সাজেকে অবরোধ: দুই সশস্ত্র সংগঠনের বলির পাঁঠা স্থানীয় বাসিন্দারা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত হয়েছে

• স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, পর্যটকদের উদ্ধারের পর নিরাপত্তা বাহিনীও নীরব

সাজেকে অবরোধ: দুই সশস্ত্র সংগঠনের বলির পাঁঠা স্থানীয় বাসিন্দারা

ফাইল ছবি

পাহাড়ের দুই সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান অবরোধের কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বিপাকে পড়েছেন পর্যটন

ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাজেক অবরোধ পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৬ অক্টোবর রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক, রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপারসহ দুই জেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সাজেকের উজোবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে অবরোধকারীরা ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল সাজেক থেকে জেএসএস সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। বাকি দাবিগুলোয় সম্মতি থাকলেও জেএসএস হটানোর বিষয়ে সরকারি প্রতিনিধিদল কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। ফলে বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির পর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছিল। পরে পার্বত্য চুক্তি বিরোধের জেরে ইউপিডিএফ গঠিত হলে শান্তি বাহিনী না থাকার সুযোগে এলাকাটির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউপিডিএফ। তারা এলাকাটি নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

সূত্রগুলো বলছে, গত এক-দেড় বছরে এলাকা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অর্থ কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ইউপিডিএফ থেকে একাধিক নেতা বহিষ্কৃত হন। তাঁরা প্রতিপক্ষ জেএসএসে যোগ দিলে সাজেকের ইউপিডিএফের সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো সামনে চলে আসে।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেএসএস সাজেকে ইউপিডিএফের প্রধান ঘাঁটি দখল করে নেয়। একে একে ইউপিডিএফের পরিচালিত ছাগল, শূকর, মৎস্য ও কৃষি খামারগুলোও জেএসএসের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একপর্যায়ে টিকতে না পেরে এলাকা ছেড়ে সরতে বাধ্য হন ইউপিডিএফ সদস্যরা।

হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে মরিয়া ইউপিডিএফ প্রথমে পর্যটকদের জিম্মি করার চেষ্টা চালায় এবং পরে স্থানীয়দের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অবরোধের ডাক দেয়। মূলত সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফেরানোর শুরুতেই সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট নমনীয়তা দেখায় এবং অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ছিল। তবে পরিস্থিতি বদলে যায়।

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২২ অক্টোবর পর্যটক উদ্ধারের পর থেকে অবরোধ নিয়ে আর কোনো মাথাব্যথা দেখাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অবরোধ এক বছর ধরে চললেও তারা আর এ নিয়ে মাথা ঘামাবে না বা কোনো আগ্রহ দেখাবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে সাজেকে কলা, মরিচ ও কমলার ভরা মৌসুম চলছে। টানা অবরোধের কারণে পচনশীল এসব পণ্য বাজারে নিতে না পেরে স্থানীয়দের ক্ষোভ এখন চরম পর্যায়ে।

এদিকে টানা ৮ দিন ধরে সাজেক ভ্যালির ৩৫ কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। সাজেকে পর্যটক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে মূলত স্থানীয় সাধারণ মানুষ। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকের অবরোধ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আগে যেভাবে ছিল, সেভাবই আছে। কারও সঙ্গে নতুন করে আলোচনা হয়নি।

সাজেকে চতুর্থ দিনের অবরোধ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৩ সদস্যের কমিটি

সাজেকে চতুর্থ দিনের অবরোধ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৩ সদস্যের কমিটি

রাঙামাটির সাজেকে টানা চতুর্থ দিনের মতো অবরোধ চলছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন কেন্দ্রও বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংকট নিরসনে বাঘাইছড়ির ইউএনওকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।

পাহাড়ে অস্থিরতায়, পর্যটন খাতে ধস

পাহাড়ে অস্থিরতায়, পর্যটন খাতে ধস

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা গ্রুপ অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে সাজেক ও পাশের জেলা খাগড়াছড়ির প্রায় দেড় শ

রাঙামাটিতে বর্ণিল আয়োজনে শুরু প্রবারণা পূর্ণিমা

রাঙামাটিতে বর্ণিল আয়োজনে শুরু প্রবারণা পূর্ণিমা

বর্ণিল ধর্মীয় আয়োজন ও পুণ্যার্থীদের সমাগমে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। আজ শুক্রবার সকালে রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী এলাকার তপোবন অরণ্য কুটিরে সমবেত হন হাজারো বৌদ্ধ নর-নারী। পুণ্যার্থীদের প্রার্থনা আর ‘সাধু, সাধু, সাধু’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে…

