চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি: গ্রেপ্তার ৭

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:০০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত হয়েছে

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত থেকে হাটহাজারী, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০) এবং নুরুল আলম (৪০)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’ বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার একজন ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর হাটহাজারী থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয়কে অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।

পুলিশ সুপার বলেন, বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পৃথক একটি চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং পরে সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করাই ছিল চক্রটির কৌশল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। মানিকের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির দুটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া অন্য চার আসামির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

২০২২ সালের ২১ মে মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ২৩ মে রাত ২টার দিকে হৃদয় মিয়া আকুয়া জুবলী কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় ঢুকে সাথী আক্তারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাথী আক্তারকে গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে চলে যায় হৃদয়।

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, নিহত করিমের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতিসহ নয়টি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূ ও দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দরিরামপুর ও বৈলর এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।

জনপ্রিয় টার্গেট

কেসিসির মশক নিধন: ওষুধে মরেনি ১৫ শতাংশ লার্ভাও, মান নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি: গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশ: ০৫:০০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত থেকে হাটহাজারী, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০) এবং নুরুল আলম (৪০)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’ বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার একজন ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর হাটহাজারী থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয়কে অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।

পুলিশ সুপার বলেন, বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পৃথক একটি চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং পরে সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করাই ছিল চক্রটির কৌশল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। মানিকের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির দুটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া অন্য চার আসামির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

২০২২ সালের ২১ মে মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ২৩ মে রাত ২টার দিকে হৃদয় মিয়া আকুয়া জুবলী কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় ঢুকে সাথী আক্তারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাথী আক্তারকে গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে চলে যায় হৃদয়।

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, নিহত করিমের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতিসহ নয়টি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূ ও দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দরিরামপুর ও বৈলর এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।