রোববার ভোরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ভোরের দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে একটি ঘরের ভেতর থেকে কিশোর সাকিব হোসেন দর্জির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময় কাছাকাছি রেললাইনের পাশ থেকে তার বাবা সোহেল হোসেন দর্জির নিথর দেহ পাওয়া যায়।
নিহত সোহেল (৫৫) পেশায় দর্জি ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন। তার ছোট ছেলে সাকিব (১৭) কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বড় ছেলে সোহান (৩০), যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার রাতে বাবা ও দুই ছেলে একই ঘরে অবস্থান করছিলেন। তবে সকালে যে চিত্র সামনে আসে, তা স্বাভাবিক কোনো পারিবারিক ঘটনার সঙ্গে মেলানো কঠিন। সাকিবের শরীরে যে ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশ নিখুঁতভাবে কাটা ছিল, যা সাধারণ ঝগড়া বা তাৎক্ষণিক সহিংসতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, বাবা সোহেলের মরদেহ রেললাইনের পাশে পাওয়া যাওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে-এটি কি আত্মহত্যা, নাকি হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা? বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
পরিবারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। তবে এই পটভূমি কি এত ভয়াবহ ঘটনার দিকে গড়িয়েছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো ষড়যন্ত্র-তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনায় সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হলো, একই ঘরে থাকার পরও বড় ছেলে সোহানের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তার বক্তব্যেও অসঙ্গতি পাওয়ায় তদন্তকারীরা তার ভূমিকা গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করছেন। পাশাপাশি, অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। তদন্ত চলমান থাকায় এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে এই নির্মম ঘটনার পেছনের সত্য উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, এমন নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। স্থানীয়রা দ্রুত সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

দৈনিক টার্গেট 

























