পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা-কে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুস সালাম। বৃহস্পতিবার উপজেলার ১নং মাধবখালী ইউনিয়নের নিউমার্কেট বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, মাধবখালী ইউনিয়ন সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী-এর এলাকা। এ ইউনিয়নে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা অপরাধীর স্থান হবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান। বিশেষ করে তরমুজ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। “কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হলে তা বরদাশত করা হবে না। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে,” -বলেন তিনি।
ওসি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উপস্থিত জনগণকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা জানিয়ে বলেন, “কেউ যদি চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হন, তাহলে প্রমাণসহ আমাকে জানাবেন। প্রয়োজনে ছবি বা ভিডিও পাঠান, আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
সভায় বক্তব্য দেন মির্জাগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) খান নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্প্রতি তরমুজ ব্যবসায়ীদের নিয়ে রাতের বৈঠকে কিছু বহিরাগত চাঁদাবাজের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। বাকেরগঞ্জ এলাকার রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে আসা একাধিক ব্যক্তি এখানে চাঁদাবাজির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, অন্য উপজেলার কেউ এসে মির্জাগঞ্জে চাঁদাবাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হিউম্যান ক্রাইম রিপোর্ট ফাউন্ডেশন-এর বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের কঠোর নির্দেশ রয়েছে- এলাকায় কোনো দখলবাজি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। তিনি অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিচার দাবি করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, জমি দখল ও সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সভায় স্থানীয় তরমুজ ব্যবসায়ীরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আমতলী থেকে আসা ব্যবসায়ী মোসাম্মৎ খাদিজা ও রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে তাদের তরমুজ চুরি হওয়া, জোরপূর্বক চাঁদা দাবি এবং হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রতিকার কামনা করেন। এছাড়া কিছু স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উত্থাপিত হয়।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সমাজ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা মির্জাগঞ্জকে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। নারী নেত্রী আয়েশা কানুন রানী নারী নির্যাতন, ইভটিজিং ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সত্তার হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সম্মিলিতভাবে মির্জাগঞ্জ উপজেলাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করে একটি আদর্শ ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

দৈনিক টার্গেট 
























