‘ম্যাক্সিং’ শব্দটি এসেছে ‘ম্যাক্সিমাইজিং’ থেকে। কোনো কিছুর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা কিংবা জীবনের কোনো একটি দিককে যতটা সম্ভব উন্নত করার চেষ্টা বোঝাতে ইন্টারনেটে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন, ভালো ঘুমের জন্য ‘স্লিপম্যাক্সিং’, খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে ‘প্রোটিনম্যাক্সিং’ এবং শারীরিক সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে বলা হচ্ছে ‘লুকসম্যাক্সিং’। এমনকি ঘরে আরাম করে সময় কাটানোর মধ্যেও সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য খোঁজার প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘কোজিম্যাক্সিং’।
ডিকশনারি ডটকমের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ডিজিটাল মাধ্যমে ‘ম্যাক্সিং’ শব্দটির ব্যবহার ২০২৫ সালের মাসিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেড়েছে।
ডিকশনারি মিডিয়া গ্রুপের লেক্সিকোগ্রাফি বিভাগের পরিচালক স্টিভ জনসন বলেন, আধুনিক জীবনের একটি স্ববিরোধী প্রবণতাকে ধারণ করে শব্দটি। মানুষ প্রতিনিয়ত নিজেদের উন্নত করতে এবং সবকিছু থেকে আরও বেশি পাওয়ার চেষ্টা করছে, অথচ একই সঙ্গে তারা বুঝতে পারছে, এই প্রচেষ্টা কতটা ক্লান্তিকর কিংবা অযৌক্তিক হয়ে উঠতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সরঞ্জাম যতটা সম্ভব ব্যবহার করাকে বলা হচ্ছে ‘টোকেনম্যাক্সিং’। অন্যদিকে, খাদ্যতালিকায় আঁশের পরিমাণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা ‘ফাইবারম্যাক্সিং’ নামে পরিচিত। প্রেমের ক্ষেত্রেও রয়েছে ‘জেস্টারম্যাক্সিং’, যেখানে নারীদের হাসানোর জন্য কৌতুক করাকে আকর্ষণ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখা হয়।
তবে শব্দটির ইতিহাস পুরোপুরি নিরীহ নয়। ‘লুকসম্যাক্সিং’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনলাইন ইনসেল ও পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবসম্পন্ন বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে। এসব গোষ্ঠীতে পুরুষেরা নিজেদের শারীরিক আকর্ষণ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এর কিছু পদ্ধতি সাজসজ্জা, ব্যায়াম ও ত্বকের যত্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা গেছে। যেমন, ইনফ্লুয়েন্সার ব্র্যাডেন পিটার্স, যিনি ক্ল্যাভিকুলার নামে পরিচিত, মুখের হাড়ের গঠন পরিবর্তনের ভুল ধারণা থেকে হাতুড়ি দিয়ে মুখে আঘাত করার ‘বোন স্ম্যাশিং’ অনুশীলন অনলাইনে তুলে ধরেছেন।
তবে সব ‘ম্যাক্সিং’ যে জীবনকে আরও উৎপাদনশীল করার চেষ্টা, তা নয়। ‘নাথিংম্যাক্সিং’ বলতে কিছুই না করার মধ্যেও একধরনের তৃপ্তি খোঁজাকে বোঝানো হয়। আর ‘ননাম্যাক্সিং’ ইতালীয় দাদিদের ধীরগতির জীবনযাপন, রান্নাবান্না ও সামাজিক সম্পর্কের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার প্রবণতা।
বর্ষসেরা শব্দ নির্বাচনে ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’, ‘ডেটা সেন্টার’, ‘ওডিসি’ ও ‘আঙ্ক’-কেও পেছনে ফেলেছে ‘ম্যাক্সিং’। ২০২৫ সালের বিজয়ী শব্দ ছিল ‘৬৭ ’, যা তরুণদের ইন্টারনেট সংস্কৃতিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

দৈনিক টার্গেট 



























