খুলনার কয়রা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের জেরে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) ভোরে সংঘটিত এ ঘটনায় এক বিদ্যুৎ কর্মচারী আহত হয়েছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে এক যুবক হঠাৎ করে কয়রা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে প্রবেশ করেন। অফিসে ঢুকেই তিনি উত্তেজিত আচরণ শুরু করেন এবং কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। এ সময় অফিসের কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এগিয়ে গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে অফিসের কর্মচারী ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা (২৫) আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রবিউল ইসলাম নামে অভিযুক্ত ওই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর বিদ্যুৎ অফিসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কয়রা উপজেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও রোগীরা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, আটক যুবক রবিউল ইসলামের আচরণ গত কয়েকদিন ধরে কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল। তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহা আলম বলেন, “ঘটনার পর একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে আটক ব্যক্তি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হতে পারেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে কয়রা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. মাহফুজুর রহমান খান বলেন, “লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ থাকতেই পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা বা ভাঙচুর সমর্থনযোগ্য নয়। ঘটনায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 























