গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন ওই গ্রামের মৃত গঞ্জোর আলী মৃধার ছেলে ইউনূস মৃধা, নুরু মৃধা ও ইব্রাহিম মৃধার পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত গঞ্জোর আলী মৃধার তিন ছেলে একই বাড়িতে পাশাপাশি তিনটি বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন। গতকাল দুপুরে ইব্রাহিম মৃধার রান্নাঘর থেকে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পান তাঁর ভাই ইউনূস মৃধা। বাতাসের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে তিন ভাইয়ের তিনটি বসতঘর পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ইউনূস মৃধা বলেন, ‘আমরা তিন ভই। আমি জীবিত আছি, বাকি দুই ভাই মারা গেছেন। আমি গোসল করতে বের হয়ে উঠানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ দেখি, ভাই ইব্রাহিম মৃধার ঘর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। দৌড়ে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করি, কিন্তু আগুনের তাপে ঢুকতে পারিনি। পরে চিৎকার করলে এলাকার লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আমাদের তিনটি ঘরই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। বেঁচে থাকার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দলনেতা মো. জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে তিনটি ঘরের নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা হতে পারে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা আজকের পত্রিকাকে বলেন, খবর পেয়ে আমি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

দৈনিক টার্গেট 

























