ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই মর্মে রায় দেন।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে এ আদেশ আসে। এর ফলে হাইকোর্টের পূর্বের রায় স্থগিত হয় এবং ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ সেপ্টেম্বরই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক
ফরহাদের প্রার্থিতা নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ নামের বামপন্থি জোটের প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম একটি রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টে রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। তবে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলে ফরহাদ স্বপক্ষে রায় পেলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির অবশ্য আদালতে দাবি করেন, “ছাত্রলীগ করার কারণে নয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল।” তবে আপিল বিভাগ তা বহাল রাখেনি।
নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
ডাকসুর এবারের নির্বাচনে মোট ২৮টি পদে লড়ছেন ৪৭১ প্রার্থী। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের ১৩টি করে পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজারেরও বেশি প্রার্থী।
এবার ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ এবং কয়েকটি বাম সংগঠনসহ প্রায় ১০টি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪ জোটে যুক্ত হয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং জাসদ ছাত্রলীগ (বিসিএল)।
অন্যদিকে, শিবিরের পক্ষ থেকে ভিপি পদে সাদিক কায়েম এবং জিএস পদে ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে ফরহাদের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে ৯ সেপ্টেম্বরের ভোটে, যেখানে প্রায় এক দশক পর আবারো সরব হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন।














