দীর্ঘ ৩০ বছর পর আলোচিত মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি

কবর থেকে তোলা হবে সালমান শাহর লাশ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ১৩৪ বার পঠিত হয়েছে

সালমান শাহ

প্রায় তিন দশক আগে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনকে নাড়িয়ে দেওয়া জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। বহুল আলোচিত এ মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সম্প্রতি এক আদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত সম্পন্নের অনুমোদন দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের আগে কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব কার্যক্রম শেষ হলে মরদেহ উত্তোলনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, আধুনিক পদ্ধতিতে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসভবনে সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তবে মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। পরিবারের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। সেই অভিযোগের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়।

গত বছরের অক্টোবরে আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এরপর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সালমান শাহর মৃত্যুর সময় ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সন্দেহের জন্ম দেয়। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন তার শরীরে কিছু অস্বাভাবিক চিহ্ন দেখা গিয়েছিল, যা মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরদেহ উত্তোলন ও পুনরায় ফরেনসিক পরীক্ষা এই বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। দীর্ঘদিনের রহস্যের জট খুলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং সালমান শাহর ভক্তদের কাছে এ মামলার অগ্রগতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকার মৃত্যুর রহস্য আজও জনমনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

দীর্ঘ ৩০ বছর পর আলোচিত মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি

কবর থেকে তোলা হবে সালমান শাহর লাশ

প্রকাশ: ০৫:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

প্রায় তিন দশক আগে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনকে নাড়িয়ে দেওয়া জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। বহুল আলোচিত এ মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সম্প্রতি এক আদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত সম্পন্নের অনুমোদন দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের আগে কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব কার্যক্রম শেষ হলে মরদেহ উত্তোলনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, আধুনিক পদ্ধতিতে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসভবনে সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তবে মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। পরিবারের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। সেই অভিযোগের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়।

গত বছরের অক্টোবরে আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এরপর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সালমান শাহর মৃত্যুর সময় ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সন্দেহের জন্ম দেয়। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন তার শরীরে কিছু অস্বাভাবিক চিহ্ন দেখা গিয়েছিল, যা মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরদেহ উত্তোলন ও পুনরায় ফরেনসিক পরীক্ষা এই বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। দীর্ঘদিনের রহস্যের জট খুলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং সালমান শাহর ভক্তদের কাছে এ মামলার অগ্রগতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকার মৃত্যুর রহস্য আজও জনমনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।