ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে চরের শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে

তীব্র শীতে কুড়িগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৫২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৪৩ বার পঠিত হয়েছে

উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে শীতের প্রকোপ হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়ে জনজীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা আর শীতল বাতাসে চারদিক সাদা ধোঁয়ার মতো ঢেকে রয়েছে।

বিশেষ করে চরের দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষজন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ভোরে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়-যা চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত অন্যতম সর্বনিম্ন।

সকালের কুয়াশায় কাজকর্মে নেমেছে স্থবিরতা

ভোর নামলেই চারপাশে নেমে আসে ঘন কুয়াশার চাদর। সকাল থেকেই ঝিরঝিরে হিমেল বাতাসে হাত-পা শক্ত হয়ে আসে মানুষের। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে গেছে।

ঘোড়াগাড়িচালক জলিল মিয়া (৬০) নিজের দুর্ভোগের বর্ণনায় বলেন, “ঠান্ডা এত বেড়েছে যে গাড়ি চালানোই দুষ্কর। কুয়াশায় সামনে দেখা যায় না, হাত-পা জমে আসে। রোজকার কাজ ঠিকমতো করতে পারি না।”

কৃষিশ্রমিক আব্দুল কাদের (৫৫) জানান, “ধান কাটার মৌসুম চলছে। কিন্তু ভোরে এমন ঠান্ডা পড়ে যে বাইরে বের হওয়াই কষ্টকর। কাজ না করলে সংসার চলে না, তাই কষ্ট করে মাঠে যাই।”

শীতার্ত মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন

জেলায় শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় অসহায় মানুষের সহায়তায় প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান যে-

৯টি উপজেলায় মোট ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কম্বল ক্রয়ের কাজ চলছে এবং তালিকা অনুযায়ী দ্রুত শীতার্ত মানুষের হাতে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

আরও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, “আজ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নথিভুক্ত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে শীত আরও জোরদার হতে পারে।”

স্থানীয়দের মতে, এবার শীতের তীব্রতা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এবং সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে চরের শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে

তীব্র শীতে কুড়িগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ: ০৯:৫২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে শীতের প্রকোপ হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়ে জনজীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা আর শীতল বাতাসে চারদিক সাদা ধোঁয়ার মতো ঢেকে রয়েছে।

বিশেষ করে চরের দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষজন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ভোরে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়-যা চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত অন্যতম সর্বনিম্ন।

সকালের কুয়াশায় কাজকর্মে নেমেছে স্থবিরতা

ভোর নামলেই চারপাশে নেমে আসে ঘন কুয়াশার চাদর। সকাল থেকেই ঝিরঝিরে হিমেল বাতাসে হাত-পা শক্ত হয়ে আসে মানুষের। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে গেছে।

ঘোড়াগাড়িচালক জলিল মিয়া (৬০) নিজের দুর্ভোগের বর্ণনায় বলেন, “ঠান্ডা এত বেড়েছে যে গাড়ি চালানোই দুষ্কর। কুয়াশায় সামনে দেখা যায় না, হাত-পা জমে আসে। রোজকার কাজ ঠিকমতো করতে পারি না।”

কৃষিশ্রমিক আব্দুল কাদের (৫৫) জানান, “ধান কাটার মৌসুম চলছে। কিন্তু ভোরে এমন ঠান্ডা পড়ে যে বাইরে বের হওয়াই কষ্টকর। কাজ না করলে সংসার চলে না, তাই কষ্ট করে মাঠে যাই।”

শীতার্ত মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন

জেলায় শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় অসহায় মানুষের সহায়তায় প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান যে-

৯টি উপজেলায় মোট ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কম্বল ক্রয়ের কাজ চলছে এবং তালিকা অনুযায়ী দ্রুত শীতার্ত মানুষের হাতে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

আরও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, “আজ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নথিভুক্ত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে শীত আরও জোরদার হতে পারে।”

স্থানীয়দের মতে, এবার শীতের তীব্রতা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এবং সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।