আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সুরঞ্জন ঘোষ।
লিখিত বক্তব্যে সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন অভিমুখে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সমর্থকদের মিছিল এবং কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ঘটনায় তাঁরা গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার থাকলেও কোনো দেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার চেষ্টা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়।
১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি ভারতে বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা বন্ধুত্ব চান, অসম সম্পর্ক নয়; সহযোগিতা চান, আধিপত্য নয়। বন্ধুত্বের ঘোষণা বাস্তব আচরণেও প্রতিফলিত হতে হবে।
ভারতের সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুরঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, মণিপুরে চলমান জাতিগত সংঘাতে বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় স্থাপনা ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক।
একইভাবে দলিত, মুসলিম, খ্রিষ্টান ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এ সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের নাগরিক অধিকারকর্মী ওমর খালিদের দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও কারাবাস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রত্যেক অভিযুক্তের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা হতে পারে। তবে কোনো দেশের শ্রমিক আন্দোলন যেন অন্য দেশের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তাঁদের অবস্থান ভারতের জনগণ, হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিংবা অন্য কোনো জাতিগত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। তাঁদের প্রতিবাদ অন্যায়, আধিপত্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর অন্যায় হলে যেমন তাঁরা প্রতিবাদ করবেন, তেমনি ভারতের মুসলিম, খ্রিষ্টান, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকবেন।
এ সময় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, সহসভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী ও অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, সদস্য মেজর আব্দুর রওফ, অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ মজুমদার এবং দেবপ্রিয় ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক টার্গেট 























