বিলকিসে স্বাবলম্বী আড়াই শ নারী

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

এই দৃশ্য শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের। ২৯ বছর বয়সী বিলকিস বেগমের সঙ্গে এই কারখানা দেখভাল করেন তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমানও (৩৬)। জানালেন, তাঁদের তৈরি পরচুলার টুপি ঢাকা হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

বিলকিস বেগমের এই যাত্রা খুব সুখকর ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। স্বামীর অল্প আয়ে যখন সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা, তখন তিনি বেছে নেন কাঁথা সেলাইয়ের কাজ। পরে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ইছমত আরার কাছ থেকে শেখেন পরচুলা তৈরির কাজ। ওই উদ্যোক্তার অধীনে তিনি ও তাঁর স্বামী মিজানুর রহমানও কাজ শুরু করেন। পরবর্তীকালে তাঁরা গড়ে তোলেন পরচুলা তৈরির কারখানা। ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান তাঁদের জমি-ভবন নির্মাণসহ সার্বিক আর্থিক সহযোগিতা করে। এই প্রতিষ্ঠানের দেখভালের দায়িত্বেও রয়েছেন বিলকিস বেগম।

বিলকিস বেগম জানান, ঢাকার গোল্ডেন হেয়ার ক্যাপ প্রতিষ্ঠানের মালিকের সহযোগিতায় নিজেই কারখানা চালু করেন। তখন মাত্র ১০-১২ জন নারী থাকলেও পরবর্তীকালে অনেক নারীকে সেই কাজ শেখান। বাড়ির কাছে কারখানায় এসব নারী কাজ করে মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। ভবিষ্যতে কারখানা আরও বড় আকারে করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহায়তা পেলে কাজটি আরও বড় আকারে করা সম্ভব হবে বলে আশা তাঁর।

বিলকিসের স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করেছি। পরবর্তীকালে পরচুলার কাজ শেখা শেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সেটি শুরু করি।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে মালিকপক্ষ পরচুলা তৈরির ক্যাপ, চুল, সুই, চক, পিনসহ সব কাঁচামাল পাঠিয়ে দেয়। আমাদের কারখানার একটি দোতলা ভবন ও একটি হাফ বিল্ডিং রয়েছে। কারখানায় স্থাপিত টুপি তৈরির টেবিলে বসে নারী শ্রমিকেরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাপ তৈরি করেন। একজন নারী শ্রমিক মাসে ১০ থেকে ১৫টা ক্যাপ তৈরি করতে পারেন। আকারভেদে একেকটি ক্যাপের জন্য ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে পান নারী শ্রমিকেরা’। এ ছাড়া হাজিরা বোনাস রয়েছে ১ হাজার টাকা।

গত বুধবার দুপুরে নলী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাঁদের কারখানায় কাজ করছেন নলী মধ্যপাড়া, পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া, রাজনগর, বটতলী, যাত্রাকোনা, বন্ধধরা, আমলাতলী, টিলাপাড়া, কালীবাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক নারী। পাশাপাশি অনেক নারীর কিশোরী কন্যারাও বিদ্যালয় ছুটি শেষে কারখানায় কাজ করছে।

রাজনগর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, ‘বিলকিস আপার কাছ থেকে এই পরচুলা তৈরির কাজ শিখে আমি এবং আমার মেয়েরা মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছি। মেয়েদের পড়াশোনাও ভালো চলছে।’

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, শেরপুর জেলা শাখার উপব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান ফকির বলেন, ‘শেরপুর সদরের পাকুড়িয়া, ঝগড়ারচর, নালিতাবাড়ীর নলী গ্রামসহ বেশ কয়েক জায়গায় পরচুলা তৈরির কারখানা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এসব উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া কারও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।’

চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সবচেয়ে বড় অংশ বয়সে তরুণ। ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীরা মোট ভর্তির ৪২ শতাংশ। মৃত্যুর হিসাবেও তরুণদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তরুণদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার জন্য প্রথাগতভাবে বাইরে বেশি থাকাসহ কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

চাঁদাবাজি বন্ধে বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার। এতে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি কোনো কারণে মামলা করতে না চাইলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের জন্য অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক দিন আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। চাইলেই এই সুযোগ নিতে পারেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর প্রতিনিধি ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা। এভাবে টিকিট ব্লক করার বিষয়টি ধরা পড়েছে রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থা নিয়ে করা…

