আজ সোমবার দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের মাধ্যমে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেড, আরবান ফ্যাশনস লিমিটেড ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ঋণ এবং ইডিএফ সুবিধা নেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া আমদানি-রপ্তানির নথি তৈরি করে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
তিন প্রতিষ্ঠানের নামে আত্মসাতের অভিযোগে অর্থের পরিমাণ আলাদা করে যথাক্রমে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ ১ হাজার ১৭১ টাকা, ৪১৭ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬ টাকা এবং ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫২৭ টাকা। এর মধ্যে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের ঘটনায় ২২ জন, আরবান ফ্যাশনসের ঘটনায় ২২ জন এবং মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রথম মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের নামে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৫৮২ মার্কিন ডলারের কথিত বিল তৈরি করা হয়। এর বিপরীতে দেশে আসে মাত্র ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৯২ ডলার। বাকি ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ ডলার দেশে ফেরত না এনে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ দুদকের। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি।
দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনসের নামে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৭ ডলার বা প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকার পেমেন্ট নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে এই অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়। নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অর্থের অবস্থান ও প্রকৃতি পরিবর্তন করে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে মনে করছে দুদক।
অন্যদিকে, মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের নামে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৮ ডলার বা প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার পেমেন্ট নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে ফেরত না আসার কথা উল্লেখ করেছে কমিশন। ভুয়া আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে এ মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হচ্ছে।
জনতা ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার, ইসমাইল হোসেন, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শহিদুল হক, উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, মো. মমতাজুল ইসলাম ও মো. আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।
দুদকের অনুমোদন অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭এ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে।
সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্লেসমেন্ট শেয়ারের মাধ্যমে প্রতারণা, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রভাব খাঁটিয়ে ঋণ নেওয়া এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

দৈনিক টার্গেট 






















