আসল আকর্ষণ হয়তো তার ফ্যাশন, গান কিংবা সিনেমায় নয়। আকর্ষণটি ছিল সময় পাওয়ায়, বাস্তব মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগে, নিজের মতো করে কিছু তৈরি করার স্বাধীনতায় এবং সবকিছু প্রকাশ না করেও বেঁচে থাকার ক্ষমতায়।

আর হয়তো সে কারণেই ২০২৬ সালেও আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই নব্বইয়ের দশকে ফিরতে চাই, নাকি নব্বইয়ের সেই স্বাধীনতাটুকু নিজেদের বর্তমান জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই?

মূল বরফের মহাদেশে পৌঁছানোর আগে দীর্ঘ রুটে মালভিনাস ও সাউথ জর্জিয়া—এই দুটি দ্বীপকে অন্তর্ভুক্ত করা পুরো অভিযানের অভিজ্ঞতার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই দ্বীপগুলো দক্ষিণ মহাসাগরের অতি-সংবেদনশীল ও সমৃদ্ধ প্রাণবৈচিত্র্যের সঙ্গে অভিযাত্রীদের প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়।

আমরা কমবেশি সবাই কাজের ফাঁকে বা অবসর সময়ে মনকে একটু ডানা মেলতে দিই, কিছুটা দিবাস্বপ্ন বা ডে-ড্রিমিং করি। এটি স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সেই রঙিন কল্পনা এতটাই ঘনীভূত ও তীব্র হয় যে তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস্তব জীবন থেকে তাঁদের দূরে সরিয়ে রাখে।

শরতের স্নিগ্ধ আলোয় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ সেজেছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে তুলার মতো সাদা মেঘ। মেঘের ছায়া হ্রদের বিস্তীর্ণ নীলাভ জলরাশিতে পড়েছে। চারপাশের প্রগাঢ় সবুজ পাহাড়গুলো যেন আরও জীবন্ত ও ঝলমলে হয়ে উঠেছে।