জনপ্রিয় টার্গেট

বিলকিসে স্বাবলম্বী আড়াই শ নারী

প্রকাশ: ০১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

এই দৃশ্য শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের। ২৯ বছর বয়সী বিলকিস বেগমের সঙ্গে এই কারখানা দেখভাল করেন তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমানও (৩৬)। জানালেন, তাঁদের তৈরি পরচুলার টুপি ঢাকা হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

বিলকিস বেগমের এই যাত্রা খুব সুখকর ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। স্বামীর অল্প আয়ে যখন সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা, তখন তিনি বেছে নেন কাঁথা সেলাইয়ের কাজ। পরে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ইছমত আরার কাছ থেকে শেখেন পরচুলা তৈরির কাজ। ওই উদ্যোক্তার অধীনে তিনি ও তাঁর স্বামী মিজানুর রহমানও কাজ শুরু করেন। পরবর্তীকালে তাঁরা গড়ে তোলেন পরচুলা তৈরির কারখানা। ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান তাঁদের জমি-ভবন নির্মাণসহ সার্বিক আর্থিক সহযোগিতা করে। এই প্রতিষ্ঠানের দেখভালের দায়িত্বেও রয়েছেন বিলকিস বেগম।

বিলকিস বেগম জানান, ঢাকার গোল্ডেন হেয়ার ক্যাপ প্রতিষ্ঠানের মালিকের সহযোগিতায় নিজেই কারখানা চালু করেন। তখন মাত্র ১০-১২ জন নারী থাকলেও পরবর্তীকালে অনেক নারীকে সেই কাজ শেখান। বাড়ির কাছে কারখানায় এসব নারী কাজ করে মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। ভবিষ্যতে কারখানা আরও বড় আকারে করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহায়তা পেলে কাজটি আরও বড় আকারে করা সম্ভব হবে বলে আশা তাঁর।

বিলকিসের স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করেছি। পরবর্তীকালে পরচুলার কাজ শেখা শেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সেটি শুরু করি।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে মালিকপক্ষ পরচুলা তৈরির ক্যাপ, চুল, সুই, চক, পিনসহ সব কাঁচামাল পাঠিয়ে দেয়। আমাদের কারখানার একটি দোতলা ভবন ও একটি হাফ বিল্ডিং রয়েছে। কারখানায় স্থাপিত টুপি তৈরির টেবিলে বসে নারী শ্রমিকেরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাপ তৈরি করেন। একজন নারী শ্রমিক মাসে ১০ থেকে ১৫টা ক্যাপ তৈরি করতে পারেন। আকারভেদে একেকটি ক্যাপের জন্য ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে পান নারী শ্রমিকেরা’। এ ছাড়া হাজিরা বোনাস রয়েছে ১ হাজার টাকা।

গত বুধবার দুপুরে নলী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাঁদের কারখানায় কাজ করছেন নলী মধ্যপাড়া, পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া, রাজনগর, বটতলী, যাত্রাকোনা, বন্ধধরা, আমলাতলী, টিলাপাড়া, কালীবাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক নারী। পাশাপাশি অনেক নারীর কিশোরী কন্যারাও বিদ্যালয় ছুটি শেষে কারখানায় কাজ করছে।

রাজনগর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, ‘বিলকিস আপার কাছ থেকে এই পরচুলা তৈরির কাজ শিখে আমি এবং আমার মেয়েরা মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছি। মেয়েদের পড়াশোনাও ভালো চলছে।’

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, শেরপুর জেলা শাখার উপব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান ফকির বলেন, ‘শেরপুর সদরের পাকুড়িয়া, ঝগড়ারচর, নালিতাবাড়ীর নলী গ্রামসহ বেশ কয়েক জায়গায় পরচুলা তৈরির কারখানা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এসব উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া কারও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।’

চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সবচেয়ে বড় অংশ বয়সে তরুণ। ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীরা মোট ভর্তির ৪২ শতাংশ। মৃত্যুর হিসাবেও তরুণদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তরুণদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার জন্য প্রথাগতভাবে বাইরে বেশি থাকাসহ কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

চাঁদাবাজি বন্ধে বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার। এতে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি কোনো কারণে মামলা করতে না চাইলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের জন্য অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক দিন আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। চাইলেই এই সুযোগ নিতে পারেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর প্রতিনিধি ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা। এভাবে টিকিট ব্লক করার বিষয়টি ধরা পড়েছে রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থা নিয়ে করা…