জনপ্রিয় টার্গেট

চট্টগ্রামের আনোয়ারা: উপকূলে বাঁধ দৃশ্যমান ঝড়ে ক্ষতির শঙ্কা দূর

সাজেকে অবরোধ: দুই সশস্ত্র সংগঠনের বলির পাঁঠা স্থানীয় বাসিন্দারা

প্রকাশ: ০৩:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

• স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, পর্যটকদের উদ্ধারের পর নিরাপত্তা বাহিনীও নীরব

সাজেকে অবরোধ: দুই সশস্ত্র সংগঠনের বলির পাঁঠা স্থানীয় বাসিন্দারা

ফাইল ছবি

পাহাড়ের দুই সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান অবরোধের কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বিপাকে পড়েছেন পর্যটন

ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাজেক অবরোধ পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৬ অক্টোবর রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক, রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপারসহ দুই জেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সাজেকের উজোবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে অবরোধকারীরা ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল সাজেক থেকে জেএসএস সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। বাকি দাবিগুলোয় সম্মতি থাকলেও জেএসএস হটানোর বিষয়ে সরকারি প্রতিনিধিদল কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। ফলে বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির পর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছিল। পরে পার্বত্য চুক্তি বিরোধের জেরে ইউপিডিএফ গঠিত হলে শান্তি বাহিনী না থাকার সুযোগে এলাকাটির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউপিডিএফ। তারা এলাকাটি নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

সূত্রগুলো বলছে, গত এক-দেড় বছরে এলাকা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অর্থ কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ইউপিডিএফ থেকে একাধিক নেতা বহিষ্কৃত হন। তাঁরা প্রতিপক্ষ জেএসএসে যোগ দিলে সাজেকের ইউপিডিএফের সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো সামনে চলে আসে।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেএসএস সাজেকে ইউপিডিএফের প্রধান ঘাঁটি দখল করে নেয়। একে একে ইউপিডিএফের পরিচালিত ছাগল, শূকর, মৎস্য ও কৃষি খামারগুলোও জেএসএসের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একপর্যায়ে টিকতে না পেরে এলাকা ছেড়ে সরতে বাধ্য হন ইউপিডিএফ সদস্যরা।

হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে মরিয়া ইউপিডিএফ প্রথমে পর্যটকদের জিম্মি করার চেষ্টা চালায় এবং পরে স্থানীয়দের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অবরোধের ডাক দেয়। মূলত সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফেরানোর শুরুতেই সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট নমনীয়তা দেখায় এবং অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ছিল। তবে পরিস্থিতি বদলে যায়।

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২২ অক্টোবর পর্যটক উদ্ধারের পর থেকে অবরোধ নিয়ে আর কোনো মাথাব্যথা দেখাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অবরোধ এক বছর ধরে চললেও তারা আর এ নিয়ে মাথা ঘামাবে না বা কোনো আগ্রহ দেখাবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে সাজেকে কলা, মরিচ ও কমলার ভরা মৌসুম চলছে। টানা অবরোধের কারণে পচনশীল এসব পণ্য বাজারে নিতে না পেরে স্থানীয়দের ক্ষোভ এখন চরম পর্যায়ে।

এদিকে টানা ৮ দিন ধরে সাজেক ভ্যালির ৩৫ কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। সাজেকে পর্যটক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে মূলত স্থানীয় সাধারণ মানুষ। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকের অবরোধ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আগে যেভাবে ছিল, সেভাবই আছে। কারও সঙ্গে নতুন করে আলোচনা হয়নি।

সাজেকে চতুর্থ দিনের অবরোধ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৩ সদস্যের কমিটি

সাজেকে চতুর্থ দিনের অবরোধ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৩ সদস্যের কমিটি

রাঙামাটির সাজেকে টানা চতুর্থ দিনের মতো অবরোধ চলছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন কেন্দ্রও বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংকট নিরসনে বাঘাইছড়ির ইউএনওকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।

পাহাড়ে অস্থিরতায়, পর্যটন খাতে ধস

পাহাড়ে অস্থিরতায়, পর্যটন খাতে ধস

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা গ্রুপ অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে সাজেক ও পাশের জেলা খাগড়াছড়ির প্রায় দেড় শ

রাঙামাটিতে বর্ণিল আয়োজনে শুরু প্রবারণা পূর্ণিমা

রাঙামাটিতে বর্ণিল আয়োজনে শুরু প্রবারণা পূর্ণিমা

বর্ণিল ধর্মীয় আয়োজন ও পুণ্যার্থীদের সমাগমে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। আজ শুক্রবার সকালে রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী এলাকার তপোবন অরণ্য কুটিরে সমবেত হন হাজারো বৌদ্ধ নর-নারী। পুণ্যার্থীদের প্রার্থনা আর ‘সাধু, সাধু, সাধু’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে…