বিজ্ঞাপনে ঢাকা পড়ছে শহর ঢাকার মুখ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:৫৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬২ বার পঠিত হয়েছে

বৈদ্যুতিক খুঁটি, মেট্রোরেল কিংবা ফ্লাইওভারের প্রশস্ত পিলার, নিরীহ গাছের শরীর এবং নানা ধরনের ভবন —যেখানেই সম্ভব হয়েছে সেখানেই সাঁটানো বা টাঙানো হয়েছে নানা ধরনের পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ইত্যাদি। দৃশ্যদূষণের মহোৎসব চলছে যেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলোর আশপাশের দেয়াল ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার-ব্যানার চোখে পড়ে সবচেয়ে বেশি। রামপুরা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত বড় রাস্তায় থাকা প্রায় প্রতিটি বিদ্যুতের খুঁটিতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টার ইউসিসির পোস্টার। কয়েকটি খুঁটিতে রয়েছে স্কলার্সের পোস্টার। শাহবাগে মেট্রোরেলের পিলারে একসঙ্গে লাগানো হয়েছে ফোকাস কোচিং সেন্টারের বড় বড় পোস্টার। অন্যদিকে ফার্মগেটে ফুটওভারব্রিজ-সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে দেখা গেছে উদ্ভাসের পোস্টার।

এ প্রতিবেদক ফার্মগেটে পিলারে লাগানো পোস্টারের ছবি তোলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল নোমান বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো যেন প্রতিযোগিতা করে নিজেদের পোস্টার লাগিয়েছে। বর্তমানে পত্রিকা, টিভি ছাড়াও অনলাইনে প্রচারের এত ভালো সুযোগ থাকায় এভাবে সৌন্দর্যহানি করে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার না লাগালেও পারত তারা।

দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানোর বিষয়ে আইন রয়েছে, তবে মানা হচ্ছে না। ‘দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও দেয়াললিখন বা পোস্টার লাগানোর সুযোগ নেই। আইনের ৬ ধারায় অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

এ ছাড়া গত বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, অনুমোদন ছাড়া সৌন্দর্য নষ্ট করে পোস্টার, ব্যানার ও দেয়াললিখন আইনত নিষিদ্ধ। দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ধারা ৩ ও ৪ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ঘোষণার পর বিভিন্ন সময়ে অভিযানও চালানো হয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই একই জায়গায় আবার পোস্টার লাগানোর ঘটনা ঘটছে। ফলে একদিকে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা পোস্টার অপসারণ করছেন, অন্যদিকে নতুন করে চলছে পোস্টার লাগানোর কাজ।

ফার্মগেট এলাকার ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, এই শহরের সবচেয়ে বেশি পোস্টার-ফেস্টুন হচ্ছে এই ফার্মগেটে। এখানে এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে এসব নেই। এতে এই এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা যেখানে অবৈধ পোস্টার-ফেস্টুন পাই, সরিয়ে ফেলি। তবে আজ সরালে কালই যদি লাগিয়ে ফেলে, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই।…আপাতত পোস্টারের জন্য জরিমানা করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে জরিমানা করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘আমাদের পোস্টার লাগানোর নির্ধারিত বিলবোর্ডের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। যেগুলো আছে, সেগুলোও ভাড়া দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, একটি শহরের কোথায় কী ধরনের পোস্টার বা ব্যানার থাকবে, তা সুনির্ধারিত থাকা দরকার। নির্ধারিত জায়গা না থাকায় যেখানে-সেখানে এসব লাগানো হচ্ছে। যত্রতত্র পোস্টার, ব্যানার লাগানোকে দৃশ্যদূষণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকায় যেখানে-সেখানে পোস্টার লাগানোর অনিয়ন্ত্রিত প্রবণতা এখন এক মারাত্মক নাগরিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি নগরের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে গ্রাস করছে এবং নগরবাসীর মধ্যে মানসিক অস্বস্তি ও বিরক্তি তৈরি করছে।

আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন মেগাসিটি গড়ার ক্ষেত্রে এই সংস্কৃতি বড় অন্তরায়। ঢাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় কঠোর তদারকি, ডিজিটাল প্রচারের ব্যবহার বৃদ্ধি, নাগরিক সচেতনতা এবং সর্বোপরি আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি।

আলম হাজারী আওয়ামী লীগ আমলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

বরিশাল নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডেফুলিয়ায় অনুমোদনবহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। দুই দিন ধরে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ডেফুলিয়া মৌজার ওই জমি খাস। সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চর চালা পলাশ মার্কেট এলাকায় মাদক কারবারির অভিযোগে একটি পরিবারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই মসজিদের মুসল্লি, ইমাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে মাদক কারবার বন্ধ করতে সতর্ক করেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপনে ঢাকা পড়ছে শহর ঢাকার মুখ

প্রকাশ: ০২:৫৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৈদ্যুতিক খুঁটি, মেট্রোরেল কিংবা ফ্লাইওভারের প্রশস্ত পিলার, নিরীহ গাছের শরীর এবং নানা ধরনের ভবন —যেখানেই সম্ভব হয়েছে সেখানেই সাঁটানো বা টাঙানো হয়েছে নানা ধরনের পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ইত্যাদি। দৃশ্যদূষণের মহোৎসব চলছে যেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলোর আশপাশের দেয়াল ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার-ব্যানার চোখে পড়ে সবচেয়ে বেশি। রামপুরা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত বড় রাস্তায় থাকা প্রায় প্রতিটি বিদ্যুতের খুঁটিতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টার ইউসিসির পোস্টার। কয়েকটি খুঁটিতে রয়েছে স্কলার্সের পোস্টার। শাহবাগে মেট্রোরেলের পিলারে একসঙ্গে লাগানো হয়েছে ফোকাস কোচিং সেন্টারের বড় বড় পোস্টার। অন্যদিকে ফার্মগেটে ফুটওভারব্রিজ-সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে দেখা গেছে উদ্ভাসের পোস্টার।

এ প্রতিবেদক ফার্মগেটে পিলারে লাগানো পোস্টারের ছবি তোলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল নোমান বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো যেন প্রতিযোগিতা করে নিজেদের পোস্টার লাগিয়েছে। বর্তমানে পত্রিকা, টিভি ছাড়াও অনলাইনে প্রচারের এত ভালো সুযোগ থাকায় এভাবে সৌন্দর্যহানি করে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার না লাগালেও পারত তারা।

দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানোর বিষয়ে আইন রয়েছে, তবে মানা হচ্ছে না। ‘দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও দেয়াললিখন বা পোস্টার লাগানোর সুযোগ নেই। আইনের ৬ ধারায় অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

এ ছাড়া গত বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, অনুমোদন ছাড়া সৌন্দর্য নষ্ট করে পোস্টার, ব্যানার ও দেয়াললিখন আইনত নিষিদ্ধ। দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ধারা ৩ ও ৪ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ঘোষণার পর বিভিন্ন সময়ে অভিযানও চালানো হয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই একই জায়গায় আবার পোস্টার লাগানোর ঘটনা ঘটছে। ফলে একদিকে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা পোস্টার অপসারণ করছেন, অন্যদিকে নতুন করে চলছে পোস্টার লাগানোর কাজ।

ফার্মগেট এলাকার ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, এই শহরের সবচেয়ে বেশি পোস্টার-ফেস্টুন হচ্ছে এই ফার্মগেটে। এখানে এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে এসব নেই। এতে এই এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা যেখানে অবৈধ পোস্টার-ফেস্টুন পাই, সরিয়ে ফেলি। তবে আজ সরালে কালই যদি লাগিয়ে ফেলে, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই।…আপাতত পোস্টারের জন্য জরিমানা করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে জরিমানা করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘আমাদের পোস্টার লাগানোর নির্ধারিত বিলবোর্ডের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। যেগুলো আছে, সেগুলোও ভাড়া দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, একটি শহরের কোথায় কী ধরনের পোস্টার বা ব্যানার থাকবে, তা সুনির্ধারিত থাকা দরকার। নির্ধারিত জায়গা না থাকায় যেখানে-সেখানে এসব লাগানো হচ্ছে। যত্রতত্র পোস্টার, ব্যানার লাগানোকে দৃশ্যদূষণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকায় যেখানে-সেখানে পোস্টার লাগানোর অনিয়ন্ত্রিত প্রবণতা এখন এক মারাত্মক নাগরিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি নগরের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে গ্রাস করছে এবং নগরবাসীর মধ্যে মানসিক অস্বস্তি ও বিরক্তি তৈরি করছে।

আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন মেগাসিটি গড়ার ক্ষেত্রে এই সংস্কৃতি বড় অন্তরায়। ঢাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় কঠোর তদারকি, ডিজিটাল প্রচারের ব্যবহার বৃদ্ধি, নাগরিক সচেতনতা এবং সর্বোপরি আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি।

আলম হাজারী আওয়ামী লীগ আমলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

বরিশাল নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডেফুলিয়ায় অনুমোদনবহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। দুই দিন ধরে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ডেফুলিয়া মৌজার ওই জমি খাস। সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চর চালা পলাশ মার্কেট এলাকায় মাদক কারবারির অভিযোগে একটি পরিবারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই মসজিদের মুসল্লি, ইমাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে মাদক কারবার বন্ধ করতে সতর্ক করেন।