থানা চত্বরে আহাজারি, এতিম নাতিদের টাকা দেওয়ার কথা বলে সোনার দুল নিল প্রতারকেরা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পঠিত হয়েছে

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে দুই নাতি-নাতনিকে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন সুফিয়া বেগম। চিকিৎসক দেখানোর পরই তিনি প্রতারণার শিকার হন। পরে কান্নাকাটি করতে করতে ছেলের স্ত্রী রমিশা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় যান। সেখানে থানার চত্বরে বসে আহাজারি করতে দেখা যায় তাঁকে।

সুফিয়া বেগম ঠাকুরগাঁও শহরের পুলিশ লাইনস এলাকার রাম বাবুর গোডাউন এলাকার বাসিন্দা। তিনি গৃহিণী। তাঁর স্বামী শরিফুল ইসলাম দিনমজুর।

সুফিয়া বেগমের ভাষ্য, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১০ ও ৩ বছর বয়সী নাতি-নাতনিকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে যান তিনি। টিকিট নিয়ে চিকিৎসক দেখানোর পর এক ব্যক্তি তাঁকে অটোরিকশায় তুলে শহরের মেরি স্টপ ক্লিনিক এলাকায় নিয়ে যান।

সেখানে ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, ‘এক চেয়ারম্যানের মা মারা গেছেন। গরিব-দুঃখীদের খাওয়াবেন, টাকা দেবেন। আপনার দুই নাতি কি এতিম?’

সুফিয়া বেগম বলেন, তিনি তখন ওই দুই শিশুকে এতিম বলে জানান। এরপর ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, দুই শিশুকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

এরপর অটোরিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে ওই ব্যক্তি ২ হাজার ৫০০ টাকা দেন। বাইরে এসে অটোরিকশাচালক সুফিয়া বেগমকে বলেন, ‘চাচি, আমাকে আড়াই হাজার টাকা দিছে। আপনিও যান।’

এরপর আগে থেকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ব্যক্তি সুফিয়া বেগমকে বলেন, ভেতরে গিয়ে টাকা নিতে হলে তাঁর কানের সোনার দুটি দুল খুলে যেতে হবে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি টানাহেঁচড়া করে তাঁর দুই কানের দুল খুলে নেন।

সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা চলে যায়। আমি কান্না করতে করতে বাসায় চলে আসি।’

পরে বিষয়টি ছেলের স্ত্রী রমিশা আক্তারকে জানান তিনি। এরপর রমিশাকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় যান সুফিয়া বেগম। সেখানে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলীর সঙ্গে দেখা করেন। ওসি ঘটনাটি শুনে দুল উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানান তাঁরা।

তবে থানার চত্বরে বসেও কান্না থামছিল না সুফিয়া বেগমের। বারবার নিজের কানের দিকে হাত দিয়ে কাঁদছিলেন তিনি।

রমিশা আক্তার বলেন, ‘আমার শাশুড়ির কিছুই নেই এই কানের দুলগুলো ছাড়া। উনি খুব সহজ-সরল মানুষ। হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কথা বলে তাঁকে নিয়ে গিয়ে দুলগুলো খুলে নিয়েছে। এখন আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না।’

রমিশা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার শ্বশুর দিনমজুর। শাশুড়ির কাছে ওই দুল দুটিই ছিল। প্রতারকেরা কথা বলে তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে। আমরা চাই, যারা এ কাজ করেছে, তাদের খুঁজে বের করে দুলগুলো উদ্ধার করা হোক।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, ‘এই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছি।’

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, নিহত করিমের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতিসহ নয়টি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূ ও দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দরিরামপুর ও বৈলর এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।

ফরিদপুরে ৯৬৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় নয়ন হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

থানা চত্বরে আহাজারি, এতিম নাতিদের টাকা দেওয়ার কথা বলে সোনার দুল নিল প্রতারকেরা

প্রকাশ: ০৪:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে দুই নাতি-নাতনিকে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন সুফিয়া বেগম। চিকিৎসক দেখানোর পরই তিনি প্রতারণার শিকার হন। পরে কান্নাকাটি করতে করতে ছেলের স্ত্রী রমিশা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় যান। সেখানে থানার চত্বরে বসে আহাজারি করতে দেখা যায় তাঁকে।

সুফিয়া বেগম ঠাকুরগাঁও শহরের পুলিশ লাইনস এলাকার রাম বাবুর গোডাউন এলাকার বাসিন্দা। তিনি গৃহিণী। তাঁর স্বামী শরিফুল ইসলাম দিনমজুর।

সুফিয়া বেগমের ভাষ্য, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১০ ও ৩ বছর বয়সী নাতি-নাতনিকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে যান তিনি। টিকিট নিয়ে চিকিৎসক দেখানোর পর এক ব্যক্তি তাঁকে অটোরিকশায় তুলে শহরের মেরি স্টপ ক্লিনিক এলাকায় নিয়ে যান।

সেখানে ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, ‘এক চেয়ারম্যানের মা মারা গেছেন। গরিব-দুঃখীদের খাওয়াবেন, টাকা দেবেন। আপনার দুই নাতি কি এতিম?’

সুফিয়া বেগম বলেন, তিনি তখন ওই দুই শিশুকে এতিম বলে জানান। এরপর ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, দুই শিশুকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

এরপর অটোরিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে ওই ব্যক্তি ২ হাজার ৫০০ টাকা দেন। বাইরে এসে অটোরিকশাচালক সুফিয়া বেগমকে বলেন, ‘চাচি, আমাকে আড়াই হাজার টাকা দিছে। আপনিও যান।’

এরপর আগে থেকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ব্যক্তি সুফিয়া বেগমকে বলেন, ভেতরে গিয়ে টাকা নিতে হলে তাঁর কানের সোনার দুটি দুল খুলে যেতে হবে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি টানাহেঁচড়া করে তাঁর দুই কানের দুল খুলে নেন।

সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা চলে যায়। আমি কান্না করতে করতে বাসায় চলে আসি।’

পরে বিষয়টি ছেলের স্ত্রী রমিশা আক্তারকে জানান তিনি। এরপর রমিশাকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় যান সুফিয়া বেগম। সেখানে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলীর সঙ্গে দেখা করেন। ওসি ঘটনাটি শুনে দুল উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানান তাঁরা।

তবে থানার চত্বরে বসেও কান্না থামছিল না সুফিয়া বেগমের। বারবার নিজের কানের দিকে হাত দিয়ে কাঁদছিলেন তিনি।

রমিশা আক্তার বলেন, ‘আমার শাশুড়ির কিছুই নেই এই কানের দুলগুলো ছাড়া। উনি খুব সহজ-সরল মানুষ। হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কথা বলে তাঁকে নিয়ে গিয়ে দুলগুলো খুলে নিয়েছে। এখন আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না।’

রমিশা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার শ্বশুর দিনমজুর। শাশুড়ির কাছে ওই দুল দুটিই ছিল। প্রতারকেরা কথা বলে তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে। আমরা চাই, যারা এ কাজ করেছে, তাদের খুঁজে বের করে দুলগুলো উদ্ধার করা হোক।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, ‘এই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছি।’

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, নিহত করিমের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতিসহ নয়টি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূ ও দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দরিরামপুর ও বৈলর এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।

ফরিদপুরে ৯৬৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় নয়ন হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।