গাজীপুরে নিখোঁজের ২৭ দিন পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার, দুলাভাইসহ গ্রেপ্তার ২

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৩ বার পঠিত হয়েছে

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

নিহত সৌরভের (২০) বাড়ি জামালপুরে। তিনি পশ্চিম জয়দেবপুরে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গ্রেপ্তাররা হলেন সাতক্ষীরা জেলার মো. রবিউল ইসলাম (২৬) ও শাহীন আলম (২৭)।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুর ও সাতক্ষীরায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শাহিনকে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, গ্রেপ্তার সৌরভের বোন নুপুরের সঙ্গে চার বছর আগে রবিউল ইসলামের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় রবিউল ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরেই তিনি শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ করে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট কৌশলে সৌরভকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয়। পরে ওই দিন রাতে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে সৌরভকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশে টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

এরপর গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরনের পোশাক উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড চারজন অংশ নিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এই চক্রকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি প্রশাসনের ওপরও হুমকি আসে।

ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্বামী নুরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩৬) কুপিয়ে হত্যার দায়ে মুন্নি বেগম ও প্রেমিক মাহাবুল মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে নুরুল ইসলামকে প্রেমিক মাহাবুবকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেন মুন্নি বেগম।

গাড়িচালক লেখেন, ‘আমি দুঃখিত স্যার। আমাকে ভুলে যাবেন। আপনার গাড়ি লে ডি অর কফিশপের পার্কিংয়ে রেখে গেছি। আমি আপনার প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওপরওয়ালা জানেন, আমি জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি। তবে আমাকে এটি করতে বাধ্য করা হয়েছে।’

জনপ্রিয় টার্গেট

সৌরবিদ্যুতের প্রসারে শুরু হচ্ছে ‘সোলার এক্সপো’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

গাজীপুরে নিখোঁজের ২৭ দিন পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার, দুলাভাইসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ০৯:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

নিহত সৌরভের (২০) বাড়ি জামালপুরে। তিনি পশ্চিম জয়দেবপুরে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গ্রেপ্তাররা হলেন সাতক্ষীরা জেলার মো. রবিউল ইসলাম (২৬) ও শাহীন আলম (২৭)।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুর ও সাতক্ষীরায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শাহিনকে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, গ্রেপ্তার সৌরভের বোন নুপুরের সঙ্গে চার বছর আগে রবিউল ইসলামের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় রবিউল ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরেই তিনি শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ করে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট কৌশলে সৌরভকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয়। পরে ওই দিন রাতে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে সৌরভকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশে টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

এরপর গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরনের পোশাক উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড চারজন অংশ নিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এই চক্রকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি প্রশাসনের ওপরও হুমকি আসে।

ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্বামী নুরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩৬) কুপিয়ে হত্যার দায়ে মুন্নি বেগম ও প্রেমিক মাহাবুল মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে নুরুল ইসলামকে প্রেমিক মাহাবুবকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেন মুন্নি বেগম।

গাড়িচালক লেখেন, ‘আমি দুঃখিত স্যার। আমাকে ভুলে যাবেন। আপনার গাড়ি লে ডি অর কফিশপের পার্কিংয়ে রেখে গেছি। আমি আপনার প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওপরওয়ালা জানেন, আমি জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি। তবে আমাকে এটি করতে বাধ্য করা হয়েছে।’